০৫:৪৯ পি.এম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার, গলায় জুতার মালা পরানোর এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এর মধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার ১২ বছর বয়সী ছোট বোনও। অভিযোগ রয়েছে যে, তাদের সাত বছর বয়সী ছোট ভাইকেও আটকে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় এই ঘটনার প্রতিকার ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার পর পুলিশ এসে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
আরও পড়ুন: পূজার ছুটি শেষে বাসায় ফিরে হতভম্ব সুখন, ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি
চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ফারুক ব্যাপারী নদীভাঙনের কবলে পড়ার ফলে প্রায় ১৮ বছর আগে সখিপুরে নতুন বসতি গড়েছিলেন। তিন মাস আগে পরিবার নিয়ে ছৈয়ালকান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকার শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, পাশের মুদি দোকানের মালিক মনির হোসেন মোল্যা প্রায়ই ফারুক ব্যাপারীর ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। মঙ্গলবার সকালে, ছোট ভাই-বোনকে নিয়ে দোকানে গেলে মনির তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তরুণী প্রতিবাদ করলে বিষয়টি বাবা-মাকে জানাবার কথা বললে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়।
এরপর তিন ভাই-বোনকে প্রথমে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যানটিনে এবং পরে ভাড়া বাসার একটি কক্ষে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তার পর মনির হোসেন এবং বাড়ির মালিক ফৌজিয়া সরদার ও তার স্বজন আফসানা বেগম ও নিশি আক্তার মিলে তরুণী ও তার ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তরুণীর গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: জামালপুরে ৯০ লাখ টাকার ভারতীয় থান কাপড় জব্দ
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। ওই রাতেই তরুণীর মা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরিবারের দাবি, পুলিশ মনিরকে আটক করলেও পরে মুক্ত করে দেন।
তবে দোকান মালিক মনির হোসেনের দাবি, তরুণী তার দোকানে চুরি করেছেন। সে কারণেই তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে দাবি করে। তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্তদের স্বজনদের হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। বর্তমানে তারা সখিপুর থানার থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে।
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ পরবর্তীতে মামলা গ্রহণ করেছে। তরুণীর মা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পরবর্তীতে রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশের হাতে দুজন আটক হয়েছে।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গার উন্নয়নে প্রায় ৫ কোটি টাকার বরাদ্দের কথা জানালেন এমপি ইলিয়াস মোল্লা
অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসাইন।
তিনি বলেন, চুরির অভিযোগ সত্য কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। তবে অভিযোগ প্রমাণের আগে একজন তরুণী ও তার পরিবারকে এভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও অপমান করায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন