১২:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে, যাতে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করা ২ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধার করা যায়। এর জন্য ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আটটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানেরা ৫০টির বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণের আড়ালে পাচার হওয়া ব্যাংকের অর্থ ফেরানোর পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকেই ২০০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করে বিদেশে চলে গেছেন এসবি এক্সিম বাংলাদেশ গ্রুপের মালিক। একই খাতায় নাম রয়েছে হাবিব গ্রুপ, এসএসসি স্টিল, ইউনাইটেড গ্রুপসহ ৪২টি প্রতিষ্ঠানের।
এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাংকের অর্থ পাচার করা হয়েছে। বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসার আড়ালে ঋণ নিয়ে এসব দেশে পাচার হয়েছে ব্যাংকের ২ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
খেলাপি ঋণের খাতায় থাকা এসব অর্থ ফেরাতে ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আটটি প্রতিষ্ঠানকে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ উদ্ধারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এসব অর্থ ফেরাতে সময় লাগবে। তাই ব্যাংকগুলো সম্পদ উদ্ধারে মেয়াদভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, ব্যাংকের সম্পদকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে কতটুকু আদায়যোগ্য, কতটুকু পাচার হয়ে গেছে এবং কতটুকু কার্যকরভাবে আদায় করা সম্ভব-এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। জামানত বা বন্ধক রাখা সম্পত্তির বিপরীতে দেয়া ঋণ উদ্ধারের জন্যও আলাদা পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা তদারকি করেছেন, খেলাপি ঋণের আড়ালে পাচার হওয়া অর্থের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে পুরো আর্থিক খাতে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, প্রকৃত ঋণঝুঁকি ব্যাংকাররা সামাল দিতে পারেন। কিন্তু ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি ভিন্ন। শুধু বর্তমানের খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করলেই হবে না। ভবিষ্যতেও যদি একই ধরনের ঘটনা চলতে থাকে, তাহলে ভালো ব্যাংকগুলোও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এর আগে শেখ হাসিনাসহ তার পরিবার এবং ১০টি শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের কাজও করছে আন্তর্জাতিক এই আটটি প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন