০৯:৩৬ পি.এম
মরটসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। পথে যানজটের কারণে তার মটরসাইকেল আটকে যায়। এতে ধৈয্য হারিয়ে তিনি তার সামনে থাকা ব্যাক্তিগত গাড়িকে (প্রাইভেট কার) ধাক্কা দিতে থাকেন। এক পযায়ে গাড়ির চালক বার বার ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এঘটনার পর ছাত্রদল সভাপতি ও তাঁর দলবল গাড়ি আটক করে দফায় দফায় গাড়ির চালককে মারধর করেন। মঙ্গলবার (৯জুন) সোয়া ১২টার দিকে পৌর শহরের পলি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে। মারধরের শেষে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য চালক দিয়ে গাড়িটি নিয়ে যায় ছাত্রদল সভাপতির লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, বাউফল কালাইয়া সড়কের একটি কালো প্রাইভেট কার কালাইয়া যাচ্ছিলেন। যানজটের কারণে হাসপাতালের রোডের পলি ডায়াগনষ্টিকের সামনে গাড়িটি আটকে যায়। ওই গাড়ির পিছনে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদের রয়েল ইনফিল্ড ক্লাসিক মডেলের কালো রঙের একটি গাড়ি ছিল। যানজটে আটকে পড়ে ফাহাদ বার বার সামনের প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দিতে থাকেন। পরে ছাত্রদল সভাপতি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন গাড়ির চালক গাড়ির দরজা খুলে ছাত্রদল সভাপতির হাত ধরে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ। তাঁর স্ত্রীকে অদূরে নামিয়ে দিয়ে আসার পর প্রাইভেট কার রাস্তার ওপর আটকে রাখেন। কিছু সময়ের মধ্যে ফাহদের লোকজন এসে প্রাইভেট কারের চালক মো. শাহীনকে মারধর শুরু করেন। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে পাশের একটি হোটেলে নিয়ে গেলে সেখানে গিয়েও তাঁকে মারধর করেন ছাত্রদল সভাপতি। স্থানীয়রা ওই চালককে রক্ষা করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হন ছাত্রদল সভাপতি ও তার সঙ্গী। গাড়ির চালক শাহিন মিয়ার কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য এক চালক দিয়ে গাড়িটি নিয়ে যান। বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
গাড়ির মালিক, কালাইয়া বন্দর হাট ইজারাদার ও হিসাববিদ মো. রাজিব আহসান বাবু বলেন, "প্রায় ৫ কোটি টাকা ইজারা মূল্য দিয়ে আমি কালাইয়া হাটের ইজারা নিয়েছি। ইজারা নেওয়ার পর থেকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ চাদা দাবি করে আসছিলেন। চাদার টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে জামেলা সৃষ্টি করে। আমার চালককে বেধরক মারধর করে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সহ আমার গাড়ি ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ আমার গাড়ির চাবি উদ্ধার করে দিলেও গাড়িতে থাকা টাকা, ব্যাংকের চেক সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।"
টাকাসহ গাড়ি ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, "তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে কালাইয়া যাওয়ার পথে সৌদিয়া বিপণিবিতানের সামনে পৌঁছালে যানজটে পড়েন। সামনে কালো রঙের একটি গাড়ি ছিল। এ কারণে তিনি যেতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে গাড়ির পাশ দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, তখন কালো গাড়িটির চালক তাঁর (ফাহাদ) হাত ধরে টান দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তবে তিনি (ফাহাদ) কারো গাড়িতে ধাক্কা দেননি।" টাকাসহ গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহাদ আরও বলেন, "তাঁকে (ফাহাদ) ও তাঁর স্ত্রীর হত্যার উদ্দেশ্যে চলন— মোটরসাইকেল থেকে তাঁর হাত ধরে টান দেওয়া হয়েছে।"
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন