মামুন বিল্লাহ কালিগঞ্জ(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
১০:৪৩ পি.এম
দু,দিন ব্যাপী জলসা তাবুতে স্কাউটসদের সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্যাম্প ফায়ারে মুখে রাখা পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানোর ফলে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে আনাস বিল্লাহ নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্র খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এ লোমর্ষক ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি, যার কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি জানার পর স্কুলের স্কাউটস শিক্ষক শাহীনুর রহমান এবং শরিফুল ইসলামের নিকট একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও তারা রিসিভ করেননি। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। গুরুতর আহত আনাস বিল্লাহ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের গাজী জাকিরুল ইসলামের পুত্র এবং সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
এমন একটি ঘটনা থানার ৫০ গজ দূরে এবং উপজেলা পরিষদের ২,শ গজ দূরে ঘটলেও বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানার প্রশাসনকে কিছু না জানানোয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন এবং থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলেও জানান। উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর বিষয়ে সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় অত্র বিদ্যালয়ের স্কাউটসদের দু'দিনব্যাপী বাৎসরিক তাবু জলসার সমাপনী দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ঐদিনের ক্যাম্প ফায়ারটি ভিডিও ধারণ করে আকর্ষণীয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উপস্থিত স্কাউটস শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সামনে আনাস বিল্লাহ মুখে পেট্রোল রেখে কাঠের স্তূপে আগুন দিতে গেলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পেট্রোলের আগুনের লেলিহান শিখায় আনাস বিল্লাহর মুখমন্ডল পুড়ে ঝলসে যায়। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে ঐ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা অপারগতা প্রকাশ করলে সাথে সাথে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে এবং তার পিতা ও পরিবারের সদস্যরা জানান যে সে আশঙ্কামুক্ত।
এ প্রসঙ্গে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি না জানানোর কথা স্বীকার করেন এবং বলেন, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসার সব খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। তবে দায়িত্বে অবহেলা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কোন সদুত্তর মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন বলেন, "প্রথমে আপনার মুখ দিয়ে জানলাম, এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি, আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা আটটি দল সরাসরি আগামী বছরের অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দাপুটে জয় পাওয়ার পর আফগানিস্তানের সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আফগানিস্তান এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়ার থেকে শুধু একটি জয় দূরে রয়েছে। শুক্রবার ব্রেডিতে আফগানিস্তান প্রায় নিখুঁত ম্যাচ খেলেছে। ইনিংসের শুরুতে ইব্রাহিম জাদরান অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ৮৪ রান করেছেন। ঠিক তেমনি, ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাশমতউল্লাহ শাহিদি 'ফিনিশার' হিসেবে ২১ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন।
এদিকে বোলিংয়ে মোহাম্মদ সেলিম গতি ও ধার দিয়ে আইরিশ ব্যাটারদের চাপে ফেলেছেন, যদিও ওই ম্যাচেই তিনিই ছিলেন আফগানদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলার। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আয়ারল্যান্ড দুবার সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও তা হাতছাড়া করেছে।
প্রথমে বোলিং করার সময় তারা শেষ ১১ ওভারে ৯৫ রান খরচ করে বসে। রান তাড়ার সময় ম্যাচটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ছিল, যখন আয়ারল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩৭ বলে ১৫৬ রান এবং হাতে ছিল সাতটি উইকেট। কিন্তু এরপর মাত্র ৬৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা ৯২ রানে হেরে যায় আইরিশরা।
তবে তাদের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে নবাগত কেড কারমাইকেলের ৬২ রানের ইনিংস অন্যতম, যা তাদের লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিল। অভিষেক হওয়া বেন ক্যালিৎজ সাত নম্বরে নেমে ১৫ বলে ২৭ রানের সংক্ষিপ্ত অথচ ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত হওয়ায় আয়ারল্যান্ড বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পথে নামতে বাধ্য হয়েছিল। এখন দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর তারা ২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আটবারের প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো জয়ের আশা করছে। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা বজায় রাখতে চাইছে তারা।
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বপ্নের অভিষেকের পর ওয়ানডে অভিষেকে আফগান ব্যাটারদের তোপের মুখে পড়েন জয় মুন্দ্রা। রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং সিদ্দিকুল্লাহ আতাল তার ওপর চড়াও হওয়ায় তার প্রথম স্পেলটি হয় ৫-০-৪৮-১। শেষ পর্যন্ত মুন্দ্রার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৯-০-৭৮-১। তৃতীয় ওয়ানডেতে তিনি সেই খরুচে শুরুর স্মৃতি পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্রিজে থিতু হতে সময় নিলেও, শেষ পর্যন্ত রহমত শাহ ৩০ রানে আউট হন। যেকোনো ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জয় দিয়ে অধিনায়কত্ব শুরু করেন তিনি। শাহীদিকে নিচের দিকের আক্রমণ থেকে নামিয়ে আনার কৌশলটি কার্যকরী হয় এবং তার পাঁচজন বোলারই ভালো পারফর্ম করেন। ভবিষ্যতে রহমতকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে, তবে বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক হিসেবে এমন ইতিবাচক শুরু তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
দ্রুত গতির বোলার হিসেবে অভিষিক্ত মুন্দ্রা এবং বাইরন ম্যাকডোনাফ প্রচুর রান খরচ করলেও, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিডল অর্ডার ধসে পড়লেও আয়ারল্যান্ড খুব বেশি চিন্তিত হতে পারে না এবং কোনও বড় পরিবর্তনের পথে না-ও হাঁটতে পারে। সোমবারের ম্যাচে তারা অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারে।
চার ওভার বল করার পর বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তবে পরে তিনি মিডল ওভারে বল করতে ফিরে আসেন এবং তাকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য সহকারে দেখা যায়। তাই আফগানিস্তান তাদের জয়ী একাদশটিকে অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
পিচ ও আবহাওয়া: আউটফিল্ড ভেজা থাকায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হতে দেড় ঘণ্টা দেরি হয় এবং ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৪৭ ওভার করা হয়। সোমবার ব্রেডিতে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে; তবে সকাল ও বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। মাঠের সীমানার অসম দৈর্ঘ্যের কারণে ব্যাটারদের জন্য এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় থাকলেও, শুক্রবার এখানে দ্রুত গতিতে রান উঠেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের পর এই মাঠে এটিই ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে ম্যাচ।
ওয়ানডেতে অন্তত একটি উইকেট নিয়েছেন এবং অন্তত ১৫০টি বল করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে সেলিমের বোলিং গড় ২৪৭, যা দ্বিতীয়-সর্বোচ্চ। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে খেলা চতুর্থ বাঁহাতি পেসার হলেন মুন্দ্রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয় পর্ব’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই পরিচয় পর্বের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, জোর করে নাচানো, ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বসিয়ে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে ছবি ও ভিডিও ধারণের নির্দেশ দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ২০২৫-২৬ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে এই ধরনের অভিযোগ ওঠে। অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি। বেশিরভাগ অভিযোগ বিভাগীয় সভাপতির হস্তক্ষেপে সমাধান করা হয়। এদিকে, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।
‘ম্যানার শেখানোর’ নামে আটকে রাখা:
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওরিয়েন্টেশনের দুই দিন পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়। প্রথম ধাপে ক্লাস শেষে ছেলে-মেয়ে সবাইকে কক্ষে বসিয়ে রাখা হতো। পরিচয় দিতে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ ও অপমান করা হতো। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ৭০ থেকে ৮০ বার পর্যন্ত পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সবাইকে ফুটবল মাঠে উপস্থিত হওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্লাস প্রতিনিধিকে (সিআর)। কেউ অনুপস্থিত থাকলে সিআরকে জবাবদিহি করতে হয়। ফলে প্রায় ১০-১২ দিন চাপ প্রয়োগ করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তৃতীয় ধাপে রাতেও নবীনদের ডাকা হতো। কখনো রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১২টা, আবার কখনো রাত ১টা বা দেড়টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি পর্যায়ে রাতের বেলায় জিয়া মোড়ে ডেকে কয়েকজনকে বিভিন্ন ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়, যেগুলোর মধ্যে দুজনকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০ মিনিটের মধ্যে লাইব্রেরির সামনে গিয়ে ছবি তুলে আসতে বলা হয়। আরও দুজনকে ডায়না চত্বরে গিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে ল্যাম্পপোস্ট গুনে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ ভুল হওয়ায় তাদের পুনরায় সেখানে পাঠানো হয়। ক্লাস প্রতিনিধিকে মেয়েদের হলের নাম ভুল বলার কারণে প্রতিটি মেয়েদের হলের সামনে গিয়ে সেলফি তুলে আনতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ক্লাস প্রতিনিধি ও আরেক শিক্ষার্থীকে জোর করে নাচানো হয়। রাত দেড়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। সিনিয়রদের ডাকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ১৭ জন শিক্ষার্থী টানা দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরে তাদের মীর মুগ্ধ সরোবরে ডেকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়।
আরও পড়ুন
যবিপ্রবির মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের নিরাপত্তায় বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
ময়লা পানি, অশ্লীল ভিডিও ও হুমকির অভিযোগ:
কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত নবীন শিক্ষার্থীদেরও ডেকে ‘ম্যানার শেখানোর’ অভিযোগ উঠেছে। এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। একই সময় আরেক শিক্ষার্থীকে তার সামনে দাঁড় করিয়ে ১০ ধরনের হাসি দিতে বলা হয়। তারা একাধিকবার অস্বীকৃতি জানানোর পরেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য করা হয়। এছাড়া অশ্লীল বাক্য বলে ভিডিও ধারণ করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে প্রকাশ করতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুরে নিয়ে ছেলে-মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ‘ম্যানার শেখানোর’ একইভাবে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, এক নারী শিক্ষার্থীকে এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে বলা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে, ‘সিনিয়ররা ডাকলে দেখা করো না, কথা শোনো না, পরে রেপ হলে কী করবা’—এমন মর্মাত্মক হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বিরোধের পর কয়েকজন নবীনকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে গালিগালাজ ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।
আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক নবীন ছাত্রীকে বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করার এবং ভুল হলে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। একই বর্ষের আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক নবীনকে ধূমপানে বাধ্য করার এবং রাত ১টা পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ফোন করে চা খেতে ডাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ওরিয়েন্টেশনের পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে সিনিয়ররা ক্লাসে এসে পরিচয় নিতেন। ভুল হলে গালিগালাজ, রাতে ডেকে নেওয়া এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ফরমাল পরিচয়পর্বের নামে হয়রানি ও অপমানের অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ:
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আগে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সহপাঠী জিসানকে দিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে সিনিয়রদের নাম উল্লেখ না করা হয়। অভিযোগ না করলে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা হবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে তাদের।
অভিযুক্তদের দাবি— তারা একা থাকে না; একই ব্যাচের অনেকেই বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকে। নবীনদের বিভিন্ন স্থাপনার নাম জিজ্ঞাসা করা, ভুল হলে সেখানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনা করানো, একাধিকবার পরিচয় নেওয়া এবং ভুল হলে কঠোর ভাষায় বকাঝকা করার কথা স্বীকার করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচয় করানোর কাজটি তাদের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
প্রশাসনের বক্তব্য:
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিভাগের সব শিক্ষক মিলে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুতি করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, র্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র্যাগিংয়ের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ট্যুরিজম বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সভা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নবীনদের ‘পরিচয় শেখানোর’ নামে যেকোনো কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। এত প্রচারণা হলেও সংশ্লিষ্টতা পেলে প্রশাসন ছাড় দেবে না।
ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ না এলেও কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর কোনো নিয়ম নেই।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, যেকোনো র্যাগিং ইস্যুতে জিরো টলারেন্স। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ৫৭টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর সাথে আঞ্চলিক শান্তি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং নতজানু নীতির কারণে বিগত সরকার ফারাক্কার ন্যায্য পানি নিশ্চিত করতে পারে নাই।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)এর সদস্য সচিব প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, বন্যা, নদী ভাঙন, খরা, লবণাক্ততা ও পানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে। নদীর পানির প্রবাহ ও বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, সহসাই এর কাজ শুরু হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত পেলে দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু হবে। পদ্মা ব্যারাজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং খাল খননের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্পের স্বনির্ভর বাংলাদেশের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)এর সদস্য সচিব প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থগিত থাকা ১৩-১৬তম গ্রেডের ৮ পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার সময় সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি) ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এই পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এর আগে এ পরীক্ষা ৩১ জুলাই হওয়ার কথা ছিল। একইসঙ্গে এসব পদের নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্র, আসন বিন্যাস এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত নির্দেশনাবলীও প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, ১৩-১৬তম গ্রেডের এসব পদ হলো, কম্পিউটার অপারেটর, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, হিসাব সহকারী, প্রশিক্ষণ সহকারী, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, অভ্যর্থনাকারী এবং টেলিফোন অপারেটর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ