১১:৫৫ এম
ইরানের প্যারামিলিটারি রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) শক্তিশালী কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি দীর্ঘ এসেছেন আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্যের প্রস্তুতির সময় তাঁকে আবার দেখা গেল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওয়াহিদি শেষকৃত্যের একটি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে খামেনির পুরোনো বাড়ির কাছে একটি ছোট আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ৮৬ বছর বয়সী খামেনির কফিনের পাশে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেল। এর কয়েক সপ্তাহ পরই মূলত যুদ্ধ শুরু হয়।
আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের আলোচনায় তিনি এখন একটি বড় ভূমিকা রাখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখা ঘনিষ্ঠ দলের সদস্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলায় খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা আহত হয়ে এখনো আত্মগোপনে আছেন।
কে এই আহমাদ ওয়াহিদি? ওয়াহিদি বর্তমানে আইআরজিসির নতুন প্রধান। আগের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তিনি এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে তিনি আইআরজিসিতে যুক্ত আছেন। ১৯৮০ সালের দশকে গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীতে তিনি বড় পদে ছিলেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি এলিট কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে এই দায়িত্ব পান কাসেম সোলেইমানি, যিনি ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত হন। আমেরিকা বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খামেনি তাকে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। ওয়াহিদি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মাহমুদ আহমাদিনেজাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ইব্রাহিম রাইসির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনি ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার একজন আপসহীন ও কট্টর সমর্থক। সাংবাদিক মোহাম্মদ আলি শাবানি তার সম্পর্কে বলেছেন, আগের কমান্ডাররা ওয়াহিদির তুলনায় ছিলেন স্রেফ ‘স্কুলশিক্ষক’।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন