বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫৪ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, মোংলায় সাম্প্রতিক গুমের ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর দেশে আবার গুমের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১০টায় বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের শফিউল্লাহ সড়কে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্প্রতি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের দাবি, কোস্টগার্ডের পরিচয়ে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতও মিরাজ শেখকে ১৫ দিনের মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিল। বর্তমান সরকারও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তাঁর বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যে রাজনৈতিক দল অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা বলে, সেই দলই এখন গুম কমিশন গঠনের বিরোধিতা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশে এখনও আগের শাসনামলের প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। সরকার বদলালেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। জনগণ যে সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তা এখনো দৃশ্যমান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ মোংলার গুমের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু জানান, তাঁদের দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আইনের আওতায় আনা।
পদযাত্রা কর্মসূচিতে হাসনাত আবদুল্লাহ মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে দলের দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম সংগঠক মোল্যা রহমাতুল্লাহের নাম ঘোষণা করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব ফরিদুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, স্থানীয় নেতা মৃধা মাজেদুল ইসলাম, আবু হাসান, মো. জুবায়ের, জাহিদ হাসান, মো. সোহেলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পদযাত্রা শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা প্রতিরোধ করায় যাত্রীদের কাছে রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের কারণে শিক্ষার্থীরা আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেলপথ অবরোধ করেছেন। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, একই সময়ে প্রায় ২০ হাজার যাত্রীও দুর্ভোগে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুলাই রাতের সময় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক রেলকর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করেন। ফলে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে চলা ট্রেনগুলো এবং বিভিন্ন রুট থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনগুলো চলাচল ব্যাহত হয়।
রেলওয়ের দাবী, অবরোধের জন্য ১০টি আন্তঃনগর এবং ৯টি কমিউটার ট্রেন এক ঘণ্টা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। এছাড়া দুটি আন্তঃনগর ও চারটি কমিউটার ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনায় বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীরা, নারী-শিশু এবং বিদেশগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অবরোধের কারণে তাদের আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার জন্য যাত্রীদের কাছে বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের উদ্যোগে রাজধানীর বিজয় সরণি, জিয়া উদ্যান এবং আশপাশের এলাকাতে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। তারা উল্লেখ করেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।
কর্মসূচির এক পর্যায়ে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। যাতায়াতের পথে সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম কর্মসূচিটি দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে নামেন। পরে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং নিজেও বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা আরও বেড়ে যায়। এ সময় তিনি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংרক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছাত্রদল নেতা কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই ছিল এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করে জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদলের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। বিষয়টি লিস ক্ল্যাভনেস, ফেডারেশনের সভাপতি, নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ফেডারেশনের বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে নৈতিকতার প্রশ্ন বিবেচনায় ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল।
তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই ফিফা হঠাৎ করে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে, ফলে তিনি মাঠে নামার সুযোগ পান। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরাসরি ফোন করার পরই বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। যদিও এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরও যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারেননি বালোগান। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিস ক্ল্যাভনেস বলেন, ফুটবলের মৌলিক নিয়ম এভাবে ভাঙলে পুরো খেলাটাই ঝুঁকির মুখে পড়ে। রাষ্ট্রপ্রধান বা বাইরের প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাবে যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা তার মতে একটি স্পষ্ট ভুল পদক্ষেপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যে মানুষটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন গড়ার কাজে ছিলেন নিবেদিত, তার বিদায়ের দিন ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে দিল সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছাতাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে বিদায় জানানোর জন্য ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে, করতালির মধ্যে এবং সুসজ্জিত একটি গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একটি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের স্বীকৃতি প্রকাশ করতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা এ সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিপিকা রানী পোদ্দার, সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদিনের সভাপতিত্বে। অম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দে সঞ্চালনায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাউছার আহমেদ ভূইয়া এবং সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতিহা বিনতে বশীর।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী মেম্বার, সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মজুমদার, মহিচাইল জোবেদা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল হোসেন, মহিচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম নজরুল ইসলাম, বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শীবানী চক্রবর্তী, দৈনিক কালবেলার চান্দিনা প্রতিনিধি আকিবুল ইসলাম হারেছ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার এবং সাবেক শিক্ষার্থী আবুল বাশার ও মাসুদ রানা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৮ জানুয়ারি ১৯৯৫ সালে মো. নুরুল ইসলাম শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩১ বছরের কর্মজীবনে তিনি শুধু পাঠদান করেননি বরং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে তিনতলা ভবন নির্মিত হয়েছে এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য অর্জনে তিনি নিরলস উৎসাহ প্রদান করেছেন। সততা, শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার জন্য তিনি এলাকার লোকজনের কাছে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মো. নুরুল ইসলামকে ক্রেস্ট, পোশাক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিদায়ের সময় তিনি দৃষ্টিতে আনেন কর্মজীবনের নানা স্মৃতি এবং উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় একটি আবেগঘন মুহূর্ত, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে করতালি ও ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো সম্মান জানান। এরপর তাঁকে সুসজ্জিত একটি গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ