প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে মন্ত্রিপরিষদে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে দেখতে চান জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিষয়টি বর্তমানে মাদারীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় সম্ভাব্য মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নাম। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলে জনপ্রিয়তার কারণে তিনি মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
বিগত সরকারের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুর-৩ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেরই অভিমত, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে তখনই তিনি বিজয়ী হতেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রেখে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তার বিরুদ্ধে ২৩৭টি মামলা দায়ের করা হয় এবং একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। এছাড়া তাকে গুমের শিকার হতে হয়েছে বলেও নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। কঠিন নির্যাতন, মামলা ও কারাভোগের পরও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং আন্দোলন-সংগ্রামে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও মাদারীপুরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে বড় বড় শোডাউন আয়োজনের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। ফলে তৎকালীন সরকারের নজরদারির কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাউছ-উর রহমান বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ। তিনি নিশ্চয়ই রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়ন হলে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আলোচনায় তার নাম উঠে এসেছে। মাদারীপুরবাসীর প্রত্যাশা, জেলার উন্নয়ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তিনি ভবিষ্যতে পূর্ণমন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের মতে, মাদারীপুরের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং জাতীয় পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের মতো পরীক্ষিত ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতার মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্তি সময়ের দাবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন