বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫২ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন সফরে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। এর ফলে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে এই সফর একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, 'বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময়েই চমৎকার ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে এই সম্পর্ক দিন দিন আরো শক্তিশালী হচ্ছে।'
মার্কিন বিশেষ দূতের সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ আরো বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করবে। আমরা আশাবাদী যে এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরো এগিয়ে যাবে।' তিনি জানালেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বহুমাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।
ঢাকা ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নিতে চায়। শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করছেন যে, গরের ঢাকা সফরে আলোচনা হবে নতুন কোনো ক্ষেত্র নিয়ে, যা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সফরকালে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।
সার্জিও গর বর্তমানে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ে বিশেষ দূত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সহকারী এবং প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত বুধবার ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সার্জিও গর উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একজন স্থানীয় নেতা তার দলীয় রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নূরনগর ইউনিয়নের হরিনাগাড়ী গ্রামে তিনি প্রকাশ্যে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে এই ঘোষণা দেন। এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
দলত্যাগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন হরিনাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার পিতা মো. মুনসুর সরদার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশিত ভিডিও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকে দলীয় রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতের রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা দেন।
এই সময় মো. দেলোয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একজন কর্মী হিসেবে আমি এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারিনি। তাই বিবেকের তাড়না থেকে জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘকাল ধরে জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরাও গভীরভাবে মর্মাহত। এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে যথাযথ বিচার করা উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেলোয়ার হোসেন আমাদের ওয়ার্ড কমিটির একজন কর্মী ছিলেন। তবে তিনি বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন কি-না, সেটি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। এ বিষয়ে আমরা আরও পর্যালোচনা করব।
গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভিডিও বিতর্কের পর থেকে সাতক্ষীরা জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নূরনগরের এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, মোংলায় সাম্প্রতিক গুমের ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর দেশে আবার গুমের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১০টায় বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের শফিউল্লাহ সড়কে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্প্রতি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের দাবি, কোস্টগার্ডের পরিচয়ে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতও মিরাজ শেখকে ১৫ দিনের মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিল। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তাঁর বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যে রাজনৈতিক দল অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা বলে, সেই দলই এখন গুম কমিশন গঠনের বিরোধিতা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশে এখনও আগের শাসনামলের প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। সরকার বদলালেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। জনগণ যে সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তা এখনো দৃশ্যমান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ মোংলার গুমের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু জানান, তাঁদের দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আইনের আওতায় আনা।
পদযাত্রা কর্মসূচিতে হাসনাত আবদুল্লাহ মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে দলের দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম সংগঠক মোল্যা রহমাতুল্লাহের নাম ঘোষণা করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব ফরিদুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, স্থানীয় নেতা মৃধা মাজেদুল ইসলাম, আবু হাসান, মো. জুবায়ের, জাহিদ হাসান, মো. সোহেলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পদযাত্রা শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা প্রতিরোধ করায় যাত্রীদের কাছে রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের কারণে শিক্ষার্থীরা আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেলপথ অবরোধ করেছেন। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, একই সময়ে প্রায় ২০ হাজার যাত্রীও দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুলাই রাতের সময় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক রেলকর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করেন। ফলে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে চলা ট্রেনগুলো এবং বিভিন্ন রুট থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনগুলো চলাচল ব্যাহত হয়।
রেলওয়ের দাবী, অবরোধের জন্য ১০টি আন্তঃনগর এবং ৯টি কমিউটার ট্রেন এক ঘণ্টা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। এছাড়া দুটি আন্তঃনগর ও চারটি কমিউটার ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনায় বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীরা, নারী-শিশু এবং বিদেশগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অবরোধের কারণে তাদের আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার জন্য যাত্রীদের কাছে বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের উদ্যোগে রাজধানীর বিজয় সরণি, জিয়া উদ্যান এবং আশপাশের এলাকাতে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। তারা উল্লেখ করেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।
কর্মসূচির এক পর্যায়ে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। যাতায়াতের পথে সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম কর্মসূচিটি দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে নামেন। পরে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নিজেও বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা আরও বেড়ে যায়। এ সময় তিনি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংרক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছাত্রদল নেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই ছিল এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করে জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদলের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ