ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী


পানি বিক্রি করে বাবাকে হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসা ফুটপাথে পানি বিক্রেতা সংগ্রামী কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি, সুজন পানি বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের বাবাকে পবিত্র হজে পাঠানোর আকুল ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এই কিশোরের সেই ভিডিওটি নজরে আসা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী শিশুটির স্বপ্নপূরণ ও তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর মানবিক নির্দেশনার আলোকেই সোমবার (২০ জুলাই) জিয়া উদ্যানে সংগ্রামী কিশোর সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

আরও পড়ুন: সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনুদান হস্তান্তরকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সুজনকে জানান যে, তাকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা কায়িক শ্রমে পাঠানো হবে না, বরং নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর জন্য তার পরিবারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। এছাড়া তিনি সুজনের পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেন।

প্রতিমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পর সুজনের বাবা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি তার ছেলেকে আর কখনো রাস্তায় পানি বিক্রি করতে দেবেন না। বরং অবিলম্বে তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন।

এসময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমাজের ছোট ছোট মানবিক বা প্রান্তিক বিষয়গুলো সবসময় তার নজর এড়ায় না। একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনের বা সমাজের যেকোনো মানবিক ইস্যু সামনে এলেই প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার ও সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এমন দূরদর্শী ও দরদী নির্দেশনায় গত পাঁচ-সাত বছর ধরে এই ধরনের অসংখ্য মানবিক কাজ চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুজন পানি বিক্রি করে তার বাবাকে হজ করাতে চায়—এটি অত্যন্ত মহৎ এবং বড় একটি নিয়ত। তবে তারা চান সুজন যেন ফুটপাথে পানি বিক্রি না করে, বরং ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হোক এবং নিজের যোগ্যতায় উপার্জন করে তার বাবা-মায়ের এই স্বপ্ন পূরণ করুক।

সুজনের পরিবারে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার কষ্টের কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এখন থেকে সুজনকে আর রাস্তায় নামতে হবে না। তার পড়াশোনা ও পুরো পরিবারের সুন্দরভাবে দিনযাপনের জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক অনুদান সরাসরি সুজনের বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সুজন পড়াশোনা করে একদিন তার লালিত স্বপ্ন পূরণ করবে, এমন প্রত্যাশার কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখাউড়ায় ৩৮০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৫ এম


আখাউড়ায় ৩৮০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ৩৮০ গ্রাম গাঁজাসহ ছয়জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে উপজেলার খড়রমপুর মাজারসংলগ্ন এলাকা, যেখানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়, সেখান থেকে ৩৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ইমরান হোসেন ইমন (২২), মো. মোবারক (৪৫), মো. কামাল হোসেন (৪৫), মো. বাবুল (৪৫), নাছির মিয়া (৪০) এবং মো. তৌফিকুল ইসলাম (৪৮)।

পরে আখাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অনুসারে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আটক ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আরও জোরালোভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার হিসেবে ২,৪০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারভিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জেলা

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৭ এম


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার হিসেবে ২,৪০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৪৮০টি পরিবার করে মোট ২,৪০০টি পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। এতে মোট ৬০ হাজার কেজি চাল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এ সময় তাঁর রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আবুল কাওসার আশাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি হাসপাতাল যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৯ এম


সরকারি হাসপাতাল যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে সবাই চিকিৎসা পেতে পারে। গ্রামীণ মানুষের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য কোথাও যেতে না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। সরকারি হাসপাতাল যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়, এটা নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উচিত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হওয়া, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করেন। এটি ছিল প্রথমবার, যখন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অডিটোরিয়ামে নিজে গিয়ে বৈঠক করলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে, তিনি বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যখাতে গত ৫ মাসের অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। তারা সে বিষয়ে উপস্থাপন করেন।

তারা জানান, বিগত সরকার স্বাস্থ্যখাতকে একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বৈঠকে আলোচনা হয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অভিযোগ দেখা যায়, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।

এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা প্রয়োজন।

সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়া খুব সহজে সবাই চিকিৎসা পায়, সেই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা হয়।

উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, প্রধানমন্ত্রী কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে, জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলোকে ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

এই কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় গণপূর্তের প্রকোশলীরা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিতসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৫ এম


সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি উল্লেখ করেন, 'সবচেয়ে বড় কথা যেটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেটা হলো—আমরা সবাই মিলে যে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।' মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, 'জুলাই সনদ, যেটিতে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে, সেটিও অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।'

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় ও নৈশভোজের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে বিএনপির সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় ও নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, 'এই আয়োজন ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান রাজনৈতিক সংগ্রামকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করবে।'

বৈঠকের পরিবেশকে আবেগঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে অনেক নেতাকর্মী কারা বরণ করেছেন, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিই বৈঠককে আবেগঘন করে তুলেছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে উপস্থিত প্রত্যেক নেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন। একই সঙ্গে শরিক রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারের প্রথম পাঁচ মাসের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ তাদের অবদান চিরকাল স্মরণ রাখবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততা ও অগ্রাধিকারমূলক কাজের কারণে সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে সব শরিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

তবে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের জন্য আগামীতে আরও নিয়মিতভাবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি এবং 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচি পুনরায় চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের পাশাপাশি সরকারকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছেন।'

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ এবং আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, যা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা ঐক্যের ধারাবাহিকতাকেই প্রতিফলিত করে।

এসময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%