মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০১:০০ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশু মো. আদনান মাত্র ৮৮ দিনে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তার এই অসাধারণ সফলতার কারণে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজমান রয়েছে।
আদনান কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার রানীর বাজারে অবস্থিত একটি হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী। মাদরাসার কর্তৃপক্ষ জানায়, নূরানী ও নাজেরা শিক্ষা শেষ করার পর চলতি শিক্ষাবর্ষে সে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়েছে। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, কঠোর পরিশ্রম ও মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের কারণে মাত্র ৮৮ দিনে পুরো কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, আদনানের মুখস্থ অত্যন্ত মজবুত। বর্তমানে তাকে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর হিফজ বোর্ড পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের মতে, আদনানের একাগ্রতা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং কুরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা তার এই অসাধারণ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
আদনানের এই অর্জন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দোয়া করেছেন এবং কুরআনের খেদমতে সে আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসা ফুটপাথে পানি বিক্রেতা সংগ্রামী কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্প্রতি, সুজন পানি বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের বাবাকে পবিত্র হজে পাঠানোর আকুল ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এই কিশোরের সেই ভিডিওটি নজরে আসা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী শিশুটির স্বপ্নপূরণ ও তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক নির্দেশনার আলোকেই সোমবার (২০ জুলাই) জিয়া উদ্যানে সংগ্রামী কিশোর সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অনুদান হস্তান্তরকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সুজনকে জানান যে, তাকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে পাঠানো হবে না, বরং নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর জন্য তার পরিবারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি সুজনের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন।
প্রতিমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর সুজনের বাবা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি তার ছেলেকে আর কখনো রাস্তায় পানি বিক্রি করতে দেবেন না। বরং অবিলম্বে তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন।
এসময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমাজের ছোট ছোট মানবিক বা প্রান্তিক বিষয়গুলো সবসময় তার নজর এড়ায় না। একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনের বা সমাজের যেকোনো মানবিক ইস্যু সামনে এলেই প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার ও সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী ও দরদী নির্দেশনায় গত পাঁচ-সাত বছর ধরে এই ধরনের অসংখ্য মানবিক কাজ চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুজন পানি বিক্রি করে তার বাবাকে হজ করাতে চায়—এটি অত্যন্ত মহৎ এবং বড় একটি নিয়ত। তবে তারা চান সুজন যেন ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে, বরং ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হোক এবং নিজের যোগ্যতায় উপার্জন করে তার বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করুক।
সুজনের পরিবারে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার কষ্টের কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এখন থেকে সুজনকে আর রাস্তায় নামতে হবে না। তার পড়াশোনা ও পুরো পরিবারের সুন্দরভাবে দিনযাপনের জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক অনুদান সরাসরি সুজনের বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সুজন পড়াশোনা করে একদিন তার লালিত স্বপ্ন পূরণ করবে, এমন প্রত্যাশার কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ৩৮০ গ্রাম গাঁজাসহ ছয়জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে উপজেলার খড়রমপুর মাজারসংলগ্ন এলাকা, যেখানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়, সেখান থেকে ৩৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ইমরান হোসেন ইমন (২২), মো. মোবারক (৪৫), মো. কামাল হোসেন (৪৫), মো. বাবুল (৪৫), নাছির মিয়া (৪০) এবং মো. তৌফিকুল ইসলাম (৪৮)।
পরে আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অনুসারে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আটক ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আরও জোরালোভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৪৮০টি পরিবার করে মোট ২,৪০০টি পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। এতে মোট ৬০ হাজার কেজি চাল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এ সময় তাঁর রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আবুল কাওসার আশাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে সবাই চিকিৎসা পেতে পারে। গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য কোথাও যেতে না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। সরকারি হাসপাতাল যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে।
একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উচিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হওয়া, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। এটি ছিল প্রথমবার, যখন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে নিজে গিয়ে বৈঠক করলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে, তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সে বিষয়ে উপস্থাপন করেন।
তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাতকে একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বৈঠকে আলোচনা হয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অভিযোগ দেখা যায়, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।
এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা প্রয়োজন।
সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে সবাই চিকিৎসা পায়, সেই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।
উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, প্রধানমন্ত্রী কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে, জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলোকে ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
এই কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় গণপূর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ