ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কিনা জানালেন ট্রাম্প


ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কিনা জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে, একইসঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ওই প্রশ্নকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

যদিও পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেছেন, তবুও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট। ট্রাম্পের বক্তব্য, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর পর ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও এলএনজি পরিবহনপথ হওয়ায়, সেখানে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান এখন পরিষ্কার, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতেও দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচারকের খাস কামরায় ডেকে পুলিশের এসআইকে মারধরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


বিচারকের খাস কামরায় ডেকে পুলিশের এসআইকে মারধরের অভিযোগ

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের খাস কামরায় ডেকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মোহাম্মদ আলী।

ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলী রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালনকালে এএসআই (নি.) মৌসুমী আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীদের ব্যাগ চেক করছিলেন।

এ সময় সাকিব আল হাসান (২৯) নামে এক আদালতের কর্মচারী ব্যাগ চেক না করানো নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে পুলিশ সদস্যদের চেকিং করার অধিকার নেই।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে পরে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন।

সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তখন নিষ্পত্তি করা হয়। তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাকিব ‘কোর্টে হলে দেখে নিতেন’ বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার জিডিতে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোহাম্মদ আলী। পরে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাদের বাইরে রেখে তাকে একাই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, খাস কামরায় আগে থেকেই বিচারকের কর্মচারী সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি পেছন থেকে তাকে সজোরে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এ সময় বিচারকের দিকে তাকিয়ে ‘স্যার, এটা কী হচ্ছে?’ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেন, ‘বুঝছস, আমরা কারা?’

পুরো ঘটনাটি খাস কামরায় থাকা এক ব্যক্তি মোবাইলফোনে ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও তার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?’

মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, ‘পরে আমাকে হাত ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি।’

ঘটনার পর তিনি মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে ওই হামলাকারীকে আদালতের উমেদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার নাম জানা যায়নি। তবে তাকে দেখলে শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এসআই মোহাম্মদ আলী।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


গোমস্তাপুরে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাইরুল চেয়ারম্যানের চাতালে এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার বিবরণ

সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম (চাইনিজ) প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপু, গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন আলীম, গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সেন্টু, রহনপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এনায়েত করিম তোকি, রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমেদ, গোমস্তাপুর উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান (সোহরাব) এবং গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাইয়ান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যালি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে চত্বরকে মুখরিত করে তোলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, ‘যতবার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, ততবারই বিএনপি গণতন্ত্রকে তুলে ধরেছে এবং প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি।’

 

তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আজকের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫-এর বিপ্লব থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন—প্রতিটি গণতন্ত্রকামী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।

 

বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপিকে কেউ রাজাকার বলতে পারে না। কারণ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল হচ্ছে বিএনপি। বিএনপিকে কেউ ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারও বলতে পারে না।

 

কারণ বিএনপির নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং বিএনপির হাত ধরেই গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।’

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ‘সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনী যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন।

 

কিন্তু বিএনপি কখনোই জনগণের বিপক্ষে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন। এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করা যায় এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা যায়, সে ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনোভাবেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি: বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি: বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
 
স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি: বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
 
-কৃষিবিদ মোঃ আতিকুর রহমান 
 
১ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যবাহী দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রায় দলটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র, অর্থনীতি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী হয়ে উঠেছে।
 
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিছক আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়; এটি আত্মপর্যালোচনা, আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের দিন। অতীতের অর্জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি আগামী দিনের বাংলাদেশকে কোন দর্শন, কোন নীতি এবং কোন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে-সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ারও দিন।
 
বিএনপির ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়-বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে কৃষিকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তায় কৃষি ছিল কেবল একটি উৎপাদন খাত নয়; এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বনির্ভরতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
 
জিয়ার কৃষিদর্শন: স্বনির্ভরতার অর্থনৈতিক ভিত্তিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত ও নানামুখী সংকটে পর্যুদস্ত। সেই বাস্তবতায় তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল উৎপাদনমুখী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদারে পরিণত করা।
 
তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্তর্নিহিত বোধ ছিল অত্যন্ত বাস্তব-বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে শক্তিশালী করতে হবে বাংলাদেশের গ্রামকে আর বাংলাদেশের গ্রামকে শক্তিশালী করতে হলে শক্তিশালী করতে হবে কৃষককে।
 
এই দর্শনের মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন বরাবরই কৃষি ও গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
 
সময়ের পরিক্রমায় কৃষির প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, কৃষিজমির ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি কৃষিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
 
ফলে আজ জিয়ার স্বনির্ভরতার দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষিকে শুধু উৎপাদনশীল নয়, প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই করে তুলতে হবে।
 
খাল পুনরুজ্জীবন: প্রকৃতির সঙ্গে উন্নয়নের পুনঃসমঝোতাঃ
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি মূলত নদী ও জলনির্ভর। নদী, খাল, বিল ও জলাশয় এ দেশের কৃষি-সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে অসংখ্য খাল আজ মৃতপ্রায়।
 
একটি খালের মৃত্যু কেবল একটি জলপ্রবাহের মৃত্যু নয়-এর সঙ্গে ধ্বংস হয় একটি এলাকার জলজ প্রতিবেশ, সেচব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষির স্বাভাবিক ভারসাম্য।
 
এই বাস্তবতায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নদী ও খাল পুনঃখনন এবং জলপথ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে।
 
খাল পুনঃখননকে যদি বিচ্ছিন্ন কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে না দেখে সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া সম্ভব। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস, মৎস্যসম্পদের পুনরুজ্জীবন এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থাৎ খাল পুনরুজ্জীবন কেবল পানি ফিরিয়ে আনা নয়, এটি কৃষির প্রাণপ্রবাহ পুনঃস্থাপন।
 
কৃষির নতুন দিগন্ত: GIS, ড্রোন ও প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারঃ
একসময় কৃষকের প্রধান সম্পদ ছিল অভিজ্ঞতা। আজকের কৃষিতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি।
 
কোন জমিতে মাটির আর্দ্রতা কত, কোথায় নাইট্রোজেনের ঘাটতি, কোন অংশে রোগের প্রাদুর্ভাব, কোথায় অতিরিক্ত সেচ প্রয়োজন কিংবা কোন জমিতে কোন ফসল অধিক উপযোগী-এসব প্রশ্নের উত্তর এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব।
 
এখানেই Geographic Information System বা GIS কৃষির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
 
GIS-এর মাধ্যমে একটি অঞ্চলের ভূমি ব্যবহার, মাটির বৈশিষ্ট্য, পানি, আবহাওয়া, ফসলের ধরন ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্যকে একই প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণ করা যায়। ফলে কৃষি পরিকল্পনা হতে পারে আরও বৈজ্ঞানিক ও স্থানভিত্তিক।
 
অন্যদিকে ড্রোন প্রযুক্তি কৃষকের মাঠ পর্যবেক্ষণের ধারণাকেই পাল্টে দিতে পারে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ওপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে ফসলের স্বাস্থ্য, রোগের বিস্তার, পানির ঘাটতি কিংবা ক্ষতির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে ড্রোনভিত্তিক স্প্রে প্রযুক্তিও কৃষি উপকরণের অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
 
এর সঙ্গে যদি স্যাটেলাইট ইমেজ, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে যুক্ত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে পারে Precision Agriculture বা নির্ভুল কৃষির যুগে।
 
এখানে লক্ষ্য শুধু বেশি উৎপাদন নয়; বরং কম সম্পদে অধিক উৎপাদন, কম অপচয়ে অধিক ফলন এবং পরিবেশের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে অধিকতর টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
এটাই হতে পারে একবিংশ শতাব্দীর কৃষিতে স্বনির্ভরতার আধুনিক সংজ্ঞা।
 
কৃষককে ভর্তুকির গ্রহীতা নয়, অর্থনীতির অংশীদার করতে হবেঃ
কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রায়ই আমরা কৃষি উপকরণ, সার, বীজ কিংবা ঋণের কথা বলি। কিন্তু কৃষকের প্রকৃত ক্ষমতায়ন আরও বিস্তৃত বিষয়।
কৃষককে হতে হবে উৎপাদন ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার এবং কৃষি অর্থনীতির সম্মানিত উদ্যোক্তা।
এই জায়গায় কৃষক কার্ড, ডিজিটাল কৃষি তথ্যব্যবস্থা, কৃষিঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্যমূল্য এবং বাজারসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 
একজন কৃষক কখন বীজ বপন করবেন, কোন ফসল চাষ করবেন, কতটুকু সার ব্যবহার করবেন, কোথায় তার ফসল বিক্রি করলে ভালো দাম পাবেন-রাষ্ট্র যদি তাকে এসব বিষয়ে তথ্যনির্ভর সহায়তা দিতে পারে, তাহলে কৃষি আর কেবল জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে না; এটি পরিণত হতে পারে আধুনিক উদ্যোক্তাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
 
জিয়ার স্বপ্ন থেকে তারেক রহমানের আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাঃ
বিএনপির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার Vision 2030 এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে একই ধারার ভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মসূচির ভাষা ও উপকরণ পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন অপরিবর্তিত থেকেছে-কীভাবে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়।
 
তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার যে ভাবনা সামনে এসেছে, তার মধ্যে এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি আধুনিক রূপ প্রতিফলিত হয়।
জিয়ার সময় কৃষির আধুনিকায়নের অর্থ ছিল সেচ, উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও স্বনির্ভরতা; আজ সেই একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে GIS, ড্রোন, স্যাটেলাইট, ডিজিটাল ডেটা, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
 
দর্শন একই-উপকরণ আধুনিক
এটাই সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দর্শনের অভিযোজন।
 
বিএনপি ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাঃ
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস কেবল নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তনের ইতিহাস নয়। বাংলাদেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্রের স্বাধীন সত্তা নিয়ে যে বিতর্ক-তার একটি বড় অংশ বিএনপিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
 
রাজনৈতিক ইতিহাসে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো-ভিন্নমতকে ধারণ করে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ ঘটানো।
 
বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলাকে তাই শুধু দলীয় আবেগ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কারণ একটি দলের প্রকৃত শক্তি শুধু তার সাংগঠনিক বিস্তারে নয়; তার শক্তি নিহিত থাকে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করার সক্ষমতায়।
 
সামনে বাংলাদেশের যে কৃষিঃ
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আমাদের সামনে একদিকে খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন। একদিকে কৃষিজমির সংকোচন, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের অনিশ্চয়তা।
এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি সমন্বিত কৃষি বিপ্লব।
যেখানে খাল পুনরুজ্জীবিত হবে, কিন্তু তার সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক সংস্কারও হবে।
যেখানে কৃষক কার্ড থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে ডিজিটাল কৃষি ডেটাবেস।
যেখানে কৃষিযন্ত্র থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে দক্ষ মানবসম্পদ।
যেখানে ড্রোন থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে প্রশিক্ষিত কৃষি বিশেষজ্ঞ।
যেখানে GIS থাকবে, কিন্তু সেই GIS-এর তথ্য পৌঁছাবে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকের হাতেও।
অর্থাৎ প্রযুক্তি যেন প্রদর্শনীর বিষয় না হয়ে কৃষকের বাস্তব জীবনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে-এটাই হতে হবে আধুনিক কৃষিনীতির মূল দর্শন।
 
শেষ কথাঃ
১ সেপ্টেম্বর তাই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। এটি একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপরিচয়ের দিন, এটি একটি সংবাদপত্রের পথচলার স্মৃতির দিন, সর্বোপরি এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন।
 
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের মাটিতে আজকের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বীজ রোপণ করা যেতে পারে।
খাল পুনঃখনন সেই মাটিতে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে পারে।
GIS কৃষকের জমিকে তথ্যের মানচিত্রে রূপান্তর করতে পারে।
ড্রোন কৃষকের চোখকে আরও দূরদর্শী করতে পারে।
আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকের শ্রমকে আরও উৎপাদনশীল করতে পারে।
কৃষক কার্ড কৃষক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারে।
আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে-এই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন শেষ পর্যন্ত মানুষই থাকে।
 
জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন থেকে তারেক রহমানের আধুনিকায়নের প্রত্যয়-এই দুই প্রান্তকে যদি প্রযুক্তি, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের সেতুবন্ধনে যুক্ত করা যায়, তবে বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত থাকবে না। এটি হয়ে উঠতে পারে জাতীয় অর্থনীতির পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
 
৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রার পর বিএনপির সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু অতীতের উত্তরাধিকার বহন করা নয়-সেই উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে পুনর্নির্মাণ করা।
 
কারণ ইতিহাস কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সাহস অর্জন করাই ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা।
আর সেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এমন এক বাংলাদেশ-যেখানে কৃষকের ঘরে স্বচ্ছলতা, তরুণের হাতে কর্মসংস্থান, নদী-খালে প্রাণের প্রবাহ, প্রযুক্তির হাতে উৎপাদনের নতুন শক্তি এবং সংবাদপত্রের পাতায় সত্য বলার অবাধ সাহস থাকবে।
 
সেই বাংলাদেশই হতে পারে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন থেকে আধুনিকতার বাস্তবতায় উত্তরণের বাংলাদেশ।
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%