০৯:২১ এম
গত সাড়ে ছয় বছরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এনআইডির তথ্য সংশোধনের জন্য মোট ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯৮ শতাংশ আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।
যাইহোক, যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ১৩ লাখ আবেদন বিভিন্ন কারণে বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এ সম্পর্কিত তথ্য একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যা ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৪৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাগরিকরা নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা সহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করেন।
অধিকাংশ আবেদন উপজেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। তবে আবেদনের ধরন এবং জটিলতার ওপর ভিত্তি করে জেলা, আঞ্চলিক অথবা ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এনআইডি সংশোধনের জন্য সর্বাধিক আবেদন জমা পড়েছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত ‘ক’ ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে জমা পড়া আবেদন সংখ্যা ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি, যা মোট আবেদনের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি আবেদন জমা পড়েছে সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত ‘খ’ ক্যাটাগরিতে।
এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ ২ হাজার ৭১৭টি এবং এনআইডি মহাপরিচালকের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৮টি আবেদন জমা হয়েছে।
তাছাড়া, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭২টি এবং অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ১০ হাজার ১০টি আবেদন জমা হয়েছে, যা ছয় ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে কম।
স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসারে এনআইডি সংশোধনের আবেদন ‘ক’, ‘ক-১’, ‘খ’, ‘খ-১’, ‘গ’ এবং ‘ঘ’ এই ছয় ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করা হয়। আবেদনের জটিলতা বিবেচনায় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি নির্ধারণ করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরির আবেদন, বিদেশযাত্রাসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই দ্রুত এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন। যৌক্তিক কারণ উল্লেখ থাকলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিই।’
এদিকে, এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী)কে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। কমিশনের আশা রয়েছে, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে এনআইডি সেবার মান আরও উন্নত হবে।
ইসির সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ, উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন