ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

অটোরিকশাচালক জুয়েল হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড


অটোরিকশাচালক জুয়েল হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালক জুয়েলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর তার যানটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজন আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, আসামিদের ছিনতাইয়ের অপরাধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আলী হোসেন, লুৎফর রহমান এবং হাসান। এছাড়া, ছিনতাই করা অটোরিকশা জেনেও কম দামে কেনার অপরাধে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দীপকে সন্দেহ, সঙ্গের তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বিচারক প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত নিহতের পরিবার ও এতিম সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় সাপেক্ষে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

রিয়াজুল ইসলাম আরও জানান, ছিনতাইয়ের দায়ে তিন আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত রিকশাচালক

 

আজ রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা আসামি আলী হোসেন, লুৎফর রহমান এবং হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় পড়া শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের আবারো কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাপ্রাপ্ত গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন জুয়েল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে আসামি আলী ও লুৎফর যাত্রীবেশে রুহিতপুর বাজার থেকে জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া নেন।

 

আরও পড়ুন: লাইভে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য

তারা জুয়েলকে ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা হাসান ও এনামুল নামের এক কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। চারজন মিলে জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার কাছে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

পরদিন ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে জুয়েলের মরদেহ উদ্ধার করা হলে তার বোন সাবিনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক মাহমুদ আলম চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র এবং কিশোর এনামুলের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ এ রায়ের দিন ধার্য ছিল।

 

আরও পড়ুন: সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়েক ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনের লক্ষ্য, বদলে যাচ্ছে আরজেএসসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


কয়েক ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনের লক্ষ্য, বদলে যাচ্ছে আরজেএসসি

কোম্পানি নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক নির্ভরতা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় ‘সিঙ্গাপুরের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবসা নিবন্ধন’ ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’(ইবিআরএস)।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় নতুন ব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে উদ্যোক্তারা কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত সব কার্যক্রম ঘরে বসেই সম্পন্ন করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য গ্রাহককে আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি অটোমেটেড করা হবে।’

নতুন ইবিআরএস ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা যে কোনো সময় অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-টিআইএন ও মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইমে প্রাক-যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

এর ফলে আবেদনে ভুল বা অসংগত তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে সভায় তুলে ধরা হয়।

কোম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সরকারের লক্ষ্য, প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই কোম্পানি নিবন্ধনের সময় কমিয়ে কয়েক ঘণ্টায় নামিয়ে আনা।

শতভাগ স্বয়ংক্রিয় নাম ছাড়পত্র বা ‘অটো নেম ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা আরও নির্ভুল করতে সিস্টেমের কিছু উন্নয়নের কাজ চলছে। পুরো অটোমেশন চালু না হওয়া পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে আরজেএসসি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ছয় মাস আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে নাম ছাড়পত্র পুনঃযাচাই করবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ও আরজেএসসির নিবন্ধক শিবির বিচিত্র বড়ুয়া সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপিতে ২ হাজার ১১৯টি মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপিতে ২ হাজার ১১৯টি মামলা

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১১৯টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে মোট ১১৫ টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে মোট ২০৯ টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে মোট ৪১৫টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে মোট ১৬৬টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে মোট ১৩৫টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে মোট ২৫৮টি মামলা হয়েছে, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪৮৭টি মামলা হয়েছে এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে মোট ৩৩৪টি মামলা হয়েছে। 

এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৪৯৯ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২১০ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রোববার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিন্ডিকেটে বেহাত হচ্ছে ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


সিন্ডিকেটে বেহাত হচ্ছে ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

লিজ, আদালতের আদেশ ও নথিপত্রের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ময়মনসিংহে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া মালিক ও ওয়ারিশ তৈরি এবং আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে একের পর এক মূল্যবান সরকারি জমি বেহাত করা হচ্ছে। এসব জমিতে গড়ে উঠছে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

তবে প্রশাসনের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ময়মনসিংহ নগরীর আমলাপাড়ার শেরপুকুর এলাকার প্রায় ২৫ শতক সরকারি জমি। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া মালিক সাজিয়ে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে একটি চক্র।

একইভাবে নগরীর বাউন্ডারি রোডের প্রায় ১০ শতাংশ সরকারি জমি লিজ নিয়ে পুরোনো স্থাপনা ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র গোলপুকুরপাড়ে প্রায় ২৫ শতক জায়গাজুড়ে শতবর্ষী জমিদারবাড়ি হিসেবে পরিচিত নাটোর লজের জমিতেও বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তি একসময় অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করে নিলামের নামে সরকারি এই সম্পত্তিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

এদিকে নগরীর সি কে ঘোষ রোডে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২৬ শতাংশ সরকারি জমিও দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি সম্পত্তি বেহাতের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে তথ্য গোপন করে নগরীর রেলি মোড় এলাকায় পাট অধিদপ্তরের প্রায় ৮৪ শতাংশ জমি আদালতের মাধ্যমে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দলিল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল একটি চক্রের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর ওই দলিল বাতিল করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি জমি হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই দুর্বল করে ফেলা হয় জমির নথিপত্র। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র গায়েব হয়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় নথি আদালতে যথাসময়ে উপস্থাপন না করার সুযোগ নেওয়া হয়। ফলে সরকারি পক্ষের আইনি লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে নামজারি ও মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলেন, ময়মনসিংহ নগরীর অনেক মূল্যবান জমি একসময় হিন্দু জমিদারদের মালিকানাধীন ছিল। এসব সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভুয়া ওয়ারিশ তৈরি ও নথি জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব জমির ওপর এখন বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেক কিছুই জানেন। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক মূল্যবান সম্পত্তি হাতছাড়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি আজহারুল হক বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে নথি সংরক্ষণ, আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাসময়ে উপস্থাপন এবং শক্তিশালী আইনি লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায় কোনো অংশে কম নয়। আদালত কাগজপত্র ও দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়। সংশ্লিষ্টরা যদি সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপনে গাফিলতি করেন, তাহলে সরকারি পক্ষের আইনি লড়াই দুর্বল হয়ে পড়ে।

ময়মনসিংহ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)'র সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, লিজ কিংবা আদালতের আদেশকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই একের পর এক সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীলদের আরও জবাবদিহির মধ্যে আনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, একের পর এক মূল্যবান সরকারি সম্পদ বেহাত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আদালতের রায়ের পর প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের পর আমাদের মতামত চাওয়া হয়। এর বেশি কিছু করার সুযোগ থাকে না।

সচেতন মহলের দাবি, ময়মনসিংহের শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সব খাস, অর্পিত ও সরকারি জমির পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তালিকা তৈরি, নথিপত্র সংরক্ষণ নিশ্চিত এবং বিতর্কিত সম্পত্তিগুলো পুনঃতদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি বেহাতের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ও দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুয়ার খুলছে সুন্দরবনের, প্রস্তুত জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


দুয়ার খুলছে সুন্দরবনের, প্রস্তুত জেলে-বনজীবী ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা

বাগেরহাট, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল মঙ্গলবার সুন্দরবনের সব নদ-নদীতে মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এটি মাছের প্রজনন মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই খবরে বাগেরহাট এবং মোংলার নদী-খালপাড়ের জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞার সময় অলস পড়ে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলো মেরামত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। নৌকার তলায় আলকাতরা দেওয়ার কাজ চলছে, আবার কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন মেরামত করছেন। সুন্দরবনে মাছ আহরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে তারা জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোছানোর কাজ করছেন।

চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা এবং বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। একই সময়ে করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়া অন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ ছিল। তিন মাস কর্মহীন থাকার পর এখন জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

বাগেরহাটসহ মোংলার বিভিন্ন নদী ও খালের পাড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলেরা সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পানিতে না নামানোর কারণে নৌকার বিভিন্ন অংশে মেরামতের প্রয়োজন হয়েছে। তাই নৌকা ঠিক করার পাশাপাশি জাল, দড়ি ও বরফ রাখার পাত্রসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন তারা।

জেলে মো. মতিন মোল্লা বলেন, "তিন মাস নদীতে মাছ ধরতে পারিনি। নৌকা পড়ে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় মেরামত করতে হয়েছে। এখন নৌকায় আলকাতরা দিচ্ছি, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ঠিক করছি। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে যেতে পারলে আবার মাছ ধরে সংসার চালাতে পারব।"

অন্যদিকে, জেলে মো. মাসুদ শেখ জানান, "নিষেধাজ্ঞার সময় নৌকা ও জাল মেরামত করে রেখেছি। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সুন্দরবন খুলে দেওয়ায় আমরা খুশি। নিয়ম মেনে পাস-পারমিট নিয়ে নদীতে যেতে চাই।"

সুন্দরবন খুলে যাওয়ায় বনজীবীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য তারা বনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, হারবাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর, নীলকমলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র।

সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত পর্যটক মো. জুলফিকার আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন বন্ধ ছিল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত। সুযোগ পেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবন ঘুরতে আসব।"

এদিকে, সুন্দরবন খুলে যাওয়ার আগেই নদীর পাড়ে জেলেদের নৌকা মেরামতের ব্যস্ততা যেন নতুন দিনের বার্তা দিচ্ছে। আগামীকাল থেকে নদীতে নামবে জেলেদের নৌকা, বনে ফিরবেন বনজীবীরা এবং সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসবেন পর্যটকরা। দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতার পর আবারও নদীপথ ও সুন্দরবনজুড়ে ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।

সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বাসসকে জানান, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে করমজল স্পটে প্রায় এক কিলোমিটার ফুটট্রেইল নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া একটি ঝুলন্ত ব্রিজ ও একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের সুন্দরবন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে করমজলে নির্মাণ করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার।

তিনি বলেন, "তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের ভিড় বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ দিতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বাসসকে জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে বনজ সম্পদ আহরণের জন্য পাস-পারমিট নিয়ে বনজীবীরাও বনে প্রবেশ করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদ-নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় করমজল পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশও বন্ধ রাখা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%