০৪:৩৭ পি.এম
ভারতের মুম্বাই এবং আশপাশের শহরগুলোতে রাতভর ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার সকালে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও, আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তারপরও আইএমডি (ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর) 'রেড অ্যালার্ট' জারি রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না গিয়ে সকলকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে মুম্বাইয়ের নগর কর্তৃপক্ষ ব্রিহানমুমাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কিছু স্থানে ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। রবিবার সকালে মেট্রো ও ব্রিহানমুম্বাই ইলেকট্রিক সাপ্লাই অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের (বেস্ট) বাস চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে যাত্রীরা জানান, শহরতলির ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য বাবা বিএমসির ১৯১৬ নম্বর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে এবং সব ধরনের সতর্কবার্তা মেনে চলতে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে চলাচলে সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এদিন বিকেল ৩টার পর ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ারের পূর্বাভাস রয়েছে। আরও বলা হয়েছে আগামীকাল সোমবার ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার আরেকটি জোয়ার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবারের প্রবল বর্ষণে মাত্র ১২ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এর ফলে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে, বিভিন্ন সড়কে ধস নামে, গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং সড়ক ও রেল চলাচল ব্যাহত হয়। টানা বর্ষণে পাশের থানে, পালঘর, নবি মুম্বই ও পুনে এলাকার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়েছে। কোথাও ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং জলাবদ্ধতার কারণে অবস্থা আরও জটিল হয়েছে। কিছু বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, রবিবারও কয়েকটি এলাকায় ভারী এবং বিচ্ছিন্নভাবে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়াও শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে दমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বিএমসির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যেখানে সবচেয়ে বেশি ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ভিখরোলি পশ্চিমের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিস এলাকায় হয়েছে। এরপর কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ভিখরোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এলাকায় ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া মালাবার হিল, মান্ডাভি ফায়ার স্টেশন, কোলাবা, মেমনওয়াড়া ফায়ার স্টেশন, ভিখরোলি ফায়ার স্টেশন, পাওয়াইয়ের পাসপোলি মিউনিসিপ্যাল স্কুল, ভান্ডুপ কমপ্লেক্স, আন্দেরি ফায়ার স্টেশন, চাকালা মিউনিসিপ্যাল স্কুল, জোগেশ্বরী এবং গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে রেললাইনে পানি জমে যাওয়ার কারণে সেন্ট্রাল রেলওয়ে ও ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের শহরতলির ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়। এছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে মেট্রোর ২এ লাইনের পরিষেবাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন