ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
থানা ও আদালতের মালখানায় আলামতের জট

খোলা আকাশের নিচে জব্দকৃত হাজার হাজার যানবাহন ও সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে


খোলা আকাশের নিচে জব্দকৃত হাজার হাজার যানবাহন ও সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে

 

দেশজুড়ে বিভিন্ন থানা ও আদালতের মালখানাগুলোয় পহাড়সম জব্দকৃত আলামত ও সম্পত্তি পড়ে আছে। এর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখেরও বেশি।

বিচার শেষ না হওয়া, রায়ের অনুলিপি সময়মতো না পৌঁছানো, জায়গার তীব্র সংকট, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বছরের পর বছর ধরে জমে আছে লাখ লাখ আলামত।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে মেট্রো রেলের বিশেষ সূচি ঘোষণা

এরমধ্যে জায়গা না থাকায় হাজার হাজার জব্দকৃত গাড়ি, মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, নৌযানসহ বড় আকারের সম্পত্তি রাখা হচ্ছে থানা ভবনের সামনে, গেটের পাশে অথবা চলাচলের রাস্তায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে। ফলে দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে এসব সম্পত্তির বড় অংশই ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। বুধবার (৮ জুলাই) এক রিটের প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয় উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

পরে আদালত এ বিষয়ে নতুন করে আদেশ দিয়েছেন।

এদিন বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের বেঞ্চ বিভিন্ন থানা ও আদালতের মালখানার ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। সেই সঙ্গে কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমানে দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৭টি জব্দকৃত আলামত ও সম্পত্তি সংরক্ষিত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা জেলা প্রশাসক: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের শক্তি

এরমধ্যে ৩৫ হাজার ৫৮৮টি যানবাহন ও জলযান এবং ১৪ লাখের মতো অন্যান্য আলামত ও সম্পত্তি রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, থানায় ১ হাজার ৯৬৪টি এবং আদালতে ১ হাজার ৭৬৪টি যানবাহন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। যানবাহনের বাইরে অন্যান্য আলামতের অবস্থাও উদ্বেগজনক। থানায় ৬ হাজার ৮২০টি এবং আদালতে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৭০টি আলামত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মালখানায় সংরক্ষিত রয়েছে।

অর্ধেকের বেশি মালখানা সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, সারাদেশে থানার ৭৪০টি এবং আদালতের ২২৭টি মালখানার মধ্যে মাত্র ৩৭২টি মালখানা ব্যবহার উপযোগী ও পর্যাপ্ত জায়গাসম্পন্ন।

বাকি অধিকাংশ মালখানায় হয় জায়গার সংকট নয়তো ভবন অনুপযোগী। আবার অনেক মালখানা পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। থানার মালখানার বর্তমান জায়গা ২ লাখ ৬৬ হাজার বর্গফুট, অথচ প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট। আদালতের মালখানার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সারাদেশের কোর্ট মালাখানায় জায়গা আছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৫১ ফুট, অথচ প্রয়োজন ৫ লাখ ১৯ হাজার ৩৩২ ফুট।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের বক্তব্যে মানুষ হাসি-তামাশা করছে: রাশেদ খান

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বড় আকারের জব্দকৃত সম্পত্তি রাখার জন্য সরকারিভাবে কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। মোখিক অনুমোদনের ভিত্তিতে অনেক থানা ও আদালত খোলা জায়গা ব্যবহার করছে। এরমধ্যে মাত্র ৬টি থানায় শেডযুক্ত ডাম্পিং সুবিধা রয়েছে। আর যেসব থানার আশপাশে সরকারি বা কোনো সংস্থার উন্মুক্ত জায়গা নেই, সেসব থানা ভবনের সামনে-পিছনে, গেটে অথবা চলাচলের রাস্তায় কিংবা ফাঁকা জায়গায় নিরুপায় হয়ে বড় বড় আলামত বা সম্পত্তি রাখা হচ্ছে।

জব্দকৃত আলামতের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে জব্দকৃত মুলতবি যানবাহন ও জলযানের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৫৮৮টি। যার মধ্যে মামলার আলামত ৩০ হাজার ৬২০টি, ক্রোকি সম্পত্তি ৩৬৩টি এবং জিডিমূলে জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে দাবিদার আছে ১ হাজার ৩৭৪টির ও দাবিদারহীন সম্পত্তি আছে ৩ হাজার ২৩১টি। এছাড়া যানবাহন ও জলযান ব্যতীত সারাদেশে জব্দকৃত অন্যান্য মুলতবি সম্পত্তি ও আলামতের সংখ্যা ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৭টি। যার মধ্যে মামলার আলামত ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৮০৪টি, ক্রোকি সম্পত্তি ৯৭৬টি এবং জিডিমূলে জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে দাবিদার আছে ১ হাজার ৩৮৪টির ও দাবিদারহীন সম্পত্তি আছে ৩ হাজার ৯১৩টি।

রায়ের কপি না পৌঁছানোয় জট বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালত থেকে মামলা নিষ্পত্তির পর যেসব মামলায় আলামত রয়েছে, সেসব মামলার আলামত সংক্রান্ত নির্দেশনার আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট মালখানা অফিসারের নিকট না পৌঁছার কারণে আলামতগুলো দীর্ঘদিন মালখানায় সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে দিন দিন আলামত মালখানায় জমে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার কোর্ট মালখানায় সংরক্ষিত আলামত নিয়মিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে দিন দিন আলামতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে থানা থেকে তদন্ত নিষ্পত্তি মামলার আলামত আদালতে প্রেরণের বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে উল্লিখিত মামলার আলামত থানায় সংরক্ষণ করতে হয়।

আলামত রক্ষণাবেক্ষণে অসুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা ও কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত মালখানাগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনায় তৈরি না হওয়ায় এবং অধিকাংশ মালখানাই পুরাতন ও জরাজীর্ণ অথবা পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে হওয়ায় দীর্ঘ বিলম্বে বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়া মামলার বহু আলামতগুলো পর্যাপ্ত ভৌত কাঠামোর অভাবে একত্রে রাখা হচ্ছে। এতে মূল্যবান আলামতগুলো বিচার চলাকালীন সময়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। কিছু কিছু থানা ও কোর্ট প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও নতুন মালখানা তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকায় যুগোপযোগী মালখানা স্থাপন সম্ভব হয় না। আলামতগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিকের অভাবও রয়েছে। ফলে মূল্যবান আলামতগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি পবিত্র, সেখানে অপরাধ ঠিক নয়-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পরিস্থিতি উত্তরণে প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ব্যবহার অনুপযোগী ও স্থান সংকুলান হয় না এমন ১২২টি (থানা- ৭৩টি এবং কোর্ট- ৪৯টি) মালখানাকে ব্যবহার উপযোগী ও পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ব্যবহার উপযোগী কিন্তু স্থান সংকুলান হয় না এমন ৩৯৯টি (থানা- ৪১৪টি এবং কোর্ট- ৮৫টি) মালখানাতে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, স্থান সংকুলান হয় কিন্তু ব্যবহার ও উপযোগী নয় এমন ৭৪টি (থানা- ৫২টি এবং কোর্ট- ২২টি) মালখানাকে ব্যবহারের উপযোগী করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জব্দকৃত ৩৫ হাজার ৫৮৮টি (থানায়- ২৫ হাজার ৭২০টি এবং কোর্টে- ৯ হাজার ৮৬৮টি) যানবাহন ও জলযান এবং ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৭টি (থানায়- ৪৫ হাজার ৭৯৯টি এবং কোর্টে ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৮টি) যানবাহন ও জলযান ব্যতীত অন্যান্য মালামাল বা সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য থানা ও কোর্ট মালখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ বা পার্কিং জোন না থাকায় পুলিশ নিরুপায় হয়ে কোর্ট এরিয়া, থানার এরিয়া নিকটবর্তী স্থান এবং থানার আশপাশে সরকারি বা কোনো সংস্থার উন্মুক্ত জায়গায়, থানা ভবনের সামনে-পেছনে, গেটে কিংবা চলাচলের রাস্তায় অথবা ফাঁকা জায়গায় বড় বড় আলামত বা সম্পত্তি রাখছে। ফলে দীর্ঘদিন আলামত ও সম্পত্তি খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় তা অকেজো বা অচল হয়ে যাচ্ছে। জব্দকৃত যানবাহন ও জলযান সংরক্ষণের জন্য আলাদা জায়গা শেড, ছাউনি তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর দেশে ফিরলেন শুধু একজন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ পি.এম


বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর দেশে ফিরলেন শুধু একজন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পরে ব্রাজিল দলে পরিবর্তিত এক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার পর সেলেসাওদের বহনকারী বিমান দেশে ফিরলেও, ২৬ সদস্যের স্কোয়াড থেকে দেশে ফেরা মাত্র একজন ফুটবলারই হলেন দানিলো লুইজ।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লামেঙ্গোর ডিফেন্ডার দানিলো লুইজ একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চার্টার্ড বিমানে দেশে ফিরে আসেন। দলের অন্যান্য সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির গন্তব্যে চলে যান।

রিও ডি জেনিরোতে বিমান অবতরণের প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমানবন্দর ত্যাগ করলেন। দানিলোকে সাথে নিয়ে ছিলেন সিবিএফের নির্বাহী সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো এবং টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর হুয়ান। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় দানিলো গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি।

এদিকে, দলের ব্যর্থতার পরও সিবিএফ কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি আস্থা রেখেছে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বক্তব্য রেখে কায়েতানো জানান, কোচিং স্টাফের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন বিশ্বকাপ চক্রের পরিকল্পনা শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, 'আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ফলাফল অবশ্যই প্রত্যাশিত হয়নি, তবে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে আগামী সেপ্টেম্বরে ও অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচগুলোর প্রস্তুতি শুরু করব।'

শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়াকে হতাশাজনক বললেও কায়েতানো মন্তব্য করেন, 'আমরা অবশ্যই আরও অনেক দূর যাওয়ার আশা করেছিলাম। তবে পুরো গত এক বছর চার মাসের কাজকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছি। যদি তা না হতো, তাহলে আনচেলত্তিকে দায়িত্বে রাখা হতো না।'

বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিরতি শেষে ব্রাজিল আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে। সেই ম্যাচ থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রেক্ষিতে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানো মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানো মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন

রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে টানা ছয় বছর ধরে ট্রেনের যাত্রীদের তৃষ্ণা মেটাতে বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে আসা মানবিক মানুষ মুন্নু শেখকে সম্মাননা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন তাঁর কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তাঁর নিঃস্বার্থ মানবসেবার স্বীকৃতি হিসেবেই দেওয়া হলো এই সম্মাননা।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুন্নু শেখ প্রতিদিন নিজের চটপটির দোকান কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করান।

এই মানবিক কাজের পেছনে রয়েছে একটি বেদনাময় স্মৃতি। ২০১৮ সালে তাঁর নয় বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হতো। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে একসময় ছেলের জন্য একটি বোতল পানি কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। দুই বছর মারাত্মক লড়াই শেষে ২০২০ সালে মুন্নু শেখের ছেলে সবুজ মারা যায়। এরপর থেকে তিনি ছেলের স্মৃতিতে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানোর অঙ্গীকার করেন।

ইউএনও মো. মেজবাহ উদ্দিন মন্তব্য করেন, “মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও যদি তাঁর পাশে দাঁড়ান, তাহলে তিনি আরও ভালোভাবে এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।”

স্থানীয়দের মতে, মুন্নু শেখের এই উদ্যোগ কেবলমাত্র তৃষ্ণার্ত মানুষের পিপাসা মেটাচ্ছে না, বরং সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায়ে ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ পি.এম


গাইবান্ধায় এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায়ে ৬ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অসদুপায় গ্রহণ করায় ৬ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা নিশ্চয়তা দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) পরীক্ষা চলার সময় কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেন।

সূত্রে জানা যায়, ওই ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৪ জন, এবং তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের বহিষ্কৃত ২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন জেনারেল শাখার ও অপরজন বিএম শাখার পরীক্ষার্থী।

গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের প্রশ্নপত্রের উল্টোদিকে প্রশ্নের সমাধান ও বসার বেঞ্চে লেখা উত্তর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, তুলসীঘাট শামসুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শফিক আহম্মেদ সরকার জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রে বিএম ও জেনারেল শাখার একজন করে, মোট ২ শাখার ২ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং তাদের কাছে কাগজে লেখা নকল পাওয়া গেছে।

বিধান অনুসারে বহিষ্কৃতদের আগামী পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই।

উল্লেখ করা যাক, বুধবার সকালে ১০টায় শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১টা পর্যন্ত চলে। গাইবান্ধার ৫০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ হাজার ৬৩৯ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৬০।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহের কাজের সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী মো. মাহফুজুল হক (৪৩) নিহত হন।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে, ফিলাডেলফিয়ার কিংসেসিং এলাকায় ডোরড্যাশের খাবার ডেলিভারির কাজ করতে গিয়ে নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা মাহফুজুল হক দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে তাকে মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে তার চালু অবস্থায় থাকা গাড়ি, ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং রাইফেলের ব্যবহৃত দুটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মুখোশধারী তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মাহফুজুল হক আল-শাম উইলো গ্রোভ-এর একজন কর্মচারী ছিলেন এবং তিনি স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তানের পিতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%