০২:৩৭ পি.এম
ময়মনসিংহে বাড়ি নির্মাণের জন্য চাঁদা না দেওয়ায় এবং নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কিনতে রাজি না হওয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রীর ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর, সোমবার থানায় মামলা করার পর বুধবার রাতে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। বুধবার (১৭ জুন) রাতের সময়ে জেলার ত্রিশাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র অনুযায়ী, শেরপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত আছেন। ২০২৩ সালে তিনি নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি ক্রয় করেন এবং সেখানে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। উল্লেখ্য যে, ছয় থেকে সাত মাস ধরে ওই ভবন নির্মাণের কাজ পরিচালিত হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: আখাউড়ায় সিএনজি অটোরিকশায় মিলল ২০০ পিস ইয়াবা, গ্রেপ্তার ২
অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে যে, স্থানীয় সাইফুল ইসলাম একটিদল নিয়ে ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল তাদের কাছ থেকে কিনতে নজরুল ইসলামকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম নিজ পছন্দমতো মালামাল কিনে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় সাইফুল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে ভবন নির্মাণের অনুমতি না দেওয়ার জন্য একাধিকবার হুমকি দেয়।
গত রবিবার বিকালের সময় বাসায় গিয়ে নজরুল ইসলামকে মালামাল নিতে বলার পর তিনি রাজি হননি। এর ফলে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের সময় হামলার ঘটনা সংগঠিত হয়। হামলায় নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তার ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকুর সাহায্যে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করে এবং অন্যদের ওপরও মারধর চালায়।
এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তিনজন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর আকস্মিক হামলা প্রভাবিত করেন। পরে আরও তিনজন হামলায় যোগদান করে, যার মধ্যে একজনকে চাকু হাতে দৌড়ে আসতে দেখা যায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এসময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী প্রতিবাদ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, সোমবার নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. সাইফুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পরে সেদিনই অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: দাদু ভাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন: কেসিসি প্রশাসক
ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে আমাকে বলে যে চাঁদা দিতে হবে, নতুবা কাজ দিতে হবে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো তারা আমাকে শুধুমাত্র ভয় দেখাবে। কিন্তু এভাবে আক্রমণের শিকার হব, আমি একজন অফিসার হিসেবে এটি কখনোই কল্পনা করতে পারিনি। আমি এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে সাইফুলকে শনাক্ত করে তাকে ত্রিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন