০৭:১২ পি.এম
গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, শিক্ষানুরাগী, সাহিত্যিক ও বাউল সাধক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ' জীবন ও কর্ম ' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সেমিনারের আয়োজন করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় জাদুঘরের সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগের কীপার শক্তি পদ হলদার। আলোচক ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ড. শওকত ইমাম খান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতারের সভাপতিত্বে এবং কুমারখালী তাঁতবোর্ডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন থানার ওসি জামাল উদ্দিন, কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ৪র্থ বংশধর অশোক মজুমদারের সহধর্মিণী গীতা রাণী মজুমদার। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতিজাদুঘরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাপস কুমার মণ্ডল।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
আলোচক ড. শওকত ইমন খান বলেছেন, কাঙ্গাল হরিনাথ আমাদেরকে শিখিয়েছে কিভাবে ক্ষমতার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সত্যের পথে লড়তে হয়। আজকের যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা স্বাধীন এবং নির্ভিক সাংবাদিকতার কথা বলি, তখন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার আমাদের অন্যতম বড় প্রেরণা।
উল্লেখ্য, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার কুষ্টিয়া জেলার গড়াই তীরবর্তী কুমারখালী গ্রামের কুণ্ডুপাড়ায় ১২৪০ বঙ্গাব্দ ও ২২ জুলাই ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। আর্থিক টানাপোড়নে বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি তিনি। কিন্তু তরুণ বয়স থেকেই মানবতার সেবায় অসহায় মানুষের পক্ষে কাজ শুরু করেন। সেসময় ব্রিটিশ শাসকদের নির্যাতনের শিকার গ্রাম-বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষের কথা লিখতে থাকেন ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায়।
অবহেলিত সমাজের বৈষম্য ও জমিদারদের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে তিনি প্রথম ১৮৬৩ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর প্রাচীন জনপদের নিভৃতগ্রাম থেকে সংবাদপত্র ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশ করেন। প্রথমে মাসিক পরে পত্রিকাটি পাক্ষিক ও তার কিছু পরে সাপ্তাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। এক পয়সা মূল্যের এই পত্রিকাটিতে কাঙাল হরিনাথ অবিরাম নীলকর ও জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারের জমিদারের নানা অনাচার-অত্যাচারের কথা প্রকাশ করতে থাকেন।
পত্রিকাটি প্রকাশের সুবিধার্থে তিনি ১৮৭৩ সালে কুষ্টিয়ার এম.এন প্রেস নামে একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন। একদিকে অর্থের অভাব অন্যদিকে সরকারের কঠোর মুদ্রণনীতি ও নানা বিরোধিতায় মাসিক, পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক হিসেবে কয়েক পর্যায়ে প্রায় ২২ বছর প্রকাশের পর ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ বন্ধ হয়ে যায়। সেই উনিশ শতকে গ্রাম বাংলার নির্যাতিত গণমানুষের পক্ষে ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ –এর কারণেই সাংবাদিকতার জগতে কালজয়ী কাঙাল হরিনাথ। ১৮৯৬ সালের ১৬ এপ্রিল পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন