০৭:৪৯ এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন ও নতুন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের ক্ষমতা, কাঠামো ও কার্যপরিধি ঢেলে সাজানোর জন্য একটি নতুন আইন অনুযায়ী খসড়া প্রস্তুত করেছে দুদক।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪’ অনুযায়ী নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বাছাই কমিটি বা সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের দুজন বিচারপতি মনোনীত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটিতে থাকবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ি সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই কমিটি কমিশনের জন্য যোগ্য ছয়জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্যে থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান করা হবে।
সূত্র বলছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি গত ২৪ মে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। এদিকে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে।
ছুটির পর ১ জুন প্রথম কর্মদিবস পর্যন্ত বিচারপতিদের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি। দুই এক দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিচারপতি দুজনের নাম পাঠানো হতে পারে। তিন সদস্যের নতুন কমিশন গঠনের সুপারিশ তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিগগির পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগের পর থেকে কমিশন কার্যত পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’-এর একটি খসড়াও প্রস্তুত করেছে দুদক।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
খসড়ায় কমিশনের কাঠামো, তদন্ত ক্ষমতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, খসড়ায় দুদকের তদন্ত ক্ষমতা বাড়িয়ে ছদ্মবেশে অনুসন্ধান (আন্ডারকভার ইনকুয়ারি), সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক লেনদেন স্থগিতের মতো বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির জালিয়াতি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অপরাধকে দুদকের আওতাভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অনুমোদন প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল নিয়োগ, আচরণবিধি এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে খসড়ায়।
সূত্র জানায়, সার্চ কমিটি গঠনের পাশাপাশি খসড়াটি পর্যালোচনার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে। সংশোধনগুলো নিচে পৃথকভাবে তুলে ধরা হলো :
ধারা ১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন) : এই আইনের নাম হবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’। এটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
ধারা ২ (সংজ্ঞা) : নতুন সংশোধনীতে ‘আন্ডারকভার ইনকুয়ারি’ বা ছদ্মবেশে অনুসন্ধানের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কমিশন বা তার প্রতিনিধি পরিচয় গোপন রেখে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
ধারা ৪ (কমিশনের কার্যালয়) : কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকাতেই থাকবে, তবে কমিশন প্রয়োজনে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে।
ধারা ১৬ (কমিশনের সচিব) : কমিশনের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য একজন সচিব থাকবেন, যার নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
ধারা ২৮ক : এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য, আপস অযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য হবে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাটির নিচে ঘাঁটি গেড়ে সাধনা করছেন নারী লাভলী শাহ ফকির রানী
তফসিল : দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ৪৭৭এ ধারার অধীন অপরাধসমূহ (যদি তা সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়) এবং শেয়ার বাজার বা সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত জালিয়াতি ও কারসাজির অপরাধগুলো নতুনভাবে দুদকের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন