ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাবির ৬ শিক্ষক ও ৬৮ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড


রাবির ৬ শিক্ষক ও ৬৮ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৬৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে, যা ভালো ফলাফল অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, শিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা ও পেশাগত অবদানের জন্য অনুষদের ছয় শিক্ষককেও এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩.৮৫ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৮ জনকে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮ জন বিবিএ পর্যায়ের এবং ৪০ জন এমবিএ পর্যায়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মজনু কাইয়াঁ

বিভাগভিত্তিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ১৩ জন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৯ জন, মার্কেটিং বিভাগের ২৭ জন, ফাইন্যান্স বিভাগের ২ জন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৬ জন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তাদের ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উল্লেখ করেন, ‘আজ একটি বিশেষ দিন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করব, প্রতিবছর যেন এ আয়োজন অব্যাহত রাখা হয়। এটি যেন কোনোভাবেই বন্ধ হয়ে না যায়’।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: এক নজরে দেখে নিন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা ফাইনালের চেয়েও বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ এম


ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের চাহিদা ফাইনালের চেয়েও বেশি

দীর্ঘ ২৪ বছর পর আফ্রিকার মাটিতে ফিরে আসছে পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে এই মেগা ইভেন্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনও অনেক সময় বাকি থাকলেও, টিকিটের জন্য বিশ্বজুড়ে চলছে হাহাকার। তবে গ্রুপ পর্বে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি এবার সকলকে অবাক করে দিয়েছে, যা ফাইনালের চেয়েও বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) তথ্য অনুযায়ী, এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের টিকিট পাওয়ার জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি আগামী ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। একই মাঠে ২১ নভেম্বর টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ফাইনালের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে, সেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন পড়েছে প্রায় ৮৪ লাখ। ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই লড়াই বিশ্বজুড়ে কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এটি তার একটি অনন্য প্রমাণ।

বিশ্বকাপের টিকিট পেতে এখন পর্যন্ত ১৯৩ দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ সমর্থক নিবন্ধন করেছেন। বিশ্বজুড়ে মোট টিকিটের আবেদন ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। টিকিটের এই বিপুল চাহিদা শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্যান্য ম্যাচগুলিতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, জিম্বাবুয়ের ভিক্টোরিয়া ফলসে ২৪ অক্টোবর জিম্বাবুয়ে-ভারত ম্যাচের জন্য ৩৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে, নামিবিয়ার উইন্ডোহকে ৮ অক্টোবর ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচের জন্যও প্রায় ৯ লাখ দর্শক টিকিট চেয়েছে।

আগামী বছর ১৪ দলের অংশগ্রহণে ২ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ বিশ্বকাপ। মোট ১২টি স্বাগতিক শহরের ৫৭ ম্যাচের জন্য টিকিটের আবেদন গ্রহণ চলবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড অপারেশনস জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা দর্শকদের এই সাড়াকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের এই প্রত্যাবর্তন ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে, এবং টিকিটের এই রেকর্ডভাঙা চাহিদাই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই খাতে বড় বিনিয়োগ বিশ্ববাজার ব্যবস্থা ধ্বংসের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


এআই খাতে বড় বিনিয়োগ বিশ্ববাজার ব্যবস্থা ধ্বংসের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবান্ধব ও শিথিল নীতির সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে হাজার কোটি ডলারের বিশাল বিনিয়োগ শেয়ারবাজারগুলোকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে এটি চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ শতাংশ হারে ভালো প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।

তবে যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনার চাপের কারণে বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারগুলো সংকটের মধ্যে রয়েছে। জাপানি ও ফরাসি বন্ড বিক্রি করে দেওয়ার হিড়িক এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার অধঃপতন—এসব সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এআই খাতে এই বিশাল বিনিয়োগ কৌশলটি এতদিন বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে রাখলেও এখন তাতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাজারের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থিতিশীল বাণিজ্যনীতি এবং ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি খাতে সৃষ্ট ধাক্কা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আবারও উসকে দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনে বিপুল মূলধন বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারের উচ্চ ঋণের বোঝা ঋণের ব্যয়কে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

বছরের শেষ পর্যায়ে এসে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

এআই খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের নির্ধারিত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইউরো জোনের মুদ্রাস্ফীতিও বর্তমানে ৩.৮ শতাংশে রয়েছে, যা তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি বিভাগের সাবেক মন্ত্রী জিম ও'নিল মন্তব্য করেছেন, "সুদের হার বাড়লে সব সময়ই সবচেয়ে দুর্বল পক্ষগুলো বেরিয়ে আসে এবং তাদের নাজুক অবস্থা প্রকাশ হয়ে পড়ে। যেসব দেশ বা ব্যবসা অতিরিক্ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিপর্যয় না হওয়ায় বড্ড অবাক হচ্ছি।"

রয়টার্স জানাচ্ছে, গত অক্টোবরে বাজারে হঠাৎ করেই অস্থিরতা দেখা দেয়। বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ার থেকে পুঁজি সরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন। গত মাসে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ১০০ সূচক থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজারমূল্য হারিয়ে যায়। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে বিনিয়োগ করা অর্থ আদৌ দ্রুত মুনাফা বয়ে আনতে পারবে কি না, সে ব্যাপারে বিনিয়োগকারীরা আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন। কিছু প্রযুক্তি কোম্পানির বন্ডের বিমা খরচ বেড়ে গেছে, ডেটা সেন্টার তৈরির প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতন ঘটেছে।

তবে বিনিয়োগকারীরা বন্ডের দিকে ঝুঁকেছেন। বন্ডের দামের সঙ্গে এর আয়ের হারের সম্পর্ক বিপরীতমুখী। তাই দাম বাড়লে আয়ের হার কমে যায়। গত ২২ অক্টোবর ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের আয় প্রায় ২০ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। ২০২৩ সালের শুরুর পর থেকে এটিই ছিল এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন।

১০ বছর মেয়াদি বন্ডের আয় এখনো ৫ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যেটা অনেক বিনিয়োগকারী সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।

বিশ্বের যেসব অঞ্চলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার খুব একটা প্রভাব ফেলেনি, সেখানেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সে বন্ডের আয় ২০১২ সালের ইউরো অঞ্চল ঋণসংকটের সময়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে সরকার এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণের জন্য তাদের হাতে খুব কম সুযোগই অবশিষ্ট আছে। দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ নাগরিক অস্থিরতা চলছে।

আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল জাপানে বন্ডের আয় সম্প্রতি ৩০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর চাপের মুখে রয়েছে। এটি টোকিওর সেই নীতিগত লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে, যার আওতায় সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। এমনকি এটি বৈশ্বিক পুঁজি প্রবাহকেও উল্টে দিতে পারে।

ফিডেলিটি ইন্টারন্যাশনালের লিড পোর্টফোলিও ম্যানেজার মাইক রিডেল বলেছেন, "বাজারব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজার কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত জার্মান বন্ড এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলা এআই তৈরি করে ডাটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


বাংলা এআই তৈরি করে ডাটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উদ্যোগ

দেশের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজস্ব সার্বভৌম বাংলা এআই তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ।

সোমবার (২ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে তথ্য ও যোগাযোগ সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা তথ্যপ্রযুক্তি সংবাদিক ও একাডেমিক প্রফেশনালদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। এ সময় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের সভাপতি সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির, মহাসচিব যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফ আহমাদ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম জ্যান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার রাহিতুল ইসলামসহ সিটিজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আইসিটি সচিব জানান, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও ট্যাক্স ফাইলসহ নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ডেটাবেজগুলোকে একত্রিত করে একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহার ও জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং ডেটা সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বস্ত ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজও চলছে।

দেশের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আইসিটি সচিব জানান, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে, যার একটি বড় অংশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ।

এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে দেশের ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব এআই মডেল ও শেয়ারড জিপিইউ ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সচিব জানান, ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের ফান্ডিং এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য একটি ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিটিজের পক্ষ থেকে আইসিটি বিভাগের কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে সভাপতি হাসান জাকির বলেন, বিগত সময়ের ধারাবাহিকতায় দক্ষ জনবল তৈরির নামে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনো গোষ্ঠিকে অর্থ তছরুপের সুযোগ যেন না দেওয়া হয়। তিনি অর্থের অপচয় হয় এমন প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ না করারও দাবি জানান।

সিটিজের মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, প্রযুক্তি খাতে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। তিনি উদ্বাবনি প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা পায়, সেটি নিশ্চিত করা আবশ্যক। এখানে যেন স্বজনপ্রীতি না হয়।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো– প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থে সাংবাদিকদের দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা, এআই, সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন খাত এবং কারিগরি দিক নিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

প্রযুক্তি খাতের স্বচ্ছতা ও অবকাঠামোগত সংস্কারে সিটিজের পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলো সময়োপযোগী উল্লেখ করে আইসিটি সচিব ড. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা বলেন, আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইসিটি বিভাগ আন্তর্জাতিক সার্টিফেকশন ছাড়া অন্য কোনো প্রশিক্ষণ আর দেবে না। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নামকাওয়াস্তে আর কোনো প্রশিক্ষণ হবে না। স্টার্টআপসহ উদ্ভাবনি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সিটিজের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সেবার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জাপানি কনসোর্টিয়াম সম্ভাব্য অপারেটর নির্বাচনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। চূড়ান্ত নির্বাচনের পূর্বে তাদের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের সক্ষমতা যাচাই করবে বেবিচক। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় নতুন প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতদিন এ খাতে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল।

সূত্র জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের বিস্তৃতির দিক থেকে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেনজিস এভিয়েশন এগিয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তারা বিশ্বের ৬৫টি দেশের প্রায় ৩৫০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্মীসংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যাত্রীসেবা, কার্গো পরিচালনা ও উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন এভিয়েশন সেবা প্রদান করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন পাঁচটি দেশে ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। তবে বৈশ্বিক কার্যক্রমের পরিধি বেশি হলেই কোনো প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে এগিয়ে থাকবে, এমন নয়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা চূড়ান্ত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে নেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা। দায়িত্বশীল ওই সূত্র আরও জানাচ্ছে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার ওপর নির্ভর করছে বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান। এই সেবায় ফ্লাইট যাত্রীরা সন্তুষ্ট হলে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়বে এই বিমানবন্দর নিয়ে সুনামের পাশাপাশি রাজস্ব আয়।

মেনজিসের মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। এসব পদের ৯৯ শতাংশ স্থানীয় জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে আরও প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে মেনজিসের। সেখানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তাব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবাপদ্ধতি বিষয়ে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশি কারিগরি কর্মীর ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে।

জানা যায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে লাগেজ পেতে দেরি, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ করা হলে এসব ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও পরিচালনব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করলেই সেবার মান বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য চুক্তিতে সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখতে হবে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর কত সময়ের মধ্যে যাত্রীর কাছে লাগেজ পৌঁছাতে হবে, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কত হবে এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কী ধরনের জরিমানা করা হবে–এসব বিষয়ও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

এ নিয়ে বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিষ্ঠানটি কী মানের সেবা দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে লাগেজ সরবরাহ, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জরিমানার ব্যবস্থাও কার্যকর করতে হবে। তা না হলে অপারেটর পরিবর্তন হলেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%