ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়: শীর্ষ মার্কিন জেনারেল


ইরান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়: শীর্ষ মার্কিন জেনারেল

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ খুঁজছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও তীব্র করার জন্য যেসব সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছেন, সেগুলোর অনেকগুলিই উল্টো ফল দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করাও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

এ তথ্য সিএনএনের সূত্র থেকে জানা গেছে। একটি সূত্র সরাসরি বলেছে, “কেইন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন।” সূত্রগুলো জানিয়েছে, কেইন একা নন। যুদ্ধ কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি আরও বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে- এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেইন তাদের সঙ্গে সামরিক বিকল্পগুলোর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার সম্ভাব্য পথ নিয়েও কথা বলেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কেইন ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও একই ধরনের মত পোষণকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে সামরিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে সবাইকে একই অবস্থানে রাখা।

সূত্রগুলোর মতে, এসব আলোচনায় কেইন বিশেষ করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সামরিক বিকল্পগুলোর কিছু গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এমনকি এসব অভিযানে মার্কিন সেনাদের সরাসরি ইরানের মাটিতে পাঠানোর প্রয়োজন না থাকলেও তার নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে।

একটি সূত্র সিএনএন-কে বলেছে, “আমার মনে হয়, তিনি আসলে সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন।” তবে একই সঙ্গে কেইন ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন। ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর পক্ষে নন। তার ধারণা, ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে তেহরানকে তার শর্তে একটি চুক্তিতে যেতে বাধ্য করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

কিন্তু কেইনসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে অন্য কী ধরনের বিকল্প তৈরি করা যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে।

যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এসে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সংঘাতটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক মতবাদ, গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা- সব মিলিয়ে তাদের ধারণা, ইরানের ওপর কেবল বিমান হামলা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন।

জেনারেল কেইন গত মাসের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের একটি প্রকাশ্য শুনানিতেও বলেছিলেন, “বিমান শক্তির সীমাবদ্ধতা আছে।” এই বাস্তবতার কারণেই জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ও আগ্রাসী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কেইন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

একটি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য অভিযানের পক্ষে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কিছু অংশ ছিল। ইসরায়েলও সংঘাত আরও বাড়ানোর একটি অভিযানের ব্যাপারে মোটামুটি সমর্থন জানিয়েছিল। ট্রাম্প প্রথমে ওই ‘বড় ধরনের’ অভিযান অনুমোদনের দিকে এগোলেও পরে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলার পর পিছিয়ে আসেন। এসব দেশ ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিল, ইরান পাল্টা হামলা চালালে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তবে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ভবিষ্যতের জন্য ওই হামলার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করেননি। যুদ্ধ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়াও এক বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। সিএনএন-এর আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন সামরিক গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জেনারেল কেইন ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালায় এবং তেহরান পাল্টা হামলা করে, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে থাকা উচ্চক্ষমতার মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হামলা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু সূত্রগুলো বলছে, এমন হামলায় ইরান আত্মসমর্পণ করবে- এমন সম্ভাবনা কম। বরং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে।

এ ধরনের হামলা ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করার বদলে উল্টো আরও জাতীয়তাবাদী অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলেও কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন। ট্রাম্প ইরানের সেতুগুলোতেও হামলার কথা বিবেচনা করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে তাতেও বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য আসার সম্ভাবনা কম।

একটি সূত্রের ভাষায়, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলগুলো অনেকটা ‘হোয়াক-এ-মোল’ পরিস্থিতির মতো- একটি ধ্বংস করলে আরেকটি সামনে আসে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে অবশ্য এর প্রতীকী ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। সামরিক বিকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চান না জেনারেল কেইন। বরং প্রেসিডেন্টের আস্থা ধরে রাখতে এবং নিজের মতামত তার কাছে পৌঁছে দিতে তিনি অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছেন।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

কেইন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসে একটি অফিস পাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন, যাতে প্রেসিডেন্টকে নিয়মিত ব্রিফ করতে পারেন এবং হোয়াইট হাউসে থাকাকালে নিরাপদ জায়গা থেকে কাজ করতে পারেন। গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প ও তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকেও কেইন সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর সম্ভাব্য নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টিও ছিল।

তবে একই বৈঠকে তিনি প্রেসিডেন্টকে এটিও স্পষ্ট করেন যে, ট্রাম্প যদি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম। একটি সূত্র সিএনএন-কে জানায়, কেইনের বার্তা ছিল- অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হলে ‘আমরা তাদের ব্যাপকভাবে ধ্বংস করতে পারব।’ তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় কেইন আরও সরাসরি তার উদ্বেগের কথা বলেছেন। তার মতে, যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন।

কেইনের উদ্বেগ শুধুমাত্র ইরানের ওপর হামলার তাৎক্ষণিক ফল নিয়ে নয়। বরং এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের সম্ভাব্য পরিণতিও তাকে ভাবাচ্ছে। যুদ্ধ আরও বাড়লে ইরানের পাল্টা হামলা, উপসাগরীয় মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি, মার্কিন অস্ত্রের মজুত আরও কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ- সবকিছুই একসঙ্গে তৈরি হতে পারে।

এর পাশাপাশি, ইরানকে সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত করতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থলবাহিনী ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে বলেও কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ও বাইরের বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে এমন অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ প্রকাশ্যে এমন বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পক্ষে অবস্থান নেননি।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগেই কেইনসহ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতের ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে গেলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করেছিলেন। এখন মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের একটি অংশ মনে করছে, অস্ত্রের মজুত ‘বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে’।

এ নিয়ে ট্রাম্পও ক্রমশ হতাশ হচ্ছেন। কারণ তার ধারণা, অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান দেখানোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধ আরও বাড়ানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুটি বৈঠকে কেইন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে তৈরি হওয়া চাপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং যুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত ফল না আসার কারণে পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও তাদের সামরিক কৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে। সম্প্রতি সেন্টকমের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও শাস্তি দেওয়ার জন্য নতুন এবং প্রচলিত কৌশলের বাইরে সৃজনশীল উপায় খুঁজতে কর্মকর্তাদের কাছে একটি ই-মেইল পাঠান বলে আগের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল সিএনএন। নতুন ধারণা চাওয়া নিজে খারাপ কিছু নয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এভাবে নতুন কৌশল খোঁজার বিষয়টি পরিস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছে না- এমন একটি নীরব স্বীকারোক্তি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

একজন সূত্রের ভাষায়, “যুদ্ধ শুরুর আগে নয়, যুদ্ধের মাঝপথে এসে এসব বিকল্প খোঁজাই কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত।” জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান হিসেবে ইরানে হামলার সামরিক বিকল্প তৈরির দায়িত্ব জেনারেল কেইনের ওপর। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর আগেই পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে তিনি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। তখন তিনি সম্ভাব্য অভিযানের ব্যাপকতা, জটিলতা এবং মার্কিন সেনাদের সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তবে যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প একবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেইনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টার বিশ্বাস- ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘সহজেই জয় করা যাবে’। এখন যুদ্ধ ছয় মাসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর কেইনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি সূত্র, যিনি বর্তমান সংকট এবং ট্রাম্পের সঙ্গে কেইনের সম্পর্ক পরিচালনার বিষয়টি জানেন, বলেন, “এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের সক্ষমতার সীমার বাইরে চলে গেছেন।”

তবে কেইন যে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, তার অর্থ এই নয় যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধী। বরং তিনি মনে করছেন, সীমিত সামরিক অভিযান দিয়ে এমন ফল অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়, যা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব নয় এবং যার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এবং বাইরের অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানকে সামরিক দিক থেকে নির্ণায়কভাবে পরাজিত করতে হলে বড় ধরনের স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই পথে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনার প্রাণহানি এবং দীর্ঘমেয়াদি দখলদারির ঝুঁকি তৈরি হবে।

সুতরাং বর্তমানে মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে এমন একটি ‘অফ-র‌্যাম্প’ বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে বের করা, যা ট্রাম্পকে অন্তত একটি প্রতীকী বিজয় দাবি করার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে আমেরিকান জনগণের কাছে যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরতে পারবেন। একই সঙ্গে এমন কোনও সমঝোতার পথও খোলা রাখা যাবে, যা শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া- যে জলপথকে ঘিরেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধ আরও বড় করার বদলে এখন ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ এমন সমাধান খুঁজছে, যেখানে সামরিক শক্তির সক্ষমতা দেখানোর পাশাপাশি সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি রাজনৈতিক পথও তৈরি করা যায়। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মূল ম্যাচের আগে ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়াতে চান সিমন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


মূল ম্যাচের আগে ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়াতে চান সিমন্স

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ একটি প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে। টাইগাররা ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। যদিও দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা দেখা দিয়েছে, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এই হার নিয়ে পড়ে থাকতে চান না। বরং তিনি মূল লড়াইয়ের আগে হাতে থাকা সময় কাজে লাগিয়ে ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার দিকে মনোনিবesh দিয়েছেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল ব্যাটিং। দুই ইনিংসে ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণে দলটি বড় ব্যবধানে হারতে বাধ্য হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া কন্ডিশনে টেস্ট সিরিজের আগে এই ধরনের পারফরম্যান্স অবশ্যই চিন্তার কারণ। তবে সিমন্স মনে করেন, প্রস্তুতি ম্যাচের উদ্দেশ্যই হলো মূল লড়াইয়ের আগে নিজেদের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, 'হাতে থাকা তিন দিন আমাদের নিজেদের নিয়ে কাজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।' প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, দল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সিমন্স বলেন, 'আমরা নিজেদের নিয়ে কাজ করার জন্য আরও তিন দিন সময় পাচ্ছি, এই ব্যাপারটা ভালো। এখানে প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ব্যাটিংয়ে নিজেদের হতাশ করেছি। আমরা কীভাবে আউট হয়েছি, আপনারা দেখেছেন যা একদমই ভালো ছিল না।'

উল্লেখ্য, প্রস্তুতি ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে মূল ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেন সিমন্স। তাঁর মতে, এই কয়েক দিনে নিজেদের নিয়ে যথাযথভাবে কাজ করতে পারলে টেস্টে ভালো সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, 'আমাদের হাতে এখনও তিন দিন সময় আছে। এখানের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে মূল ম্যাচে সব ঠিকভাবে করার সুযোগ আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা নিজেদের নিয়ে কাজ করব এই তিন দিনে, যেন টেস্ট ম্যাচে নিজেদের জন্য ভালো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি।'

প্রস্তুতি ম্যাচের ফল হতাশাজনক হলেও সেটি পেছনে ফেলে সামনে তাকানোর বার্তাই দিয়েছেন সিমন্স। তাঁর লক্ষ্য এখন মূল সিরিজে দলের পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনা।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট সাউথ ম্যাকায়ে। প্রস্তুতি ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রধান লড়াইয়ে বাংলাদেশ কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নৃশংসতার নিন্দা জানাল পেজেকশিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নৃশংসতার নিন্দা জানাল পেজেকশিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা উত্তেজনার সময়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মন্তব্য করেন, সেই হামলার পেছনে যে মানসিকতা কাজ করেছিল, সেই একই মানসিকতার প্রতিফলন আজও বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বর্তমান হুমকিতে দেখা যাচ্ছে।

জাপানের ওই দুটি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে এক্সে দেওয়া পোস্টে পেজেশকিয়ান এ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই ভয়াবহতাকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের উচিত ওয়াশিংটনের সেই একই মানসিকতারও নিন্দা করা।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম বড় অপরাধ। এমন একটি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যারা সেই ভয়াবহতাকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের অবশ্যই ওয়াশিংটনের সেই একই মানসিকতার নিন্দা করতে হবে। তাদের এই মানসিকতা আজ বিভিন্ন জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছে। তিনি এও বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমাটি ফেলা হয়। এই হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটে। অনেক ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারান এবং অন্যরা পরবর্তী মাস ও বছরগুলোতে আঘাত ও তেজস্ক্রিয়তা-জনিত অসুস্থতায় মারা যান।

পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকি বোমা হামলার বার্ষিকী পালন করা হয়।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ব্যর্থ, দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরাল মোসাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য ব্যর্থ, দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরাল মোসাদ

ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর মোসাদের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২।

অপসারিত দুই কর্মকর্তা মোসাদের ইরান বিভাগ ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ছিলেন। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁরা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোসাদের পরিচালক রোমান গোফম্যান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংস্থার ভিতরে অসন্তোষ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এক সূত্রের বরাতে বলেছে, রোমান গোফম্যান আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব থাকাকালীন ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার অন্যতম সমর্থক ছিলেন। ওই সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার দায় থেকে নেতানিয়াহুকে দূরে রাখতেই দুই কর্মকর্তাকে অপসারিত করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, তৎকালীন মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইরানি সরকারের পতন ঘটানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ওই পরিকল্পনায় কুর্দি বাহিনীর স্থল অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নেতানিয়াহুর অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

গত ২ জুন মোসাদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন রোমান গোফম্যান। তাঁর নিয়োগ নিয়েও শুরু থেকেই বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল।

সূত্র: আন্দুলু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: রাজউক চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: রাজউক চেয়ারম্যান

ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি নিয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার মূল কারণ শুধুমাত্র ভবনের উচ্চতা নয়, বরং ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থা ও নির্মাণে অনিয়ম। তাই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা এবং প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারী।

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে অনেক সংখ্যক ভবন রয়েছে এবং এসব ভবনের ঝুঁকি একসঙ্গে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ধাপে ধাপে র‌্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট এবং ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বাড়াতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগে ঝুঁকি নিরূপণ ও সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় গবেষণাও করার কাজ হবে।

ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে শুধু রাজউককে দায়ী করলে হবে না। সিটি কর্পোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একটি কার্যকর সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবন নির্মাণে অনিয়ম প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০তলা করা কিংবা নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। নকশায় স্বাক্ষর করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতেও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অনিয়ম হলে তাদেরও আইনানুগ প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নিয়মের মধ্যে আসুন। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করুন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিন।

গণমাধ্যমকে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া অভিযোগ রাজউক যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী উপস্থিতিতে পরিণত করাই তার লক্ষ্য। এজন্য ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ও নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই কাজ একদিনে সম্ভব নয়। শুরু করেছি, কতটুকু করতে পারবো জানি না; তবে আমরা চেষ্টা করছি।

ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ভবন মালিক, প্রকৌশলী এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে নিজেদের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৌশলী ও তদারকি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডেভেলপারদের সহযোগিতা করতে হবে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের নকশা ও নির্মাণ নিশ্চিত করা গেলে টেকসই ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ সম্ভব।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না; ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল ও জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। দুর্বল মাটির ওপর ভবন নির্মাণ বন্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবনের নকশা ও নির্মাণ তদারকির পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোথাও কোথাও ছয়তলা অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের জন্য রাজউক চেয়ারম্যানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকার প্রায় ছয় লাখ ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। শুধু ভূমিকম্পের সময় সচেতনতা নয়, সারা বছর গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সংবাদ প্রচার করতে হবে।

মাইনুল হাসান সোহেল আরও বলেন, আগাম প্রস্তুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। এজন্য রাজউক, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একক সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়; সমন্বিতভাবে সব স্টেকহোল্ডারকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিসের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার আশপাশের ৪১ ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সালেহ উদ্দিন আরও বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ সরাসরি মারা যায় না, বরং ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়েই প্রাণহানি ঘটে। তাই ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি নিয়ে নানা তথ্য তুলে ধরছে। এসব তথ্যের আলোকে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের কী করণীয় এবং কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

শাহজাহান মোল্লা বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সরকার ও রাজউকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে এ ধরনের আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডুরার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিরাজ মাহবুব ইফতি এবং সিনিয়র সাংবাদিক রিপন তালুকদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%