ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামে চীনের কূটনীতির নিন্দা তাইওয়ানের


প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামে চীনের কূটনীতির নিন্দা তাইওয়ানের

প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরামে (পিআইএফ) চীনের আগ্রাসী ‘উলফ ওয়ারিয়র’ কূটনীতি ও গোয়েন্দাগিরির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে পালাউতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের এই শীর্ষ সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণে চীন আপত্তি জানানোয় বেইজিং ও তাইপের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রকাশ্যে এসেছে।

সম্মেলনের আয়োজক পালাউসহ তিনটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে চীন সম্মেলনে তাইওয়ানের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছে। এদিকে, তাইওয়ানের অংশগ্রহণের কারণে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

তাইপেতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিন চিয়া-লুং মন্তব্য করেন, চীনের ‘উলফ ওয়ারিয়র’ কূটনীতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ ‘একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিরক্তিকর’।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

লিন বলেন, আয়োজক দেশের ইচ্ছা ও মর্যাদাকে গুরুত্ব না দিয়ে চীন এমন আচরণ করছে, যেন তারা সম্মেলনের আয়োজক। পালাউকে ‘অনিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য’ হিসেবে ঘোষণা করার চীনা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি ‘অদ্ভুত ও হাস্যকর’।

সম্মেলন চলাকালে চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও গোয়েন্দাগিরির অভিযোগও তোলেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সম্মেলনস্থলে চীনের সিসিটিভি-সংশ্লিষ্ট সাদা পোশাকের কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেখা গেছে। এই বিষয়টিকে তিনি মূলত এক ধরনের গোয়েন্দাগিরি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে নিরাপত্তা জোরদার করায় আয়োজক দেশ পালাউয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান লিন।

এদিকে, তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিং লিনের অভিযোগকে ‘মনগড়া গল্প’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তার বক্তব্যকে আলোচনায় থাকার চেষ্টা এবং ‘আত্মপ্রতারণামূলক রাজনৈতিক নাটক’ বলে মন্তব্য করেছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তবে চীনের আপত্তি ও নানা বাধা সত্ত্বেও প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরামে তাইওয়ানের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন লিন চিয়া-লুং।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলতি মাসে আসছে সারভর্তি ৭ জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


চলতি মাসে আসছে সারভর্তি ৭ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে কিছুদিনের জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও নন-ইউরিয়া সার আমদানির প্রক্রিয়া আবার গতিশীল হয়েছে। রবি ও বোরো মৌসুমের পূর্বে সরবরাহ ও মজুদ বৃদ্ধি করতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) নিয়ে সাতটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে।

দেশের পথে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ডিএপি, চারটি এমওপি এবং দুটি টিএসপি বহন করছে। এই জাহাজগুলোতে মোট আড়াই লাখ টন সার আসছে। এর মধ্যে রয়েছে দেড় লাখ টন এমওপি, ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি। আগামী মাসে ডিএপি, এমওপি এবং টিএসপি নিয়ে প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে টিএসপি বহনকারী দুটি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর এবং অপরটি ১১ সেপ্টেম্বর পৌঁছাতে পারে। উক্ত দুটি জাহাজে মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি রয়েছে, যা মরক্কো থেকে আমদানি করা হচ্ছে। একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরেকটি জাহাজও ৮ সেপ্টেম্বর দেশের বন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, চলতি মাসে মোট দেড় লাখ টন এমওপি দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুটি লটে মোট ৭০ হাজার টন এবং কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি লটে মোট ৮০ হাজার টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে। চারটি লটের মধ্যে দুটি চলতি সপ্তাহে এবং বাকি দুটি যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিএডিসির হিসাব অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক সিজনে দেশে ডিএপির চাহিদা হবে ১১ লাখ ২৭ হাজার টন। বর্তমানে জাহাজে থাকা সারসহ আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন ডিএপির পরিমাণ ৬ লাখ ৮০ হাজার টন।

একই সময়ে এমওপির চাহিদা ৬ লাখ ৭২ হাজার টন হিসেবে ধরা হয়েছে। চলতি মাসে দেশে আসার অপেক্ষায় থাকা চালানসহ আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন এমওপির পরিমাণ ৬ লাখ ৮০ হাজার টন।

অন্যদিকে, পিক সিজনে টিএসপির চাহিদা হবে ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে চূড়ান্ত আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা এবং জিটুজি চুক্তির আওতায় আলোচনাধীন টিএসপির পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।

সেপ্টেম্বরে সাতটি জাহাজের মাধ্যমে সার আসার পর আগামী অক্টোবরেও ডিএপি, এমওপি এবং টিএসপি নিয়ে প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চালানের আমদানি প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বিএডিসির সার আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ডিএপি, এমওপি এবং টিএসপি নিয়ে ১০-১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের চালানগুলো ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। অক্টোবরের চালানগুলোর মধ্যে কয়েকটির লোডিং শেষ হয়েছে, আর কয়েকটি এখনো লোডিং পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী মাসগুলোর চালানের ঋণপত্রও (এলসি) দ্রুত খোলা হবে।’

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। পাশাপাশি দেশের প্রধান খাদ্যশস্য বোরো ধানের আবাদও শুরু হয়। ফলে বছরের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই পড়ে এই শীতকালীন মৌসুমে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সামনে রবি ও বোরো মৌসুম। বর্তমানে যে পরিমাণ সার আমদানি হচ্ছে, তা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সামনের মৌসুমে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। তাই এখন থেকেই সরবরাহ ও মজুদ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় কারখানাগুলোতেও উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। অন্যান্য সারে সম্ভব না হলেও অন্তত ইউরিয়া উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি। এজন্য আমদানি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনও বাড়াতে হবে।’

আমন মৌসুমের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছুদিন ধরে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা। তারা ডিলারের কাছে সার না পাওয়া এবং বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ার মতো নানা অভিযোগ করেছেন। এরই মধ্যে কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর কৃষি মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে বেশ কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তাকে বদলিও করেছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে সারের কোনো সংকট নেই।

সার্বিক বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘সার আমদানি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতি মাসের চাহিদার হিসাব অনুযায়ী কোনো মাসে বেশি, কোনো মাসে কম সার আমদানি করা হয়। বছরে আমাদের প্রায় ৫০-৫৫ লাখ টন সার আমদানি করতে হয়। এত সার একসঙ্গে আনা সম্ভব নয়, আবার রাখার মতো পর্যাপ্ত গুদামও নেই। দীর্ঘদিন গুদামে রাখলে সারের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চাহিদা অনুযায়ী সার আমদানি করে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।’

সার আমদানি নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সার ন্যূনতম তিনটি উৎস থেকে আমদানি করি, যাতে একটি উৎস থেকে সরবরাহ ব্যাহত হলে অন্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব ও কাতার থেকে কিছুদিন সার আমদানি বন্ধ ছিল। পরে তারা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে সরবরাহ শুরু করেছে। আমরাও এখন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সার আমদানি করছি। ফলে আমদানি নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।

সৌজন্যে: বণিক বার্তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম দিনেই বাজিমাত পঙ্কজ ত্রিপাঠির ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


প্রথম দিনেই বাজিমাত পঙ্কজ ত্রিপাঠির ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’

ভারতীয় বক্স অফিসে মুক্তির প্রথম দিনেই অসাধারণ সাড়া ফেলেছে পঙ্কজ ত্রিপাঠি, আলি ফজল ও রবি কিষাণ অভিনীত ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। জনপ্রিয় অপরাধভিত্তিক ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর বড় পর্দার রূপান্তরটি প্রথম দিনেই প্রায় ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

গুরমীত সিং পরিচালিত এই সিনেমাটি ৪ সেপ্টেম্বর হিন্দি ও তেলুগু ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। প্রথম দিনের আয়ের হিসাবে এটি ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয় করা হিন্দি সিনেমার তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।

ভারতে সিনেমাটির হিন্দি সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি। অন্যদিকে, তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে প্রায় ১৫ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে প্রথম দিনে সিনেমাটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি।

মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছে ১১ হাজার ১৩৫টি শোতে। প্রেক্ষাগৃহে গড় আসন পূর্ণতার হার ছিল ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ। দিনের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। সকালে আসন পূর্ণতার হার ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বিকেলে ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে রাতের শোগুলোতে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে, যেখানে আসন পূর্ণতার হার পৌঁছায় ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশে।

প্রথম দিনের সাফল্যের ফলে চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি উদ্বোধনী আয় করা হিন্দি সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। এই তালিকায় ৯৯ কোটি রুপি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ‘ধুরান্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘টক্সিক’ ৫৫ কোটি রুপি আয় নিয়ে এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘বর্ডার ২’ প্রায় ৩০ কোটি রুপি আয় নিয়ে।

এদিকে, ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাঁপন ২’-কেও পেছনে ফেলেছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। গত মাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি প্রথম দিনে হিন্দি বক্স অফিসে ২২ কোটি রুপি নেট আয় করেছিল।

জনপ্রিয় সিরিজের পরিচিত চরিত্র ও তারকাদের নিয়ে নির্মিত ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ মুক্তির আগেই দর্শকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। প্রথম দিনের বক্স অফিস সাফল্য সেই প্রত্যাশাকেই আরও জোরালো করেছে।

সূত্র :

এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাক বিভাগের রেকর্ড, ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


ডাক বিভাগের রেকর্ড, ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন

শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে এখন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। গত দুই মাসে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় পরিবহন করা হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা- এই মাশুলে চলছে স্পিড পোস্ট।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্যই ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা সম্ভব। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্রও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।

এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও ডাকযোগে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া সম্ভব।

বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য বৈদেশিক ইএমএস সেবাও রয়েছে।

তিনি বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সেজন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদফতর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।

এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারা নিজ উদ্যোগে সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।

এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।

সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রফতনি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা।

মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।

উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ

রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, নাটোরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস আটকে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাস বন্ধ থাকায় রাজশাহী থেকে বাইরে যেতে চাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোরে কয়েকটি বাস আটকে দেওয়ার ঘটনায় রাজশাহীর পরিবহন মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদ হিসেবে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঢাকাসহ দূরপাল্লার গন্তব্যের যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও অনেকেই বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কিছু যাত্রী টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

রাজশাহীর এক পরিবহন শ্রমিক জানান, পরিবহন মালিকদের মধ্যে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। তিনি বলেন, "আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হোক।"

অপর শ্রমিক জাহিদ হোসেন বলেন, এক জেলার বাস অন্য জেলায় আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে বারবার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।"

উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%