মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অত্যাবশ্যকীয় ভাতার আওতা থেকে খামার ব্যবস্থাপনা শাখার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এসে অশালীন ভাষা, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সংশ্লিষ্ট কমিটি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন খামার ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান রেফি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাস্তি দাবি করে দুই দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন খামার ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক। প্রশাসনিক কাজে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তার অপারদর্শিতা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি। অত্যাবশ্যকীয় চাকরি হিসেবে চিহ্নিত খামার ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অত্যাবশ্যকীয় তালিকা থেকে বাতিল করায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ রেজিস্ট্রার বরাবর পালটা আবেদন করেছেন বলে জানান তিনি।
সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, খামার ব্যবস্থাপনা শাখার কয়েকজনের নাম অত্যাবশ্যকীয় সুবিধার তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে জানতে জিয়াউর রহমান রেফি প্রথমে ফোনে এবং পরে বিকেলে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি, কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। এ ধরনের আচরণের কারণে সংস্থাপন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তারা দুই দিনের (১ সেপ্টেম্বর ও ২ সেপ্টেম্বর) কর্মবিরতির সিদ্ধান্তের কথাও জানান অভিযোগপত্রে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডিশনাল রেজিস্ট্রার ড. মো. নাজমুল হক স্বপন বলেন, ঘটনার সময় রেজিস্ট্রার ঢাকায় থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলাম। বিকালের দিকে পাশের কক্ষ থেকে উচ্চস্বরে কথা বলার শব্দ শুনে সেখানে যাই। গিয়ে জিয়াউর রহমান রেফিকে সংস্থার শাখার কর্মকর্তা মঞ্জুর হোসেন লিটনের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও কটু ভাষায় কথা বলতে দেখি। পরে আমি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনি।
অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে কর্মকর্তা ও কর্মচারী রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ও অর্থ কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যে আদেশ আসে, রেজিস্ট্রার কার্যালয় তা বাস্তবায়ন করে। কোনো শাখায় জরুরি জনবলের প্রয়োজন হলে লিখিতভাবে জানানো যেতে পারে এবং প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কমিটি ও কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। এটার জন্য একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আরেকজন কর্মকর্তার অশালীন ভাষায় কথা বলা বা গালিগালাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শাখাপ্রধান যদি অন্য কর্মকর্তার সঙ্গে এরকম আচরণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতিকে নিয়ে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে খামার ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালক কৃষিবিদ মো. জিয়াউর রহমান রেফি বলেন, ২০১৬ সালে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে খামার ব্যবস্থাপনা শাখার দুইজন কর্মকর্তা ও তৃতীয় শ্রেণির ৫ জন কর্মচারীকে অত্যাবশ্যকীয় ভাতা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশ অনুযায়ী তারা এতদিন সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শাখার পরিচালককে কোনোরকম চিঠি না দিয়েই আজ হঠাৎ এ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরাতন আদেশ আজ থেকে আর কার্যকর হবে না এমন কোনোকিছু নতুন আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। যে কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের উচিত ছিলো সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি পাঠানো। তারা চিঠি পাঠালে সেটির প্রেক্ষিতে আমরা অফিসিয়াল চিঠি পাঠাতে পারতাম। আগের সিন্ডিকেট অনুমোদন কেন বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে তাকে কোনো চিঠি দেওয়ার হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খামার ব্যবস্থাপনা শাখায় অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রয়োজনীয় নিয়ে তিনি বলেন, এই শাখায় ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। ধান রোপণসহ বিভিন্ন মৌসুমে প্রতিদিন কাজ করতে হয়। অত্যাবশকীয় ভাতার সুবিধা থেকে শাখার কর্মীদের বাদ দিলে ছুটির দিনে কাজ পরিচালনা করা কঠিন হবে। কর্মচারীরা মাঠে কাজ থাকলেও ছুটির দিনে আর আসবেন না।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. হেলাল উদ্দীন বলেন, আগের সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেট অনুমোদিত ছিল এবং সংশ্লিষ্টরা এতদিন সেই সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। আগের আদেশ বাতিল বা আর বহাল থাকবে না এমন কিছু নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। আগের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হলে প্রতিবেদনে বা আদেশে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল।
সংস্থাপন শাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যও নন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দেখবেন। কোনো কর্মকর্তা যদি মনে করলে যে কোনো সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বা তার শাখা বঞ্চিত হচ্ছে, তাহলে রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে পারেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কর্মকর্তা কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার চাইতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বা স্ব স্ব কার্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো আচরণ করা যাবে না।
কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্তের বিষয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, বিষয়টির বিচার না হওয়া অবস্থায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা মতামত ছাড়া একতরফাভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মবিরতি বিধিবহির্ভূত হতে পারে এবং এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, এমপি। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফসহ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পূর্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর উদয়ন কনফারেন্স রুমে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বক্তব্যের শুরুতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, এমপি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, “আজ আপনাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পূর্বেও আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছি। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার একটি বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।”
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে গত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। এ বিষয়েও বর্তমানে অগ্রগতি হয়েছে এবং পরিবেশগত বিষয়ে ইতিবাচক পর্যালোচনা পাওয়া গেছে। তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাঠক্রমে এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। শাহজাদপুর তাঁতশিল্পের জন্য সুপরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ও ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা, ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কুড়িগ্রাম ইউনিটের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সাধারণ সভা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাটি পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং কুড়িগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম মন্ডল, সেক্রেটারি মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য মো. জহুরুল আলম, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব। কুড়িগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মানবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা সভায় মানবিক সেবায় রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝিনাইদহে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র্যালির পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), জামায়াত ও এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার দুপুরে দলের কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, পতিত আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে জামায়াত ও এনসিপি একত্রিত হয়ে চক্রান্তের রাজনীতি শুরু করেছে। তিনি বলেন, "আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ফেরার ঘোষণা এবং একই সময়ে জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের কর্মসূচি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি এক গভীর চক্রান্তের অংশ।"
১৯৯৬ সালের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, "সে সময় যেভাবে জামায়াত আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল, ঠিক একইভাবে আজও তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজপথে ফেরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।"
মক্কা সামরিক চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এনসিপিপ্রধান নাহিদ ইসলাম ও জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে এবং দেশের একটি বড় অংশও তা সমর্থন করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক কৌশল ও সার্বিক নিরাপত্তার দিকটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে তবেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।
ডাকসু নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর নিজের প্রাপ্য জিএস পদ ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারকে সম্মান জানিয়েছে।"
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে দলছুট ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ফেরানোর বিষয়ে রাশেদ খাঁন স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় নির্বাচনে যেসব নেতাকর্মী ভুল বুঝে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েছেন, তারা যদি অনুশোচনা প্রকাশ করেন, তাহলে দলীয় হাইকমান্ড তাদের বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। কিন্তু যারা সরাসরি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের দলে ফেরানোর ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এর আগে, জেলা বিএনপির অফিস প্রাঙ্গণ থেকে এক বিশাল র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব রনক, ইবি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ