মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি
০৪:৩৪ পি.এম
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশমুখে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা ট্রাফিক পুলিশ। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিং করা কয়েকটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় কিছু মোটরসাইকেল জরিমানা ও জব্দ করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতাল ভবনের প্রবেশমুখে যানবাহন পার্কিং না করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সেখানে ‘গাড়ি পার্কিং নিষেধ’ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে মোটরসাইকেল রাখার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তি নিয়ম না মেনে ভবনের প্রবেশমুখে যানবাহন রাখছেন।
এতে গুরুতর অসুস্থ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল, জরুরি রোগীর দ্রুত হাসপাতালে প্রবেশ ও বের হওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় প্রবেশপথে যানবাহন আটকে থাকায় যেকোনো জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিং বন্ধ করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত কর্মচারীদেরও অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণে রোগীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিশেষ উদ্যোগে জেলা ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে হাসপাতালের প্রবেশমুখে পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ অভিযান কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন মালিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে নয়। রোগীর চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জরুরি চলাচলের পথ সচল রাখতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ রোগী, স্বজন, দর্শনার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের হাসপাতালের নির্ধারিত স্থানে যানবাহন রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশমুখ, জরুরি চলাচলের পথ ও নিষিদ্ধ এলাকায় কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে হাসপাতালের প্রবেশমুখে অবৈধ পার্কিং বন্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতেও অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়, সুস্থ জীবন’ এই বার্তাকে সামনে রেখে ভোলার বোরহানউদ্দিনে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, হাত ধোয়া কর্মসূচি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে উত্তর পূর্ব ছোট মানিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বসুন্ধরা শুভসংঘ বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুর রহমান, ইভেন্ট সম্পাদক তাওহিদ ইসলাম তাহিন, প্রচার সম্পাদক শাহিন আহমেদ, কার্যকরী সদস্য ইসরাত জাহান তিষা, নুসরাত জাহান তিনা, ফারিয়া, তামজিদ, রিহাদ সহ অন্যান্য সদস্যরা।
কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
হাত ধোয়া কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হয়। খাবার গ্রহণের আগে ও পরে, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং বাইরে থেকে বিদ্যালয়ে ফেরার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, বরং পরিবার ও সমাজকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।
সেমিনারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাড়ি ও বিদ্যালয়ের আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শুধু বিদ্যালয়ে নয়, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এসব সচেতনতার বার্তা পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বসুন্ধরা শুভসংঘ বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুর রহমান জানান, বসুন্ধরা শুভসংঘ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্য, পরিবেশ, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও হাত ধোয়া কর্মসূচির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়, অন্যদিকে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়বে শিক্ষার্থীদের পরিবার ও পুরো সমাজে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ডা. আ ক ম জামাল উদ্দিন (৫৬) কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তদন্তের প্রেক্ষিতে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক মো. নুরুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হন। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, তদন্তে আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ, সংগঠনের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড সমর্থন, অপরাধের ষড়যন্ত্র ও প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে তার নেতৃত্ব দেওয়ার তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় ১৯ মে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
এর আগে একই আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ১১ মার্চ থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওয়াপাড়া বাজারে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ব্যস্ত চলাচল লক্ষ্য করা যায়। কেউ বাজার করতে আসছেন, কেউ কর্মস্থলে ছুটছেন। এই ব্যস্ততার মাঝে হাফেজ ইমাম আকবর আলী (৫৫) নীরবে মানুষের কাছে সহায়তা প্রার্থনা করেন। তিনি জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধুমাত্র এটুকু নয়—তিনি একজন ইমাম। প্রতিদিন মসজিদে দাঁড়িয়ে অন্যদের নামাজ পড়ান এবং ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন। তবে, নিজের সংসারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা এলাকার শালবাগানের বাসিন্দা আকবর আলী। তাঁর বাবা আজগর আলী মোল্লা। আকবর আলী চেঙ্গুটিয়া কাঁচা বাজার মসজিদে ইমামতি করেন। মসজিদ থেকে মাসে তাঁর সম্মানী মাত্র ২ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়েই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।
আকবর আলীর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছোট সংসার চালান। তবে সংসার ছোট হলেও প্রয়োজন তো থেমে থাকে না। প্রতিদিনের খাবার, ওষুধ, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ২ হাজার টাকা কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। ফলে মসজিদের দায়িত্ব পালন শেষে প্রয়োজনের তাগিদে তাঁকে নওয়াপাড়া বাজারে মানুষের কাছে সহায়তা চাইতে হয়।
এটি তাঁর কাছে আনন্দের বিষয় নয়। বরং প্রয়োজনের কাছে আত্মসমর্পণের মতো মনে হয়। কারও কাছে কিছু চাইতে তাঁরও নিশ্চয়ই কষ্ট হয়। কিন্তু পেটের দায়, সংসারের প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধ জীবনযাপন তাঁকে সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে আকবর আলীর আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। প্রতিদিন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ান তিনি। অন্যের জীবনে আলোর পথ দেখানোর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের জীবনের অভাবের অন্ধকার কাটাতে পারছেন না।
চেঙ্গুটিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম বলেন, “আকবর আলী দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করছেন। তাঁর অবস্থা খুবই কষ্টের। মাত্র ২ হাজার টাকা সম্মানী দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। প্রয়োজনের কারণেই তাঁকে মানুষের সহায়তা নিতে হয়।”
কলেজ শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, আকবর আলীর জীবন অনেকটা পরিচিত। তাঁকে কেউ করুণার চোখে দেখতে চান না। বরং তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটির জন্য এমন একটি ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁকে সংসারের খরচ জোগাতে মানুষের কাছে যেতে না হয়।
আকবর আলীর কষ্টের জায়গাটা এখানেই—তিনি কাজ করতে চান, দায়িত্ব পালন করতে চান, নিজের সম্মান নিয়েই স্ত্রীকে নিয়ে বাঁচতে চান। কিন্তু জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এবং সামান্য সম্মানীর কারণে তাঁর সেই পথটি কঠিন হয়ে উঠেছে।
তাঁর জীবনের এই গল্প তাই করুণার নয়, দায়িত্ববোধেরও। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে পাশে দাঁড়ালে হয়তো তাঁর জীবনের এই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমতে পারে। মানুষের কাছে সহায়তার জন্য হাত বাড়ানোর বদলে ইমাম আকবর আলী যেন নিজের দায়িত্ব পালন করেই স্ত্রীকে নিয়ে একটু স্বস্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারেন—এটাই হতে পারে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বড় সহমর্মিতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন হাওরের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কৃষক ও হাওরপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমে যাওয়ার কারণে নৌকা চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি আগামী কৃষি মৌসুমে ধানের চারা লাগানোর বিষয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাওরের পানি যদি এভাবে কমতে থাকে, তাহলে অনেক জমি দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কৃষকদের জন্য ধানের চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, যদি সময়মতো পানি না পাওয়া যায়, তাহলে জমিতে পানির সংকট সৃষ্টি হবে এবং ধানের চারা লাগাতে তাদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হবে। বিশেষ করে হাওরনির্ভর কৃষকদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, হাওরের পানি কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন নৌপথে নৌকা চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। হাওরের অগভীর অংশে নৌকা চলাচলে সমস্যা হওয়ায় কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
হাওরপাড়ের কৃষকরা বলছেন, কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করা না গেলে সঙ্কট আরও বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ