মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১১:২৩ এম
সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের চার সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নাসিরনগর উপজেলা শাখার সভাপতি নিহারেন্দু চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক কাজী আরিফ এবং সরাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রওনক খান।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টেঙ্কেরপাড়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক সমন্বয় সভায় তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনামুল হক আরিফের পক্ষ থেকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা শাখার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় গ্রাম পুনর্বহালের দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় রেলপথ-সড়ক অবরোধ, বন্ধ ট্রেন চলাচল
রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৪ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় গ্রাম পুনর্বহালের দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় রেলপথ-সড়ক অবরোধ, বন্ধ ট্রেন চলাচল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহালের দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় রেলপথ এবং আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয়দের দাবি, অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ দুটি রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি বড় আয়োজন করেছিল। কিন্তু এই উদ্যোগের ফলে ভারত বিপাকে পড়েছে। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের জন্য দুটি প্রীতি ম্যাচের পুরো পারিশ্রমিক এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
গত ৩ নভেম্বর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ৬ নভেম্বর সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে ভারত। উভয় ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতায়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামার বিপক্ষে একটি ম্যাচও খেলেছিল ভারত। পানামা পুরো পারিশ্রমিক বুঝে পেলেও ব্রাজিল ও উরুগুয়ে এখন পর্যন্ত পাওনা অর্থের অর্ধেকই পেয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইএফএফের কাছে ব্রাজিলের জন্য প্রায় ১৯ কোটি রুপি এবং উরুগুয়ের জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ রুপি দেনা রয়েছে। মূলত টিকিট বিক্রি থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় এআইএফএফ আর্থিক সংকটে পড়েছে।
ভারত ম্যাচগুলো থেকে ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপি আয়ের আশা করেছিল। কিন্তু টিকিটের চড়া দামের কারণে দর্শকদের আগ্রহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। পরে কলকাতার তিন ক্লাব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকদের জন্য ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হয়। ব্রাজিলের ম্যাচে একটি কিনলে আরেকটি বিনা মূল্যে পাওয়ার অফারও চালু করা হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া পরিশোধের জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০ কোটি রুপির একটি স্থায়ী আমানত ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। কিন্তু সভায় সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই অর্থ ব্যবহার করা উচিত নয়। ফেডারেশনের সহসভাপতি এনএ হারিসও মনে করিয়ে দেন, নির্বাহী কমিটি স্থায়ী আমানত থেকে অর্থ না তোলার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল।
এই স্থায়ী আমানতটি প্রফুল প্যাটেলের সভাপতিত্বের সময় করা হয়েছিল। ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত প্যাটেলও আমানত ভাঙার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পরে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হারিসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, টিকিট বিক্রির অংশীদারের কাছ থেকে পাওয়া ২৫ কোটি রুপির অগ্রিম অর্থের একটি অংশও ফেরত দিতে হতে পারে ফেডারেশনকে। কারণ, ওই অর্থ ছিল শর্তসাপেক্ষে ফেরতযোগ্য অগ্রিম।
ভারতে প্রথমবার খেলতে এসে তারকাখচিত দল নিয়ে এসেছিল ব্রাজিল। দলে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, পিএসজির অধিনায়ক মারকিনিয়োস ও চেলসির এস্তেভাও।
এত বড় তারকাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক দায় মেটাতে এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। দেনা পরিশোধের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদনও তারা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউক্রেনকে প্রায় ২১২ বিলিয়ন ডলার সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এই অর্থ বিভিন্ন অনুদান ও ঋণের মাধ্যমে সরাসরি ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য দেওয়া সহায়তা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে, যা ইউক্রেনকে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে ৩০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা করেছে। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে প্রায় ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, জাপানের কাছ থেকে ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, কানাডার কাছ থেকে ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্যদেশ থেকেও দ্বিপক্ষীয় আর্থিক সহায়তা ও ঋণ পেয়েছে কিয়েভ। এর মধ্যে জার্মানি প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, নরওয়ে ৭১৭ মিলিয়ন ডলার এবং ফ্রান্স ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়া বারবার দাবি করে আসছে যে, ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া আর্থিক ও সামরিক সহায়তা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান রোববার বাকু সফরের পরিকল্পনা করেছেন, যা দুই ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র তুরস্ক ও আজারবাইজানের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রকাশ্য কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর লক্ষ্যে। তিনি আজারবাইজানের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করবেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত সেপ্টেম্বর মাসে আজারবাইজান স্কুলের পোশাকবিধিতে পরিবর্তন আনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। নতুন বিধিতে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাকের অতিরিক্ত উপকরণ নিষিদ্ধ করা হয়, যার ফলে শ্রেণিকক্ষে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
অন্যদিকে, তুরস্কের এরদোগান সরকার দেশটিতে হিজাব পরার ওপর পূর্বে থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। আজারবাইজানের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ হয় এবং এর সমালোচনা করে এরদোগানের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ থেকে গড়ে ওঠা ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। দলের নেতাদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওকতায় সারালও ছিলেন, যিনি আজারবাইজানকে ওই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
তবে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের ক্ষমতাসীন দল ইয়েনি আজারবাইজান এসব মন্তব্যকে দেশটির ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বলে নিন্দা জানায়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজারবাইজান সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দেশটি তুরস্কের ৩১ জন নাগরিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তাদের মধ্যে তুরস্কের বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য এবং কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে এরদোগান তার উপদেষ্টা সারালকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। তবে এর পরও গত ৩০ অক্টোবর আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত তুর্কি নেতাদের সম্মেলনে আলিয়েভ যোগ দেননি। এরদোয়ানের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকেন। তার পরিবর্তে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভ সম্মেলনে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান বলেন, ‘বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে ৮ নভেম্বর আজারবাইজান সফরের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এ লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে আলিয়েভের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গোয়েন্দাপ্রধানকে বাকুতে পাঠিয়েছেন।
এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক ও আজারবাইজানের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের পথে কোনো বাধাই টিকে থাকতে পারে না।’
গভীরতর মতপার্থক্য
বিশ্লেষকদের মতে, হিজাব ইস্যুর বাইরেও দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর কিছু মতপার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে আজারবাইজানের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান এবং ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই বিরোধের অন্যতম কারণ।
বাকুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস রিসার্চ সেন্টারের প্রধান এলখান শাহিনোগলু এএফপিকে বলেন, ‘আজারবাইজান ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনার মূল কারণ হলো, বাকু এই জোটে নিজেকে ছোট ভাই হিসেবে দেখতে চায় না। বরং দুই দেশের মধ্যে সমমর্যাদার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।’
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক গনুল তোল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হিজাব নিয়ে বিরোধ আসলে আরও গভীর মতপার্থক্যেরই বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি বলেন, আজারবাইজানের সার্বভৌমত্ব, বাকুর ওপর আঙ্কারার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, ইসরাইলকে ঘিরে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এবং আর্মেনিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইসরাইলের সঙ্গে আজারবাইজানের শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে আজারবাইজানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল ইসরাইল। এতে তুরস্ক অসন্তুষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের প্রতি এরদোগান সরকারের অবস্থান ক্রমেই কঠোর হয়েছে। এরদোগান ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও তুলেছেন।
অন্যদিকে, আর্মেনিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে তুরস্ক। আজারবাইজানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৯৯০-এর দশকে আর্মেনিয়ার সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল আঙ্কারা। বর্তমানে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি যুক্ত করেছে তুরস্ক।
৮ নভেম্বর আজারবাইজানের বিজয় দিবস। ২০২০ সালে আর্মেনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে কারাবাখ অঞ্চলের শুশা শহর দখলের স্মরণে দিনটি পালন করে দেশটি। ওই বিজয়ে তুরস্কের সমর্থন ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তুর্কি ভাষাভাষী এই দুই মিত্র দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’ হিসেবে বর্ণনা করে। সাম্প্রতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও সামরিক ও জ্বালানি খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এখনো দৃঢ় রয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে আজারবাইজানের তেল ও গ্যাস রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে কাজ করছে তুরস্ক।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ আজারবাইজানের অধিকাংশ নাগরিক শিয়া মুসলিম। তবে কয়েক দশকের সোভিয়েত শাসনের প্রভাবে দেশটি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ