০৪:৫৪ এম
রাজধানীর জিগাতলায় তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার কারণে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের এবং স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত ৮টার দিকে স্থানীয়রা ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘ঢাকা রেসিডেন্সি’ হোস্টেল ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মূলত চার থেকে পাঁচজনের একটি গ্রুপের সদস্যরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই গ্রুপের মধ্যে একজনের একটি সাইকেল চুরি হয়ে যায়। সাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা যাদের সন্দেহ করছিল, তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে। পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। পরে কলেজ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাদের থানায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় জিগাতলায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙচুর রোধ করার জন্য জিগাতলার গাবতলী মসজিদ সংলগ্ন ঢাকা রেসিডেন্সি হোস্টেলকে পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বর্তমানে ঢাকা কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মারধর ও উত্তেজনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী রেসিডেন্সি হোস্টেলের পাশাপাশি কয়েকটি রুমে থাকতেন। তাদের মধ্যে একজনের সাইকেল চুরি হয়। তিনি আরও বলেন, "আমাদের ছোট ভাইয়েরা তাদের কাছে কিছু টাকা পেত। যেহেতু আজকে ১ তারিখ, তাই তারা হোস্টেল ছেড়ে চলে যাচ্ছিল। ছোট ভাইয়েরা পাওনা টাকা চাইলে তারা তা না দিয়ে নানা রকম টালবাহানা শুরু করে এবং বিকাশে বা পরে পরিশোধ করবে বলে জানায়।"
আরও পড়ুন: কানে হেডফোন দিয়ে রেললাইনে হাঁটছিলেন তরুণ, নিমিষেই শেষ
এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়েরা বিষয়টি নিয়ে ভিডিও করা শুরু করলে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাদের মারধর করা হয়। ছাত্রদলের এ নেতা বলেন, "ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তীতে হলে খবর দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫০-৬০ জন এসে হোস্টেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার দ্বিতীয় দফায় সংঘাতের মধ্যে আমাদের চার-পাঁচজন আহত হয়, যার মধ্যে ২৪ ব্যাচের রিজভী ও আসিফ রয়েছে।" ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শওকত আলী বলেন, "এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটা হস্তক্ষেপ ছিল। শিক্ষার্থীরা হলো কোমলমতি। আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন অন্যকোনো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য তাদেরকে আমরা নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর বাইরে অন্যকিছু না। এখানে হাজারীবাগ থানার ওসি এসেছেন সশরীরে। এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সবার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন