০৭:৩৯ পি.এম
পুলিশের পদোন্নতি ও পদায়নে গোয়েন্দা রিপোর্টকে আমলে না নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক সুবিধাবাদী পুলিশ কর্মকর্তাকে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এসপি-ওসি পদে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর পুলিশের চেইন-অব-কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টকে আমলে না নেওয়ার অভিযোগটি দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রমে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আলোচিত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি একজন রেঞ্জ ডিআইজি পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন। তিনি ওই রেঞ্জ থেকে বদলি হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে ৩শ’র অধিক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল বদলি করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, এই বিষয়টি তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন (যা তাদের সততা, নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করে) মূল্যায়নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত লবিং এবং তদবির পদোন্নতি বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্টকে উপেক্ষা করে যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হলে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ‘চেইন অব কমান্ড’ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়। বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান। পদোন্নতি ও বদলির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দীর্ঘদিনের ট্র্যাক রেকর্ড এবং দাপ্তরিক নীতি মেনে সম্পন্ন করা হয়। নিয়মবহির্ভূত কোনো বিষয়কে প্রশ্রয় না দিলে চেইন অব কমান্ড ফিরে আসবে পুলিশে।
আরও পড়ুন: এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, মেধা, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা গেলে পুলিশের কার্যক্রমের গতি বাড়বে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা বাড়বে, আস্থা ফিরবে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও দ্রুত হবে। তাদের মতে, অতীতের রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও মেধাভিত্তিক পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে। সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেষের দিকে পুলিশ চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরুল মুত্তাকিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিএমপির ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ এবং লালবাগ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে তিনি ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও কাজ করেছেন একাধিক স্থানে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে বদলি করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদারীপুরের শিবচর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবং উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে চাকরি করেছেন আমির হোসেন সেরনিয়াবাত। ২৪ মার্চ তিনি একই থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান। ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে যোগদানের ৪ দিনের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়। আব্দুল মজিদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তাগাছা ও নান্দাইল থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সময়ও তিনি ওসি ছিলেন।
৩০ এপ্রিল তাকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হলে এক দিনের মাথায় তাকে পরিবর্তন করে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়। নেত্রকোনা জেলায় পূর্বধলা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন, দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সেই সাইফুল ইসলামকেই এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, "ওই সময় নিয়ম অনুযায়ী যা করার আমি তাই করেছি। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই।"
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি মো. মাহাবুব আলম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার বাণিজ্য ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ১১টি অভিযোগ দিয়ে ওসি মো. মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে না। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফতুল্লা থানার ওসি মো. মাহাবুব আলম ইনকিলাবকে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।"
আরও পড়ুন: আজ দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অফিস ও ব্যাংক খোলা
আমি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক বছর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ছাত্রলীগ নেতা এএসপি সায়েম নোমান ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ম্যানেজ করে ডিএমপিতে রয়েছেন তিনি। মোবাশশিরা হাবীব খান ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা জেলা পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আশুলিয়া থানার অভ্যন্তরস্থ লেগুনার মধ্যে নিরীহ ৫ জন ব্যক্তির লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ও ধৃত আসামি ঢাকা জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর (ডিবি) আরাফতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ফোনে ছিলেন এই মোবাশশিরা হাবীব খান। তৎপরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সিআইডিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাইবার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে শিক্ষা ছুটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় অধ্যয়নরত।
শাহনেওয়াজ রাজু ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে ২০১৪-১৫ সালে বর্বর খুনি জিয়াউল আহসানের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে সিনিয়র এডি এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দীর্ঘদিন এলআইসি শাখায় সহকারী পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ হিসেবে কর্মরত থেকে বিপিএম এবং পিপিএম পদক পান। বর্তমানে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে সিপিসি (সাইবার অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল) হিসেবে কর্মরত আছেন। জিয়াউল আহসানের এনটিএমসি আড়িপাতার কাজে যে টুল ব্যবহার করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী ব্যাকপ্যাক অ্যানালাইজার কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন।
মো. মনিরুজ্জামান ফকির ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলনের সময় মাদারীপুর জেলায় কর্মরত থাকাকালে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পিবিআই, ঢাকায় পদায়ন পান এবং ২০২৬ সালের ১ আগস্ট হতে ৪ (চার) বছরের প্রেষণে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পড়তে গিয়েছেন। মো. রফিকুল ইসলাম ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলন চলাকালে এডিসি (মতিঝিল) থাকাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। বর্তমানে ডিবি (মতিঝিল) বিভাগে তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। বর্তমানে মিশনে গমনের উদ্দেশ্যে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। নাদিয়া জুঁই ৩০তম বিসিএস (পুলিশ)-এর একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে ১১ এপিবিএন, উত্তরা, ঢাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) হিসেবে কর্মরত। এইচটি ইমাম কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত হাবিব ও আসাদুজ্জামান মিয়ার অতীব ঘনিষ্ঠ এই নারী কর্মকর্তা বিদেশে মিশনে গমনের উদ্দেশ্যে অপেক্ষমাণ রয়েছেন। মো. আশিক হাসান ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের স্টাফ অফিসার ও এডিসি (অ্যাডমিন) এবং পরবর্তীতে হাবিবের এডিসি (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তেজগাঁও (ক্রাইম) বিভাগে বিপ্লব কুমার সরকার ডিসি থাকাকালে তার এডিসি (তেজগাঁও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে অ্যাডিশনাল এসপি হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে শিক্ষা ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রমকে পুরোপুরি চালু করার কার্যক্রমের চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর পদোন্নতি ও পদায়নে বেশি ব্যস্ত। বর্তমানে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তাতে অনেক পেশাদার কর্মকর্তা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; এর মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাও রয়েছেন। পুলিশের বদলি-পদোন্নতির তালিকায় কেবল ‘বঞ্চিতরাই’ আসছেন না; ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং নানা তদবিরেও নাম ঢুকছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির আড়ালে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনীতে রূপান্তর করতে সাহায্য করেছে, তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সরকার সহযোগিতা করবে — মাহ্দী আমিন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় পুলিশের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক বলপ্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যে বিরূপ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সে কারণে সংকট এখনো রয়ে গেছে। এটি দূর করা না গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অনেক সময় লাগবে। এজন্য প্রয়োজন পুলিশের যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সংস্কার এবং পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবক হিসেবে পুনরায় গড়ে তোলা। সেই সঙ্গে পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। স্বৈরাচার সরকারের যারা তাবেদারি করেছে, সেসব পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নেপথ্যে থেকে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং খুন-গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনমনে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে এবং তৈরি হবে হতাশা।
নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করে রাখা হয়েছিল। ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করা বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আমাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে পদায়নও দেওয়া হয়নি। বিএনপি সরকার গঠনের পর আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় ফ্যাসিবাদের দোসররা ফের পুনর্বাসন হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন