ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ, পূজার জন্য চার দিন বন্ধ


কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ, পূজার জন্য চার দিন বন্ধ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার হরণের প্রক্রিয়া ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐতিহাসিক কলকাতার ‘রেড রোড’-এ ঈদের নামাজকে নিরাপত্তা ও যানজটের অজুহাতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে দুর্গাপূজা এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মতো অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান সড়কটি দিনের পর দিন বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্গাপূজার মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন মেগা ইভেন্ট, সাজসজ্জা, ৩,০০০ ঢাকির প্রদর্শনী এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির জন্য লালবাজার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার থেকে ১১ই অক্টোবর ভোর পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা চার দিন ধরে রেড রোড সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানান, ৬ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে রেড রোডে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই নির্দেশিকা ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকবে। আবার ৯ তারিখ মাঝরাত থেকে ১০ অক্টোবর গভীর রাত অথবা ১১ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এই রাস্তা।

আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উৎসবের মরসুমে শহরের সার্বিক যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কেবল রেড রোড সংলগ্ন এলাকা নয়, প্রয়োজনমতো অন্যান্য সংযোগকারী রাস্তা থেকেও কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন অন্য পথে ঘুরিয়ে দিতে পারবে।

এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রেড রোড টানা সাত দিন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। তৎকালীন দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় হাজির হন। তিনি রেড রোডে তৈরি করা সুবিশাল মঞ্চে উপস্থিত থেকে হাজার হাজার মানুষের সামনে যোগব্যায়াম ও আসন প্রদর্শন করেন। সেসময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তৎকালীন গভর্নর তাঁর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

রাজভবন, কলকাতা হাইকোর্ট ও বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সংযোগকারী ব্যস্ততম এই সড়কটি দিনের পর দিন আটকে রেখে ক্ষমতাবানদের ক্ষমতার আস্ফালন প্রদর্শিত হলেও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির প্রতি হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি।

এক ঘণ্টার নামাজের অনুমতি নেই, পূজার আয়োজনে বন্ধ চার দিন

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান, ‘চলুন ফ্রান্সে বিপ্লবে যোগ দিই’

কলকাতার রেড রোডে ১৯১৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১০৭ বছর ধরে প্রতি বছর ঈদের দিনে নিয়মিত ১ ঘণ্টার ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি নিরাপত্তা ও যানজটের অজুহাতে এবার প্রথম সেখানে মুসলিমদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার বদলে তাদের ময়দানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাত্র এক ঘণ্টার ঈদের জামাতের অনুমতি না মেলা বনাম পূজার প্রস্তুতি ও যোগাসনের নামে দিনের পর দিন প্রধান সড়ক বন্ধ রাখার এই দ্বিচারিতায় পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সাধারণ মানুষ, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলীয় নেতারা প্রশ্ন তুলছেন—যেখানে সংখ্যালঘু মুসলিমদের শতাব্দীর পুরোনো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য মাত্র ১ ঘণ্টার অনুমতি মেলেনি, সেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে দিনের পর দিন পথ আটকে রাখা কি ধরনের ধর্মনিরপেক্ষতা?

অধিকারকর্মীদের মতে, এটি স্রেফ কোনো সাধারণ যান নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; বরং সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীভিত্তিক পক্ষপাতিত্ব কায়েম করার নগ্ন মহড়া।

আরও পড়ুন: কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, শোকার্ত টালিগঞ্জ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের মেয়েদের হার দিয়ে শুরু হলো ওয়ানডে সিরিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


বাংলাদেশের মেয়েদের হার দিয়ে শুরু হলো ওয়ানডে সিরিজ

বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য হার থেকে বের হওয়া সম্ভব হলো না। আজকের ম্যাচের আগে, প্রস্তুতি সহ মোট ৪ ম্যাচে তারা পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটের হারটি তাদের পরাজয়ের তালিকায় নতুন সংযোজন।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য হার দিয়ে শুরু হলো। বাংলাদেশ ১৬৭ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ বল হাতে রেখে জয়লাভ করে। বাংলাদেশের সাফল্য বলতে প্রতিপক্ষের ৩ উইকেট নেওয়া।

অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে আটকে রাখতে হলে বাংলাদেশের বোলিংয়ে দুর্দান্ত শুরু প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। দলীয় ৩০ রানে বাংলাদেশ প্রথম সাফল্য পায়। ওপেনিং সঙ্গী জর্জিয়া ভোল ১৯ রানে ফিরে গেলেও, ফোবি লিচফিল্ড ফিফটি করে ম্যাচ শেষ করে দেন।

লিচফিল্ড জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। তিনি ৭৭ রানে আউট হন, দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে। তার ইনিংসটি ছিল ১৩৫.০৮ স্ট্রাইকরেটের, যেখানে ১০টি চার ও ১টি ছক্কা ছিল। পরে দ্রুত বেথ মুনি (১৩) আউট হলেও, অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন এলিস পেরি ও আনাবেল সাদারল্যান্ড। পেরি ২৬ রান করেন, অপরদিকে সাদারল্যান্ড ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ১৭ বছর বয়সী হাবিবা ইসলাম পিংকি, যিনি আজ ওয়ানডেতে অভিষেক করেছেন।

ব্রিসবেনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ১৬৬ রানে অলআউট হয়। ধ্বংসস্তূপের শুরুটি ঘটে প্রথম বলেই। ফারজানা হক ‘ডাক’ মেরে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত রিতু মণি দলকে দেড়শোর্ধ্ব ইনিংস এনে দেন, তিনি সাত নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন।

অধিনায়ক জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন সাদারল্যান্ড, যিনি ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও লাভ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষক নিয়োগে সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


শিক্ষক নিয়োগে সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে যারা এই দায়িত্বকে আরও সুন্দরভাবে পালন করতে সক্ষম হবে, তাদেরকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার সাভারের নয়ারহাট এলাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ আয়োজিত ‘টেক্সটাইল ফেস্ট বাংলাদেশ’-এর দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্টভাবে জানান যে, এইবার শিক্ষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়োগের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রিন্সিপাল ছিল, যাতে যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে পারেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতানুগতিক স্বচ্ছ নিয়মগুলো অনুসরণ করা হয়েছে এবং বিশেষভাবে প্রার্থীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক কিছু জায়গায় হয়তো সাময়িক দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল বা কিছু ভুল-ত্রুটি থেকে থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই সেসব ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধন ও পূরণ করছে। আমরা আশাবাদী, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।’

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বর্তমানে শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ, মর্যাদা এবং পাঠদান মনিটরিং ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে। পুরো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, নিটারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, আয়োজন কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় সর্বত্র চায়না জাল বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


পাবনায় সর্বত্র চায়না জাল বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ

পাবনার জলাশয়, খাল, বিল, নদী, ও নদনদীতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারী জাল। এই জালের সূক্ষ্ম সুতা জলাশয় থেকে ছোট মাছ, ডিম, রেণু পোনা নির্বিচারে তুলে নিচ্ছে সুবিধাবাদীরা। শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, কাছিম, সাপ, ব্যাঙ, সহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ও কীটপতঙ্গও এই জালের ফাঁদ থেকে বাদ যাচ্ছে না। পাবনার পদ্মা, যমুনা, বড়াল, চলনবিল, গাজনার বিল, ডিকশির বিল, হাদল বিল, খাল, পুকুর, মুক্ত জলাশয়, পানিতে ডোবা খোলা জায়গায় ব্যাপকভাবে এই সর্বনাশা জালের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে।

সুবিধাবাদীদের মাছ শিকারের এই প্রবণতা দেশীয় মাছকে মাছে ভাতে বাঙালির পাত থেকে চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পাবনা সদরের দিয়া রাজাপুর এলাকার একটি মুক্ত জলাশয়ে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করছিলেন মোঃ মানিক। তিনি ইনকিলাবকে জানান, "এখানে পানি আছে, মাছ নেই। চায়না জালের কারণে আগের মত মাছ পাই না।"

স্থানীয় জেলেরা জানান, একসময় এখানে যে পরিমাণ কৈ, পাবদা, টেংরা, টাকি, বোয়াল, শিং, মাগুর, সহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, বর্তমানে তার অর্ধেকও নেই।

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার রহিমপুর গ্রামে নাম প্রকাশে অনচ্ছুক চায়না দুয়ারী জালে এক মাছ শিকারি ইনকিলাবকে জানান, "অন্য জালের চেয়ে এই জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ আটকায়।" তবে তিনি মনে করেন, চায়না জালে মাছ শিকারে সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরেজমিনে চলনবিল, ডিকশির বিল, খলিশাগাড়ি বিল, হাদল বিল ও গাজনার বিল ঘুরে দেখা যায়, পানির নিচে অসংখ্য চায়না জালের ফাঁদ পেতেছে সুবিধাবাদীরা।

চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর উপজেলার মো আনোয়ার ইনকিলাবকে জানান, "কয়েক বছর আগেও বিলে বড় সাইজের বোয়াল, শৈল, টাকি, গজার, পাবদা, ট্যাংরা, বাইম সহ নানা রকমের ছোট মাছ পাওয়া যেত। এখন বিলে আগের মতো মাছ নেই।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "বিলে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার ঠেকানো না গেলে কিছুদিন পর খাল বিলে আর মাছ পাওয়া যাবে না।"

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। শুধু কারখানাতেই নয়, সুবিধাবাদী মানুষ ঘরে বসেই এই ভয়ংকর জাল তৈরি করছে।

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল ইনকিলাবকে বলেন, "পাবনার খাল বিল জলাশয়ে চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার ব্যাকপভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সুযোগসন্ধানীরা ভবিষ্যতের কথা না ভেবে এই জালের ব্যবহার করছে।" তিনি জানান, "চায়না দুয়ারী জালের ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে।"

চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতার উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "জেলার আইনশৃঙ্খলার সভায় বিষয়টা উত্থাপন করা হবে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শুক্রবার জুমার সময় চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহারের মারাত্মক দিকগুলো তুলে ধরা নিয়ে আলোচনা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় ২৮ হাজার ইয়াবা ও ১৯ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


মাগুরায় ২৮ হাজার ইয়াবা ও ১৯ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার

মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা, চার বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির জন্য নগদ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা সহ মো. রাশেদ শেখ (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে একটি টাকা গণনার মেশিন, চারটি ল্যাপটপ, ‘প্রেস’ লেখা বুম মাইক্রোফোন এবং খেলনা পিস্তল সদৃশ একটি গ্যাস লাইটার।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে মাগুরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ায় স্বপ্নবিলাস ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া রাশেদ শেখ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মালিপাড়া এলাকার মো. মোস্তফা শেখ ও রোকেয়া বেগমের ছেলে। তিনি স্বপ্নবিলাস ভবনের চতুর্থ তলার ডি-৩ নম্বর ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

এসআরবি-৬-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একই ফ্ল্যাটের আরেক বাসিন্দা দ্বীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন (৩৫) পালিয়ে যান। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাপড়ি এলাকার মৃত দয়াল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। অভিযানে অংশগ্রহণকারী দলের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।

অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানানো হয়েছে।

এসআরবি-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. ইমামীম মুবীন সরকার সুমন জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%