ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন


বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন

ময়মনসিংহ, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : একটি গাছ কেবল মাটিতে শেকড় ছড়ায় না, বরং মানুষের ভবিষ্যৎ, জীববৈচিত্র্য এবং পৃথিবীর নিরাপদ অস্তিত্বের সঙ্গে শেকড় গড়ে তোলে।

এই উপলব্ধি থেকে ‘সবুজে বাঁচি, সবুজে গড়ি-আগামীর পৃথিবী হোক সবার’ এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার, বাকৃবি ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এই বিভাগীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বৃক্ষরোপণকে শুধুমাত্র একটি দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে।

গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তোলা। বৃক্ষরোপণের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে কতোটি চারা রোপণ করা হলো, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কতগুলো গাছ দীর্ঘকাল টিকে থাকে এবং পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এজন্য পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজন।

নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি মানুষের সম্পত্তি নয়, বরং মানুষ প্রকৃতির অংশ। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে নিজেদের জীবনকেও রক্ষা করা।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় অপরিহার্য। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশকে সবুজ করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সবুজ পৃথিবী নামে একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

এ সময় বাকৃবির সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমিন আক্তার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. জহিরুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিয়নের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রয়োজন কার্যকর আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


আইনমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রয়োজন কার্যকর আইন

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, ডিজিটাল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহায়ক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য একটি কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা ডায়ালগ : এন্ডিং ডিজিটাল এন্ড এআই ফ্যাসিলিটেড ভায়লেন্স এগেনেস্ট ওমেন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এই মন্তব্য করেন।

এ সময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যমান আইনগুলোর পর্যালোচনা করার পাশাপাশি নতুন আইন ও বিধান প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে সরকার গুরুত্ব দেবে।

তিনি জানান, সাইবার বুলিং, সাইবার হয়রানি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য দেশে বিভিন্ন আইন বিদ্যমান। তবে এআই-এর দ্রুত উন্নয়ন নতুন ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকায় এ ধরনের আইন প্রণয়নে ব্যাপক পরামর্শ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নারীর অধিকার এবং নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন এবং ডকুমেন্টেশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, জোরপূর্বক বিবাহসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে যেকোনো ইতিবাচক ও কার্যকর সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম-সহ অন্যান্য অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্যমন্ত্রীর তাগিদ, গড়ার জন্য প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি বিনিয়োগ টানতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


বাণিজ্যমন্ত্রীর তাগিদ, গড়ার জন্য প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি বিনিয়োগ টানতে

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এই উদ্যোগকে অপরিহার্য মনে করেন।

মন্ত্রী বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, সরবরাহ ব্যয় কমানো, কাস্টমস ব্যবস্থার অটোমেশন এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়াকে সহজ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তির কারণে একজন বিনিয়োগকারী এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ সহজেই যাচাই করতে সক্ষম। এর ফলে, বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশ, নীতি ও সক্ষমতার তুলনীয় মান তৈরি করা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, আরও প্রায় ১৩টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। এলডিসি উত্তরণের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে বাংলাদেশ। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বর্তমান বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিনিয়োগ পরিবেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বাংলাদেশের উচ্চ সরবরাহ ব্যয়ের কথা তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশে সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। পরিবহন, উৎপাদন এবং আমদানি-রফতানি ব্যয় কমিয়ে এই ব্যবধান কমানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

মন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এসব অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে নীতির ধারাবাহিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত, তাই কোনো নীতি প্রণয়নের পর অল্প সময়ের মধ্যে তা পরিবর্তন করা হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। নীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে তা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর করা উচিত, যাতে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।

সেমিনারে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বাংলাদেশ ও ভারত করে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এ খাতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের দুর্বলতা কাটিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিষয়টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য অবকাঠামো, নীতি, কাস্টমস ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক সংস্কার করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবি তিস্তাপাড়ের ১৫ অসহায় নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


বিজিবি তিস্তাপাড়ের ১৫ অসহায় নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে

লালমনিরহাট, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তিস্তাপাড়ের হতদরিদ্র বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দর্জি প্রশিক্ষণের পর বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের প্রশিক্ষিত ১৫ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর ভাঙন ও ভাঙনজনিত নানা সংকটের কারণে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের অনেক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় পুরুষের আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকেন। বিশেষ করে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সংসারে অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। অর্থের অভাবে এসব পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

শিশুশ্রম রোধ এবং অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্যে বিজিবি দর্জি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে। এই কার্যক্রমের আওতায় তিস্তাপাড়ের নির্বাচিত নারীদের প্রথমে দুই সপ্তাহের দর্জি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের হাতে একটি করে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের প্রশিক্ষিত ১৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন।

এ সময় তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম, সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাকসহ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত রুমী আক্তার বলেন, "দুই মাস আগে রাজমিস্ত্রি স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার প্রায় নিভে যেতে বসেছিল। সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে যায়। এমন সময় বিজিবি আমাকে দর্জি প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি সেলাই মেশিন দিয়েছে। আজ থেকে বেঁচে থাকার নতুন সংগ্রাম শুরু হলো। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে এবং সংসার সচল রাখতে এই সেলাই মেশিন আমার পাথেয় হয়ে থাকবে।"

এ জন্য তিনি বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের বলেন, "আমরা অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছি। আমাদের এই কাজ তখনই সফল হবে, যখন তারা সেলাই মেশিন ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।"

সুফলভোগী নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা যদি এই কাজকে পেশা হিসেবে নেন, তাহলে আমাদের উদ্যোগ সফল হবে। ভবিষ্যতে অসহায় মানুষের জন্য আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। তাই সেলাই মেশিনগুলো ফেলে না রেখে এগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবিকার পথ তৈরি করবেন।"

অনুষ্ঠানে বিজিবির কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও উপকারভোগী নারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় ৩১ জন দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন, ৪৮ জনকে সহায়তা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


মাগুরায় ৩১ জন দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন, ৪৮ জনকে সহায়তা প্রদান

মাগুরা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার অসহায়, দুস্থ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন জেলা শাখার উদ্যোগে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মাসুদ হাসান খান কিজিল।

বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি সালমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান জেলা বিএনপির সদস্য মো. কুতুবউদ্দীন, পাশাপাশি চাউলিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসিনা খাতুনও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩১ জন দুস্থ ও অসহায় নারীর মাঝে জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি করে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া, ৪৮ জনের প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে আয়োজকরা উল্লেখ করেন, এই সহায়তা সুবিধাবঞ্চিত জনগণের স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথকে সহজ করবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%