০৬:১৭ পি.এম
প্রায় তিন বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ১১২টি ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে গাজা সিটিতে। গণদাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হাজারো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত এসব মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের সদস্যদের। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর সাবরা এলাকায় চালানো ওই হামলায় দুই পরিবারের মোট ৩০৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪০ শিশু, ৩০ নারী এবং সাতজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন।
সম্প্রতি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনো অন্তত ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে আছেন অথবা তাদের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: প্যারিসের গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ
মঙ্গলবার গাজা সিটির রাজপথে ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো কফিনের দীর্ঘ সারি নিয়ে শোকযাত্রা বের করা হয়। নিহতদের ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে স্বজন এবং সাধারণ মানুষ শেষ বিদায় জানান। একই সঙ্গে গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানান তারা।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এই গণদাফনকে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ও হৃদয়বিদারক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াগুলোর মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের দাফনের সুযোগ পাওয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি বেদনাদায়ক মুহূর্তেও অপেক্ষার অবসানের সময়।
ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘুতি বলেন, এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণদাফন হতে পারে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আবু শারিয়া পরিবারের আরও প্রায় ২০০ সদস্যের মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে অনেক পরিবার খালি হাতেই স্বজনদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই গণদাফন আবারও সামনে নিয়ে এসেছে গাজার হাজারো নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও বেদনার চিত্র। ফিলিস্তিনি গোত্র ও পরিবারগুলোর সমন্বয় পরিষদ আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি ধ্বংসস্তূপ দ্রুত অপসারণ, আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধার এবং গাজা পুনর্গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক
তাদের ভাষায়, ১১২ জনের দাফনের মাধ্যমে কিছু পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো নিখোঁজ মানুষের সন্ধান এখনো শেষ হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন