১০:২০ এম
ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার আইসল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন, যা আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে আরও জোরালো করার উদ্দেশ্যে।
এই সফরটি ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিরাপত্তা চুক্তি করার মাত্র দুই সপ্তাহ পর আইসল্যান্ড যাচ্ছেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, রুবিও আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিতে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা’ করবেন।
আরও পড়ুন: আমাজন রেইনফরেস্টে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ বছরের প্রাচীন শিলাচিত্র, আট মাইল বিস্তৃত ‘প্রাচীনকালের সিস্টিন চ্যাপেল’
এই সংক্ষিপ্ত সফরটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
চুক্তির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার হুমকি আপাতত স্থগিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আগ্রহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল।
নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আরও দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড মার্কিন নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব বলয়ের আরও কাছাকাছি চলে আসবে।
আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: ইরানে কবে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, জানা গেল ৯ নভেম্বর তারিখ
আগস্টের শেষ দিকে আইসল্যান্ডের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ভোটে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ এর বিপক্ষে এবং ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে ভোট পড়ে।
২০১৩ সাল থেকে ইইউতে যোগদানের আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
মার্কো রুবিও ২০২১ সালে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পর আইসল্যান্ড সফরে যাওয়া প্রথম মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইসল্যান্ড ১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী নেই। দেশটি নিরাপত্তার জন্য ন্যাটো ও ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে ট্যাংকারে হামলা, নিহত ১ নাবিক
আইসল্যান্ড সফর শেষে রুবিও গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে যাবেন। সেখানে ন্যাটোর সদস্য গ্রিসের সঙ্গে ‘কৌশলগত সংলাপে’ অংশ নেবেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্ব পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন