০৩:২২ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিরোধী দলের আসনে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই, একের পর এক বিতর্কে চাপের মুখে পড়েছে দলটি।
বিশেষ করে, দলের সংসদ সদস্যের (এমপি) ভিডিওকাণ্ড, সরকারি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি এবং জোট রাজনীতিতে ভাঙন- এই তিন ইস্যুর ত্রিমুখী চাপে জামায়াত এখন অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, দলটিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতদলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দলটি জোর বিরোধিতার মুখে পড়ে।
আরও পড়ুন: চোরাচালানের অভিযোগে দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি
বিষয়টি আদর্শিক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী উল্লেখ করে, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতের রাজনীতিতে এটাই প্রথম দলের কোনো নেতার বড় ধরনের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসা, যা নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এর আগে, সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগও দলটিকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এরপরই, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরে, দলীয় সব এমপির কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়। সেখানে সরকারি অনুদান, ত্রাণ বা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ), ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) কিংবা তাদের স্বজনদের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ বা বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে জোট রাজনীতি। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে নতুন কওমিভিত্তিক রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর ১১-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে খেলাফত মজলিস। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরও কয়েকটি দলের এই জোটে অবস্থান করা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে, সংসদের বাইরে রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন চাপের মুখে পড়েছে জামায়াত।
নেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে কওমি ঘরানার দলগুলোকে বের করে আনার পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। জামায়াতের নেতারা বলছেন, সরকারবিরোধী রাজনীতির পাশাপাশি, এখন দলকে সংসদ, জনপ্রতিনিধি, জোট ও জনআকাঙ্ক্ষা- চারটি ক্ষেত্রই একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, সরকারী প্রজ্ঞাপন জারি
আগে আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতি করলেও, রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে গিয়ে জামায়াত এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, ‘প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। অন্য দলের ক্ষেত্রে যেটি ছোট ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, আমাদের ক্ষেত্রে সেটিই বড় বিতর্ক হয়ে যায়। কিছু ঘটনায় আমরা বিব্রত হয়েছি, বিশেষ করে গাজী নজরুলের ঘটনাটি দলের জন্য সবচেয়ে বড় ইমেজ সংকট তৈরি করেছে।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্ক এড়াতে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন