০২:১৬ পি.এম
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল শুরুর পূর্বে কারখানার সামনে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মাঝে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করলে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় ব্লু প্ল্যানেট গ্রুপের মালিকানাধীন কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য শিল্প পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের মতে, গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া শ্রমিক লিজা আক্তারের স্মরণে শনিবার সকালে কারখানার ভেতরে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড এবং পাশের বদর স্পিনিং মিলসের শ্রমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সকালে শ্রমিকরা যখন কারখানায় জড়ো হতে থাকে, তখন একসময় কারখানার সামনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের শ্রমিক রায়হান মাহমুদ বলেন, মিলাদে অংশ নিতে বদর স্পিনিং মিলসের শ্রমিকরা আসলে তাদের সঙ্গে কয়েকজনের একটি বহিরাগত দলও যোগ দেয়। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। এ ঘটনার পর সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন বলেও তিনি দাবি করেন।
একই কারখানার শ্রমিক মো. রনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সঙ্গে অপরিচিত লোকজন এসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান দাবি করছি। গতকাল ও আজ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রকৃত শ্রমিকরা করেনি।’
শ্রেণী দক্ষিণে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার সামনে সড়ক ও আশপাশে সহস্রাধিক শ্রমিক অবস্থান করছেন। কারখানার ভেতরেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ছিলেন। ভেতরে শিল্প পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও ফটকের বাইরে তখন পুলিশ সদস্যদের তেমন দেখা যাচ্ছিল না। বেলা ১১টার পর শ্রমিকরা ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করেন এবং সোয়া ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এ বিষয়ে জানার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘সকালে শ্রমিকরা কারখানায় আসার সময় কিছুটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে সরে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন