০৪:১৬ এম
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই ভয়াবহ সংঘাতটি ঘটেছে রোববারের (১২ জুলাই) দিনে, যার ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি ভেস্তে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত সামরিক ঘাঁতি কিশ দ্বীপে ১০টিরও বেশি শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কিশ শহরের গভর্নর হোসেন আমির তৈমুরি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘রোববার (১২ জুলাই) বিকাল থেকে কিশ দ্বীপে ১০ থেকে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে লক্ষ্যবস্তুগুলো সম্পূর্ণ সামরিক ছিল এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের ড্রোন ও মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, গোলাবারুদের ডিপো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোর তুলনায় রোববারের এই হামলা ছিল অনেক বেশি বিধ্বংসী।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হামলার কারণে বাংলাদেশ থেকে ২২ হাজার ২৪১ যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল
এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর নরক নামিয়ে এনেছি।’
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই সংকটের প্রভাব কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা মালাক্কা প্রলালি থেকে শুরু করে বসফরাস প্রণালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলাচলকারী সমস্ত জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তারা জানায়, ‘ইরান এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে না। জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
এটি উল্লেখযোগ্য যে, গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান আন্তর্জাতিক জলসীমা এড়াতে ওমানের উপকূলবর্তী রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছয় হত্যা: হানিফসহ চার আসামির রায় বৃহস্পতিবার
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও তীব্র পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এএফপি এবং স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে মুহুর্মুহু সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কাতার জানিয়েছে, ইরানি হামলায় তাদের ৩ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, জর্ডান নিশ্চিত করেছে যে, ৩টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দেশের অভ্যন্তরে এসে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি। কুয়েতও জানিয়েছে যে, তারা সম্ভাব্য হামলা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কাজ করছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এবার ওমানেও আঘাত হেনেছে—যা অত্যন্ত নজিরবিহীন। এই ঘটনার পরপরই ওমান সরকার তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। ওমানের মাটিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈঠক হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ছাত্রলীগের ৪ নিষিদ্ধ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন