প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়কালীন সময়ে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর গোপন সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের ঘটনা ধামাচাপা দিতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সাবেক এক প্রেমিকাকে উয়েফা থেকে চাকরি থেকে বিদায় দেওয়ার সময় ছয় অঙ্কের অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে ইনফান্তিনোর তাঁর এমবিএ কোর্সের খরচও বহন করা হয়।
ইনফান্তিনো ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ইনফান্তিনোর এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে ওই সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতেই অর্থ দেওয়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ওই নারীকে বিদায়ী ভাতা দেওয়ার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানায়, বিদায়ী অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর এমবিএ কোর্সের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়েছিল। তবে উয়েফার দাবি, এসব অর্থ তৎকালীন নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছিল এবং পরে এ ধরনের বিষয়ে তাদের নীতিমালা আরও কঠোর করা হয়েছে।
তবে ইনফান্তিনোর পিআর টিম অভিযোগগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিফার এক মুখপাত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর। এছাড়া তিনি দাবি করেন, উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি।
এর আগেও ইনফান্তিনো বিশ্বকাপ ফুটবলকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির গোপন পরিকল্পনা নিয়ে বেশ বিতর্কে পড়েছিলেন। বুধবার মরক্কোয় একটি জরুরি বৈঠকে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমর্থন পেয়ে এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি পদত্যাগ এড়ানোতে সফল হন।
এদিকে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ফিফার বিভিন্ন আয়োজন বয়কটের হুমকি দিয়েছে। অপরদিকে দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন এবং বিশ্বকাপ আয়োজন ও রানার্সআপ দেশ আর্জেন্টিনা ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে।
এখন গোপন সম্পর্ক ও অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার কারণে ফিফা সভাপতিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়তে শুরু করেছে। ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা তাঁর নেতৃত্বে প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন