০৯:০১ পি.এম
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে সাম্প্রতিক ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ তাদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ইরান পুনরায় মেনে নেবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি জানাচ্ছে, তেহরানে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে চীন, বেলারুশ ও তুর্কমেনিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গালিবাফ চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েইয়ের সঙ্গে বৈঠক করার সময় বলেন, 'আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ হতে দেবে না।'
আরও পড়ুন: প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ জন নিহত
তিনি যোগ করেন, ইরান কৌশলগত এই নৌপথ দিয়ে চীনা জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে একটি সমঝোতায় এসেছে।
গালিবাফ বলেন, আঞ্চলিক বিষয়ে ইরান ও চীনের সামনে নতুন বাস্তবতা গড়ে উঠেছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতা আরো গভীর হবে।
তিনি আরো বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইরান-চীন সম্পর্কের গভীরতা প্রয়োজনীয় হতে চলেছে। গালিবাফের মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির ফলে তেহরান ও বেইজিংয়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের আঞ্চলিক প্রতিরোধ সক্ষমতা ভবিষ্যতে আরেকটি যুদ্ধ ঠেকাতে সক্ষম হবে, যদিও ইসরায়েল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভণ্ডুলের চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন
বৈঠকে হে ওয়েই আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য চীনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, চীন ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং দুই দেশের সম্পর্ক আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাই।
এদিকে, বেলারুশের প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান ইগর সেরগেইয়েঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ ইরানের প্রতি মিনস্কের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা রমজান যুদ্ধের কোন লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়নি।
গালিবাফ বলেন, এখন সবাই বুঝতে পেরেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও ইরান তাদের 'প্রজ্ঞাবান, সাহসী নেতা এবং ইসলামী বিশ্বের আধ্যাত্মিক পিতাকে' হারিয়েছে, তবুও সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই বিজয়ী হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ঐক্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।
এ সময় তিনি সতর্ক করেন যে ভবিষ্যতে যদি কোনো আগ্রাসন ঘটে, তবে ইরান কঠোর জবাব দেবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতার পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা যদি তাদের অঙ্গীকার রক্ষা না করে, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আবারও সমানুপাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি বলয়ের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখন ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছে যে সামরিকভাবে ইরনের মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। যদিও ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলেছে, তবুও অভিযানে ব্যর্থতা এসেছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন