০২:১৫ এম
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পরগত চার মাস পরে অবশেষে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের সঙ্গে এখন সরকার বিশেষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা এই সরকার নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে একতা রক্ষার জন্য এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য নানা ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করছে। উল্লেখযোগ্য যে, খামেনির মৃত্যুর পর গত মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এই জানাজা অনুষ্ঠানের সরকারি স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আমাদের জাগতে হবে’। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর জন্য জাগো’। প্রচারণার মধ্যে খামেনির একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৮১ সালের একটি বোমা হামলার ফলে খামেনির ডান হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
মোজতবা খামেনি একবার্তায় জানান, মৃত্যুর সময় খামেনির সুস্থ হাতটি মুষ্টিবদ্ধ ছিল। সেখান থেকেই এই জেদি হাতের ছবি তৈরি করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে নতুন নেতা মোজতবা ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত নয়।
অনুষ্ঠানে শোক এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে কালো ও লাল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় একটি বিশাল লাল পতাকা উড়ানো হয়েছে। এতে আরবিতে লেখা, ‘হে হোসেনের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা’। এইভাবে কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে খামেনির মৃত্যুকে সংযুক্ত করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
খামেনির মরদেহ বহনের পথটিতে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মরদেহটি তেহরান থেকে শিয়াদের পবিত্র শহর কোম, এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা হয়ে ইরানের মাশহাদে দাফন করা হবে। এই পথটি মূলত শিয়া মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে সংযুক্ত করেছে।
জানাজার অনুষ্ঠানে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুতিদের মতো প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে একেক দেশের প্রতিনিধিদের সামনে কোরআনের একেকটি আয়াত পড়ে শোনানো হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সামনে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের আয়াত পড়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে যথেষ্ট আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন