০৬:১৭ পি.এম
বেলা ৩টা ১৫ মিনিট। সরকারি অফিসের সময় তখনো শেষ হয়নি।
তবুও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রধান ফটক বাহির থেকে বন্ধ ছিল। ভেতরে ডাকাডাকি করেও কারো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। অফিসের সামনে চায়ের দোকানে থাকা কয়েকজন দালালকে জিজ্ঞেস করলে তাদের মধ্যে রাজ্জাক নামের একজন জানালেন, ‘স্যার ঘুমাচ্ছেন।’
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিন তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
ডাকাডাকি করে না পাওয়ায় রাজ্জাক নামের ওই ব্যক্তি প্রতিবেদককে ভূমি কর্মকর্তার একটি মোবাইল নম্বর দেন। তবে ওই নম্বরে তিনবার ফোন করা সত্ত্বেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে রাজ্জাক অফিসের ভেতরে গিয়ে কর্মকর্তাকে ডেকে তোলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি এসে বলেন, ‘চলেন, স্যার ঘুম থেকে উঠেছেন।’
পরে অফিসে প্রবেশ করে দেখা যায়, ঘুম থেকে উঠে চেয়ারে বসেছেন তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম।
সরেজমিনে আরও জানা যায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি অফিসের সময় থাকলেও তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের গেট বাইরে থেকে বন্ধ রাখা হয়। অফিসের সামনে একটি চায়ের দোকানেও নিয়মিত কয়েকজন দালালের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে মোট ২৫টি মৌজা রয়েছে। সরকারি জমির পরিমাণ ১৩৯ দশমিক ০৯ একর। এ এলাকার জমির মূল্য তুলনামূলক বেশি এবং এখানে নিয়মিত জমি কেনাবেচা হয়। তবে নামজারি ও জমিভাগের মতো সেবা নিতে সরাসরি অফিসে ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর কারণে অনেক সেবাপ্রার্থী সরাসরি ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন না।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নামজারি ও অন্যান্য কাজে অফিসে গেলে নানা ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে কাজ করলে তুলনামূলকভাবে সহজে কাজকর্ম সম্পন্ন হয়।
তদন্তে জানা যায়, তুমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ২০২২ সালের ২৯ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় ধরে ওই পদে নতুন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে আসেননি।
অফিসের সময় গেট বাহির থেকে বন্ধ রাখা এবং ঘুমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিসের কেচিগেট বন্ধ থাকলেও ভেতরে কাজ করছিলাম।’ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি জানান, ‘এই পদে কেউ আসেন না। তাই আমিই আছি।’
অফিসে দালালের উপস্থিতির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তবে সরেজমিনে তার সামনে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন