০৩:৫১ পি.এম
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় কূটনীতি এবং সামরিক শক্তি পরস্পরের পূরক হিসেবে কাজ করছে। প্রয়োজনে দেশের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাতে কোনও ধরনের দ্বিধা করবে না বলেও তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।
এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরবিরোধী বার্তা প্রদান, অবস্থানের ঘনঘন পরিবর্তন, নতুন নতুন দাবি উত্থাপন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তার ভাষ্য হল, কার্যকর কূটনীতি পরিচালনার জন্য অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কূটনীতি কোনও শূন্যতার মধ্যে পরিচালিত হয় না। আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে ন্যূনতম অনুকূল পরিস্থিতি নিশ্চিত করা আবশ্যক। কিন্তু বিভিন্ন পক্ষের কর্মকাণ্ড সেই পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করছে।”
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে প্রতি তিনজনের একজন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত
বাঘাই আরও অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল লেবাননে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার মতে, “যেকোনও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বলপ্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
ইরানি মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় নয়; বরং উভয়ই দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে কাজ করে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, “কূটনীতি এবং যুদ্ধক্ষেত্র পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।”
একই সময়, তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও প্রয়োজনীয় সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তার দাবি, দেশের প্রতিরক্ষার প্রশ্নে ইরানি বাহিনী কখনও দ্বিধাগ্রস্ত হয় না।
বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেখানে প্রয়োজন হবে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দেবে।”
আরও পড়ুন: বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের বক্তব্য একদিকে চলমান কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বার্তাও প্রদান করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তেহরানের এই অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন