০৯:২৫ এম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রামহরি এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হয়ে উঠছে। পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত চার দিনে ওই মৌজার তিনটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আরও ১৫ থেকে ২০টি বাড়ি সরানোর কাজ করেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) ভোররাত থেকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তার পানি সকালে দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিকেলে নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে শুরু করলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়।
রাজারহাট উপজেলার রামহরি এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের ফলে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সোমবার সংকেত অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় ছিল। পানিবৃদ্ধির ফলে নদীর চরাঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯.৩১ সেন্টিমিটার। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার রেকর্ড অনুযায়ী, ওই পয়েন্টে নদীর পানি ২৯.২৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে জেলার দুধকুমার নদীতে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এসব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি ও ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানির আরও বৃদ্ধি পেলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
রামহরি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক আকলিমা বেগম বলেন, এবার বাড়ির বাকি কোনাটুকুও নদীতে গেলে আর উপায় থাকবে না। একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ বলেন, আমরা সাতবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। এবার যদি বাকি অংশও নদীতে চলে যায়, তাহলে বাড়ি করার মতো আমাদের আর কোন জায়গা-জমি থাকবে না।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
ঐ এলাকার মিলন মিয়া জানিয়েছেন, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙন রোধে সরকারের শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। তাই তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় গত ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাস ছিল, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। এই পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ৩৬টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছি, যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেসব স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন