বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩০ পি.এম
সাভারে কিশোরকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গ্যারেজে লুটপাটের অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক দুটি মামলার প্রধান আসামি, বহিষ্কৃত থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির, যাকে দেশবাসী ফেন্সি সামির নামে জানেন, ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট জংশন রোড এলাকা থেকে এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম, এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া মাহাবুব হোসেন সামির, যার বাড়ি সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকায় মৃত মতিউর রহমানের ছেলে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিস্তর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ জুন সাভার মডেল থানায় এক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন লাবনী বেগম নামে একজন নারী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, যে মাহাবুব হোসেন সামির, তার খালাতো ভাই শীর্ষ মাদক কারবারি (বর্তমান কারাগারে) শামীম রেজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে মাদক কারবারির ভাইয়ের জামিনের টাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামিরের সশস্ত্র সহযোগীরা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটায়।
এঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে এ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে সাভার মডেল থানায় মাহাবুব হোসেন সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, ২ জুন রিপন ঋষি নামক এক কিশোরকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতন চালায় মাহাবুব হোসেন সামির ও তার সহযোগীরা।
ওই ঘটনায় সাবেক এক কিশোরের জন্য আরেকটি মামলা হলে ধারাবাহিক লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আলোচনায় এলে সদ্য গঠিত সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে মাহাবুব হোসেন সামিরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে তার সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তিনি 'জুলাইযোদ্ধা' হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন। তার আপন ভাই যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত হৃদয় হোসেন কিছুদিন আগেই প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের হেরোইনসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবং চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্ত আরো এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, প্রাণীর প্রতিও সহিংসতা রোধে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপশক্তি রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও সম্প্রীতি ও সহাবস্থানই বাংলাদেশের মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই সরকার একটি এমন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন প্রজন্মের জন্য যেমন জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনি মূল্যবোধের সংকটও তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া ও কবিতা নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলকে নিয়ে আলোচনা শুধু মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর সাহিত্য, জীবনদর্শন ও মানবিক চেতনাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস হিসেবে কাজ করেছে। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সে কারণেই তার জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, উদ্বোধনী আয়োজনটি আরও ভিন্নধর্মীভাবে করা গেলে ভালো হতো। তার মতে, জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতার কার্যকর ভারসাম্য সৃষ্টি করতে হবে।
একই সঙ্গে সরকারি এবং বিরোধী দল যেন একে অপরের প্রতিপক্ষ না হয়ে গণতন্ত্রের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই ধরনের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকায় ‘জুলাই যোদ্ধা শহীদ মো. মাজহারুল ইসলাম (মাসরুর)’ সড়কের উদ্বোধন শেষে এক সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এসব কথা বলেছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই সভার আয়োজন করেছে। হুইপ নিজান আরো বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পূর্বঘোষিত ২৭ দফার সঙ্গে আরও চারটি নতুন দফা যুক্ত করে একটি সর্বদলীয় রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দেশের তরুণ সমাজ, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামে গ্রামে রাষ্ট্র সংস্কারের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কোনোভাবেই দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূল এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ তরুণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তরুণদের সম্পৃক্ত করেই হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানিয়ে হুইপ নিজান বলেন, সরকার ভালো কাজ করলে তা সমর্থন করা হবে, আর ভুল বা অন্যায় করলে সেই সমালোচনাও আমরা সাদরে গ্রহণ করবো।
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার লোভ ও একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এর আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের স্পন্দন হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরাফাত হোসাইন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল খায়ের, কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মুছাকালিমুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তারা নদীভাঙন এলাকায় খাজনা আদায় পুনরায় চালু, তহশিল অফিসে খাজনার রশিদে অনিয়ম বন্ধ, নামজারিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মাদক ও চুরির ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানান।
এছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি, বাজারে নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং হাজিরহাটের জারিরদোনা খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের বিষয়গুলোও সভায় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বজ্রপাতে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া অসহায় ও দুস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও হুইলচেয়ার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি অনুদানের চাল ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল পাঁচটায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার আয়োজনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দার। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কাউখালী মহিলা কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও নারী নেত্রী কুমকুম ভট্টাচার্য, সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহানারা হাবিব, সাধারণ সম্পাদক সাহিদা হক, নারী নেত্রী মৌমিতা সাহা, সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ সিকদার এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ইলিয়াস শেখ, শামসুন্নাহার বেগম ও মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা এ ব্যাপারে বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি, যা কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে সুনন্দা সমাদ্দার বলেন, “বাল্যবিয়ে রোধে পরিবারকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে পরিবারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের বিষয়ে উৎসাহিত করা যাবে না। বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সবসময় নারী ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
সভায় উপস্থিত অভিভাবকরা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতন থাকার এবং নিজেদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সম্পর্কে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্থাটির কাছে নথিপত্র চেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে বিসিবির কাছে নথি চাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই তথ্য জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য মো. সাইদুজ্জামানকে দলনেতা করে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমার সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও পাপন ছিলেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি। দুদক জানাচ্ছে, পাপনের বিরুদ্ধে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারি অর্থের আত্মসাৎ, নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অর্জন এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত জামাতা ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বিসিবি থেকে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগ, দরপত্র, কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, বিল পরিশোধ, ব্যয় প্রাক্কলন, প্রকল্প অনুমোদন এবং ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পাপনের দায়িত্বকালে বিসিবির আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন, আইসিসি ও এসিসির অর্থ প্রাপ্তির তথ্য, বিপিএল আয়োজন, লজিস্টিকস ও প্রটোকল খরচ, বিদেশি কোচ নিয়োগ, 'ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব-১০০', এ. আর. রহমানের কনসার্ট, বঙ্গবন্ধু বিপিএল, অডিট ফার্ম নিয়োগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
সৌজন্যে: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ