প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিষয়টির ফলে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দেন যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের মধ্যে সাময়িক ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি এবং সামাজিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গগুলোকে ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের সামনে কাটানো শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও ভাষাগত বিকাশে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্পিচ থেরাপিস্ট ড. ফাইজা জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল অটিজমের লক্ষণগুলো সাধারণ অটিজমের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো—
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: শিশুরা চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজেরা গুটিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে নিজেদের এক জগতে মগ্ন করে।
যোগাযোগ ও ভাষার সমস্যা: শিশুদের কথা বলায় জড়তা বা বিলম্ব দেখা দেয় এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা কমে যায়।
আচরণগত পরিবর্তন: শিশুরা খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে একগুঁয়েমি বা জেদি ভাব প্রকাশ পায়।
মনোযোগের অভাব: কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হন।
শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল জব্বার শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমকে একটি ‘উদ্বেগজনক সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ২ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অভিভাবকরা যেন অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। এই বয়সের শিশুরা স্ক্রিনে কী দেখছে, তা অবশ্যই তাদের বয়সোপযোগী এবং শিক্ষণীয় হতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি মূলত পরিবেশগত এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি-নির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
ভার্চুয়াল অটিজমের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
স্ক্রিন টাইম সীমিত করা: মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং ভার্চুয়াল গেমসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করতে হবে।
গুণগত সময় কাটানো: অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ভার্চুয়াল জগতের ওপরে ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো এবং সরাসরি কথা বলা।
মাঠের খেলাধুলায় উৎসাহ: মোবাইল গেমসের বিকল্প হিসেবে শিশুদের ঘরের বাইরের কার্যকলাপ এবং শারীরিক খেলাধুলায় অভ্যস্ত করতে হবে।
সূত্র: সামা টিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন