০৫:৫৫ পি.এম
ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের অঙ্গরাজ্যে মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থি এক চ্যালেঞ্জার এবং দলীয় নেতৃত্ব-সমর্থিত এক কংগ্রেসওম্যানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই নির্বাচনে ইসরাইল ইস্যু, নির্বাচনে জয়ের সক্ষমতা এবং জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি এক রকমের প্রক্সি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য হওয়া আসনে রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য এটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।
ডেট্রয়েট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে, সিনেটে নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে ডেমোক্র্যাটদের মিশিগানের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আরও চারটি আসনে জয় পেতে হবে। এই কারণে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দুই দলের মধ্যে পালাবদল হওয়া এই অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি শুধুমাত্র আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে জানা যাবে যে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বর্তমান বামপন্থী উত্থান দলীয় নিরাপদ আসনের বাইরে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোতেও সফল হতে পারবে কি না, অথবা মিশিগানের দলীয় মূলধারা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম কি না।
ওয়েন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক আবদুল এল-সাইয়েদ বামপন্থি নেতা বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি নিজেকে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে লড়াই করার একজন প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করছেন এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, দলীয় নেতৃত্ব এবং ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে পড়া ইসরাইলপন্থী দাতাদের বিরোধিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ডেট্রয়েট শহরতলির চারবারের কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্স অভিজ্ঞতা, উৎপাদন শিল্প এবং নির্বাচনে জয়ের সক্ষমতাকে প্রচারের মূল বিষয় করেছেন। তিনি সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার থেকে শুরু করে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারের সমর্থনও পেয়েছেন।
- বামপন্থিদের উত্থান? -
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাম্প্রতিক কিছু জনমত জরিপ অনুযায়ী, এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এতে দেখা যাচ্ছে চলতি প্রাইমারি মৌসুমে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এই সাফল্যের পর বামপন্থিদের সবচেয়ে বড় জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
তার সমর্থকদের দাবি, প্রচারণায় স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, যে কোনো অর্থদাতা নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর না করেও প্রগতিশীলরা অঙ্গরাজ্যজুড়ে একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তুলতে সক্ষম।
স্টিভেন্সের প্রত্যাশা, জনমত জরিপে যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়া কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার, বয়স্ক ডেমোক্র্যাট এবং কলেজ ডিগ্রিহীন ভোটারদের সমর্থন তিনি পাবেন।
ডেট্রয়েটের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় আধা ঘণ্টার পথের শহর বার্মিংহামে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও প্রচুর ভোট পাচ্ছি। মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ফোনে একের পর এক কল আসছে। মানুষ ভোট দিতে যেতে এবং আমার মতো একটি প্রচারণাকে নভেম্বরে এগিয়ে যেতে দেখতে উৎসাহিত।’
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়
- ইসরাইল ইস্যুতে তীব্র বিভাজন -
ইসরাইলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
স্টিভেন্স ইসরাইলকে অব্যাহত সামরিক সহায়তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালানোর অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপিএসি)-এর প্রভাবের সমালোচনা করেছেন। সেখানেই তিনি বলেছেন, ইসরাইল বিশেষভাবে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে থাকা উচিত নয়।
বৃহৎ আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠী এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ থাকা মিশিগানে এআইপিএসি ও অন্যান্য পক্ষের প্রায় ৯ কোটি ডলারের ব্যয় এবং ব্যাপক প্রচারাভিযান ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ইসরাইলপন্থি লবির প্রভাব যাচাইয়ের জন্য আরেকটি জাতীয় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুতিন ও জেলেনস্কির শিগগিরই বৈঠক হবে: ট্রাম্প
প্রচারণার শেষদিকে, দুজন প্রার্থী ব্যক্তিগত আক্রমণ বাড়িয়ে দেন। এল-সাইয়েদ স্টিভেন্সকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অযোগ্য প্রার্থী’ বলে মন্তব্য করেন। জবাবে স্টিভেন্স অভিযোগ করেন, এল-সাইয়েদ তার নিজেস্ব সমস্যার জন্য ইহুদি-আমেরিকানদের দায়ী করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন