রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২২ পি.এম
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে হত্যার ঘটনায় ১৯ বছর পর রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে তার সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আমিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ আশুলিয়ার বাসিন্দা ও পিতৃহারা এতিম স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় রেজাউল ইসলাম। রক্সি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর রেজাউল তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করে।
এর কয়েক দিন পর, ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল সকালে রক্সির ঘরে ঢুকে ধারালো শাবল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে রেজাউল। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্সিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় রক্সির খালাতো ভাই নুরুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ জুলাই আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম রেজাউল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
জানা যায়, বিচার চলাকালে মামলার বাদী, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রেজাউলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার বিচার চলাকালে জামিনে গিয়ে আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক রয়েছেন রেজাউল। রায় ঘোষণার সময় আদালত তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার উদ্দেশ্যে ২৫টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট-বল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদুজ্জামানের উদ্যোগে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. আবদুল আলিম বছির। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাবেক সভাপতি রেজা শরিফসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বিতরণ করা ক্রীড়া সামগ্রী শুধুমাত্র কিছু ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবল বা ব্যাডমিন্টন র্যাকেট নয় — এটি তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনার একটি হাতিয়ার। খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীর শরীরকে সুস্থ রাখে, মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং তাকে মাদকের মতো ভয়ানক ব্যাধি থেকে দূরে রাখে।
মাদক ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সকলকে একটি প্রতিজ্ঞা করতে বলব — আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও ক্রীড়ামুখী ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন কেবলই কিছু ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের অনুষ্ঠান নয়—এটি মাদকের কালো অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর এক মহাযুদ্ধের সূচনা। মাদক হলো ধ্বংসের অতল গহ্বর, আর খেলাধুলা হলো সৃষ্টির সিঁড়ি। মাদক একটি পরিবারের স্বপ্ন ভাঙে, একটি সমাজের শিকড় কেটে দেয়। আর এই বিষদাঁত ভাঙতে তরুণদের হাতে ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবল আর র্যাকেটের চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই।’
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে যে সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে, তা কেবল খেলনা নয়—এটি একটি আলোকবর্তিকা, যা তাদের মাদকের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনবে। তাই মাঠে ফিরে যাও, ঘামে ভিজে যাও। তোমাদের সুস্থ দেহ আর প্রাণবন্ত মনই গড়ে দেবে একটি মাদকমুক্ত, স্বপ্নময় বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। হামলার ফলে তার ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ফের হামলার শিকার হন। পরে তাকে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য মহসেন হায়দারি এই তথ্য জানান। নিউইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদনে এই সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করা হয়েছে।
হায়দারি সাক্ষাৎকারে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তেহরানের তিনটি হাসপাতালে পরপর বোমা হামলা চালানো হয়। মোজতবা খামেনি তৃতীয় হাসপাতালে ছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন?
মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন হায়দারি। তার দাবি, গত ৮ মার্চ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সময় কোম শহরের বিশেষজ্ঞ পরিষদে বোমা হামলা হয়। এতে ৮ জন নিহত হন এবং নির্বাচনের নথিপত্র ধ্বংস হয়।
তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে সদস্যরা গোপন কক্ষে কাগজের ব্যালটে ভোট দেন। সেখানে ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হন। আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮ ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
হায়দারি বলেন, শত্রুদের অবস্থান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ছাড়া অন্য কাউকেই নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে না।
মোজতবা খামেনি কোথায়?
নির্বাচিত হলেও মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি এবং তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি তিনি বাবার জানাজাতেও অংশ নেননি।
সম্প্রতি তিনি আহত বা বিকলাঙ্গ হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে গুঞ্জন রটে। মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে নিশ্চিত করেন যে তিনি নতুন নেতার সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা এক আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবা খামেনির ভাগ্য নিয়ে মন্তব্য করেন, "আমি মনে করি না তিনি মারা গেছেন। তিনি খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তার শরীরের বাঁ পাশ, হাত, পা পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি মারা গেছেন বলে আমি মনে করি না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রুবালির ছেলে মো. উসমান বেলাল, একই ক্যাম্পের ইউনুসের ছেলে মো. আনসার আলী ও টেকনাফের মোচনি ক্যাম্পের ফয়েজ আহমদের ছেলে মো. মুসলিম।
বিজিবি জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সন্দেহজনকভাবে একটি ইজিবাইক লেদা বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা সেটি থামান। মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিওপিতে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আলুর বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি জি-৩ রাইফেল, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন, চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন। এ ছাড়া অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে একটি অস্ত্র-গোলাবারুদ চালান হস্তান্তরের সময় তিনজন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ