১০:৪২ পি.এম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা, কালজানি নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক জনাব অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ সময়, তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুর রহমান তারেক এবং চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
শনিবার (৬ জুন) ভারত থেকে প্রবাহিত কালজানি নদীর ভাঙনের শিকার, উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ ধলডাঙ্গাসহ নদী ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক স্থানীয় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
এ সময় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক গোলাম ইয়াছিন কালজানির ও দুধকুমর নদীর ভাঙনে শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ ধলডাঙ্গা, তিলাই ইউনিয়নের খোচাবাড়ীর চর, সদর ইউনিয়নের নলেয়ার চর ও বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া কালিরহাটের বিভিন্ন পয়েন্টে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের পূর্বেই কাজ শুরু করার দাবি জানান। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে নদী ভাঙনের কারণে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: দাবি-দাওয়ার টানাপোড়েনে সাজেক, ভুগছে সাধারণ মানুষ
এসব পরিবারকে দ্রুত সরকারের সহায়তায় বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া সহ জীবিকা নির্বাহে পুনর্বাসনের দাবী জানালে জেলা প্রশাসক ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এছাড়া, নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা এবং ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে ঢেউটিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে নদী ভাঙন রোধে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ইয়াছিন ও শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুব কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট জিও ব্যাগের আবেদন করলে তিনি নদী ভাঙন রোধে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়ে ২ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ প্রদান করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ইসমাইল হোসেন ইউসুব। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নদী ভাঙনের শিকার বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে নদী ভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন