০৯:১০ পি.এম
প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশের। ফলে এবার টাইগারদের হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় পড়তে হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে, হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর লক্ষ্যে আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ওয়ানডে খেলতে নামবে মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ সফরে এসে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারার পর সফর শুরু করে জিম্বাবুয়ে। তবে ওয়ানডে সিরিজে টাইগাররা স্পষ্টভাবে ফেভারিট হিসেবে ছিল। কারণ তারা ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের সর্বশেষ চার সিরিজের সবগুলোই জিতেছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকা থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়াল গ্রেফতার
২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের কাছে হারের পর বাংলাদেশ টানা চার সিরিজ চমৎকারভাবে জিতে নিয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় পেয়ে টাইগাররা দুর্দান্ত প্রদর্শন করে। কিন্তু সবগুলোই তাদের ঘরের মাটিতে ছিল; এবং আসন্ন সিরিজে তারা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিতভাবে ভালো করতে পারেনি।
কিন্তু সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হেরে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তারা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ২৫ রানের ব্যবধানে ম্যাচ হারার মাধ্যমে সফরকারীদের সিরিজ শুরু হয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ২৪৭ রানের জবাবে তারা ৫ উইকেটে ২০৭ রান তুলে জয়ের পথে ছিল। তবে শেষের দিকে ২৭ রানে ৫ উইকেট পতনের কারণে তারা ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে বাংলাদেশ ম্যাচ ও সিরিজ হারায়। এভাবে টানা দ্বিতীয়বার জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হারলে টাইগারদের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে সর্বশেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তারা হেরেছিল ২-১ ব্যবধানে।
সিরিজ হারের জন্য ইনিংসের শেষ মুহূর্তে জুটি গড়তে ব্যর্থতা এবং তার সুযোগ হাতছাড়া করার কথা উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘উইকেট ভালো ছিল এবং ২৪৮ রানও বেশ ভালো স্কোর। আমাদের ইনিংসে খুব ভালোভাবে বল ব্যাটে আসছিল। আমরা যদি (শেষের দিকে) ভালো কোনো জুটি গড়তে পারতাম, তবে আরও ভালো হতো। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের আরও ভালো খেলা সম্ভব ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা কোনো জুটি গড়তে পারিনি।’
আরও পড়ুন: রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯৯ বার পেছাল
ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের জন্য দুইবার জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০০১ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের মাটিতে এবং একই বছর নভেম্বরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশের অভিজ্ঞতা হয়েছে।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ের সফরে শেষ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তার পরিবর্তে ওয়ানডে সিরিজে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ তাসকিন আহমেদ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের জয়ের পাল্লা ভারী; ৮৩ ম্যাচ খেলে ৫১টিতে জয় এবং ৩২টিতে পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে টাইগাররা।
বাংলাদেশ দল : মেহেদি হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
আরও পড়ুন: রাজনীতি মানুষের সেবায় হওয়া উচিত: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
জিম্বাবুয়ে দল : রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্রাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধভেরে, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, আর্নেস্ট মাসুকু, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, সিকান্দার রাজা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন