ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিত্রনায়িকা জাকিয়া মুনের বাসায় চুরি


চিত্রনায়িকা জাকিয়া মুনের বাসায় চুরি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে চিত্রনায়িকা জাকিয়া মুনের বাসায় ঘটিত চুরির ঘটনায় পেশাদার চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টার দিকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জের নির্দেশনায় শ্রীনগর থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে ৯৩ পূজামণ্ডপকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করেছে এসআরবি

গ্রেপ্তারকৃত সদস্যদের মধ্যে দামলা এলাকার মো. সামির শেখ (২২), মো. শরীফ মীর (২৫), জসুরগাঁও এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৫) এবং শ্যামসিদ্দি এলাকার ফিরোজ (৪৫) রয়েছেন।image

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ মে থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো এক সময়ে চিত্রনায়িকা জাকিয়া কামাল মুনের বাসা থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় মামলার পর শ্রীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের কাছে চুরির সময় নেওয়া ১টি আইপিএস ব্যাটারি, ১টি আইপিএস মেশিন, ২টি ফ্যান এবং ১টি প্রজেক্টর উদ্ধার করে, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম নয়।

আরও পড়ুন: সালথা উপজেলা যুবদলের নতুন ৩৫ সদস্যের কমিটি, আহ্বায়ক হাসান আশরাফ ও সদস্য সচিব এনায়েত

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমির খানের বিয়ে নিয়ে সালমানের সেই পুরোনো ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


আমির খানের বিয়ে নিয়ে সালমানের সেই পুরোনো ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ভাইরাল

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান অবশেষে তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে নতুন জীবনে পা রেখেছেন। গত রবিবার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে আইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এই অভিনেতা।

আমিরের এই নতুন ইনিংস শুরুর পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ ভাইরাল হয়ে উঠেছে বলিউড ভাইজান সালমান খানের পুরোনো একটি মজার মন্তব্য। এক শোতে আমির খানকে নিয়ে সালমানের করা সেই রসাত্মক মন্তব্যটিই এখন বলিপাড়ার প্রধান রসদ।

জনপ্রিয় কমেডি অনুষ্ঠান ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে হাজির হয়ে সালমান খান আমিরের বিয়ে নিয়ে এই মজাদার মন্তব্যটি করেছিলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কপিল শর্মা রসিকতা করে সালমানকে বলেছিলেন, আমির স্যার তো সবাইকে তার প্রেমিকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, অথচ সালমান তার চেয়ে ছয় মাসের ছোট হয়েও বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না। কপিলের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বভাবসুলভ হাসিতে সালমান উত্তর দেন, আমিরের ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। পুরো পৃথিবী জানে ও কতটা খুঁতখুঁতে এবং পারফেকশনিস্ট। আমির যতক্ষণ না বিয়ে নামক বিষয়টিকে একদম নিখুঁত ও পারফেক্ট করতে পারবে, ততক্ষণ ও একের পর এক বিয়ে করতেই থাকবে।

সালমানের সেই মজার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ যেন সত্যি হলো এই রবিবারে। আমিরের এই অন্তরঙ্গ বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন তার আগের দুই সংসারের তিন সন্তান— জুনায়েদ খান, ইরা খান ও আজাদ রাও খান। এ ছাড়া জামাতা নূপুর শিখরে ও আমিরের মা-সহ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও বন্ধুরা এই আনন্দের মুহূর্তে শামিল হন। চলচ্চিত্র নির্মাতা আশুতোষ গোয়ারিকর, ক্রিকেটার ইরফান পাঠান এবং রাজনীতিবিদ রাজ ঠাকরের মতো ব্যক্তিত্বরাও নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে আমিরের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবার গৌরীর সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির খান। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, গৌরীর সঙ্গে তার ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের চেনা-জানা থাকলেও অলক্ষ্যে জমে থাকা সেই বন্ধুত্ব সম্প্রতি এক নিবিড় ভালোবাসায় রূপ নেয়, যা অবশেষে বিয়ে পর্যন্ত গড়াল।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা

গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনায় মামলা, এলাকায় বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনায় মামলা, এলাকায় বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের আসামি করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সোমাবার (৬ জুলাই) রাতে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত সিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসেবন এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছেন। তাদের দাবি হল, সিজানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার উদ্দেশে আটক করা হয়েছিল। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু ঘটনার পরে মসজিদের ইমাম, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং নিরীহ এলাকাবাসীকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা হয়রানিমূলক। বিক্ষোভ মিছিলটি পশ্চিম মাসদাইরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে এক মাছ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সিজান ও তার সহযোগীরা একাধিকবার নিজের কাছ থেকে ছিনতাই ও জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে। এক নারী পোশাক শ্রমিক বলেন, সিজান ও তার সহযোগীদের কারণে সন্ধ্যার পর এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাচল নিরাপদ ছিল না। সমাবেশ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, 'নিহত সিজানের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে সিজানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তার মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মসজিদের ইমামসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনতাই ও বিক্রির বিষয়ে সিজানের একটি কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরেই ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় বলে তারা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ পি.এম


ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা, যেভাবে বেঁচে ফিরল ১২ বছরের কিশোরী

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়েছিল ১০ তলা আবাসিক ভবন। ১২ বছর বয়সী ফাবিয়ানা ব্লাঙ্কো অলৌকিকভাবে ৩২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে আটকে থেকেও বেঁচে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর, সে জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা একটি কেচাপের বোতল ও কিছু কুচানো চিজ খেয়েই সে বেঁচে ছিল।

ফাবিয়ানার মা কারিনা ব্লাঙ্কো তখন স্পিনিং ক্লাস নিতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মাটি কাঁপতে শুরু করে। প্রথমে হালকা কম্পন হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।

কারিনা বলেন, “ভূমিকম্পের তীব্রতা বুঝতে পেরেই আমি শুধু চিৎকার করছিলাম- ‘আমার মেয়ে, আমার মেয়ে।’ তারপর গাড়িতে উঠে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ির দিকে ছুটে যাই।”

সেদিন বাড়িতে একাই ছিল ফাবিয়ানা। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, যা এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলার অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুহূর্তেই ধসে পড়ে ১০ তলা ভবন। উত্তরাঞ্চলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের কারাবালেদায় যখন কারিনা বাড়িতে পৌঁছান, তখন তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান।

তিনি বলেন, “একটি ভবন দেখলাম, তারপর যেখানে আমাদের ভবন ছিল সেখানে শুধু ফাঁকা জায়গা, এরপর আরেকটি ভবন। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, পুরো ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।”

ভূমিকম্পের সময় কিভাবে ফাবিয়ানা তার মায়ের শোবার ঘরে ছিল, সে জানায়, কম্পন অনুভব করে সে রান্নাঘরে ছুটে যায় এবং রান্নাঘরের কাউন্টার আঁকড়ে ধরে। ঠিক তখনই চারপাশের দেয়াল ধসে পড়ে এবং সে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

ফাবিয়ানা স্মৃতিচারণ করে বলে, “সবকিছু কাঁপছিল, ভেঙে পড়ছিল। দেয়ালে ফাটল ধরল, পাশের ফ্ল্যাটের দেয়াল ভেঙে পড়ল। তখন মনে হয়েছিল, আমি মারা যাব। কেউ আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না।”

ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩২ ঘণ্টার বিভীষিকা কাটাতে হয়েছে তাঁকে। একটু পরে বাড়ির বাইরের দিকে এসে কারিনা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মেয়ের বিছানার অর্ধেক অংশ দেখতে পান।

তিনি বলেন, “আমি পুরো এলাকাজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছিলাম আর চিৎকার করছিলাম- ‘আমার মেয়ে মারা গেছে।’ তখন আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না।”

অন্যদিকে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা চিত হয়ে আটকে ছিল। চারপাশে ছিল কংক্রিটের স্তূপ আর ছাদের ভাঙা অংশ, যা প্রায় তার মুখের সঙ্গে লেগে ছিল।

সে বলে, “আমি খুব সহজেই দমবন্ধ লাগা বা আতঙ্কে ভুগি। কিন্তু তখন অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। হয়তো মস্তিষ্ক তখনও ধাক্কা সামলাচ্ছিল।”

কিছুক্ষণ পর, ওপরতলার বাসিন্দাদের পরিচর্যাকারী এক নার্স জীবিত কেউ আছে কি না জানতে চিৎকার করতে থাকেন। ফাবিয়ানা সাড়া দিলে তিনি তাকে সাহস জোগান।

ছয় ঘণ্টা পর, মধ্যরাতের দিকে ওই নার্সকে উদ্ধার করা হয়। বাইরে এসে তিনি উদ্ধারকর্মীদের জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে ফাবিয়ানা নামে একটি মেয়ে এখনও জীবিত রয়েছে।

এ খবর শুনে কারিনার জীবনে যেন নতুন আশার আলো ফিরে আসে।

তিনি বলেন, “আমি তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলাম, যেন ফাবিয়ানাকে ছাড়া নতুন জীবন শুরু করার শক্তি পাই। ঠিক তখনই কেউ এসে বলল- ‘আপনার মেয়ে বেঁচে আছে’।”

ফাবিয়ানা জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে সে কোনও আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল না।

সে জানায়, “কী কারণে জানি না, কিন্তু আমার মনে আশা ছিল। একটি পা অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো অবস্থায় ছিল। সেটি সোজা করতে গিয়ে কিছু ইট-পাথর সরাই। তখনই একটি কেচাপের বোতল আর কিছু কুচানো চিজ পাই। সেগুলো খেয়েই আমি জ্ঞান ধরে রাখতে পেরেছিলাম।”

স্বেচ্ছাসেবকই হয়ে ওঠেন নায়ক। পরদিন সকালে দমকলকর্মীরা এসে ফাবিয়ানাকে খুঁজলেও তার কোনও সাড়া পাননি। পরে তারা জানিয়ে দেন, আর কিছু করার নেই।

কারিনা বলেন, “তখন মনে হচ্ছিল হয়তো দমবন্ধ হয়ে সে মারা গেছে। ঠিক সেই সময় একজন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলেন। তার নাম ভিক্টর। তিনি আমার কাছে সত্যিকারের নায়ক।”

এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে পান ফাবিয়ানা। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও তিনি একটি ভিডিও ধারণ করেন, যাতে পরে সুযোগ পেলে কারও কাছে পাঠাতে পারেন।

ভিডিওতে ফাবিয়ানা বলেন, “রিতামার প্যালেস অ্যাপার্টমেন্ট। ভূমিকম্প হয়েছে। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। কোনও আলো নেই। কেউ আমাদের উদ্ধার করতে আসেনি। আমি একা আছি। অনেক প্রতিবেশীও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। আমাদের সাহায্য করুন।”

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক ভিক্টর ধ্বংসস্তূপের ওপরে উঠে বারবার ডাকতে থাকেন। এবার ফাবিয়ানা তার ডাক শুনে উত্তর দেয়।

ভিক্টর দ্রুত কারিনাকে জানান, তার মেয়ে জীবিত।

কারিনা বলেন, “আমি সবাইকে চিৎকার করে বললাম- ‘আমার মেয়ে বেঁচে আছে।’ এরপর মানুষ দলে দলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।”

৩২ ঘণ্টা পর অলৌকিক উদ্ধার। এরপর আরও কয়েকটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত নেমে আসার পরও উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়নি।

কারিনা টর্চলাইটের ব্যবস্থা করেন। কিছু মোটরসাইকেল ও গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ধ্বংসস্তূপ কাটার কাজ চলতে থাকে। অবশেষে ধ্বংসস্তূপে একটি ছোট ছিদ্র তৈরি হয়, যার ভেতর দিয়ে ফাবিয়ানাকে দেখা যায়।

হাসিমুখে সেই ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে থাকা ফাবিয়ানার ভিডিও পরে ভেনেজুয়েলাজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফাবিয়ানা বলেন, “এত ঘণ্টা আটকে থাকার পর যখন উদ্ধারকারীদের দেখলাম, তখন বুঝতে পারলাম আমি বেঁচে ফিরব।”

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত দুইটার দিকে, অর্থাৎ ভূমিকম্পের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা যথেষ্ট বড় একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম হন। সেই পথ দিয়েই ফাবিয়ানাকে জীবিত বের করে আনা হয়।

উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এসে সে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ফাবিয়ানা বলেন, “বাইরে এসে পুরো ভবনটিকে ধসে পড়া অবস্থায় দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও সিনেমা বা টেলিভিশন সিরিজ দেখছি।”

ফাবিয়ানা জানায়, বেঁচে ফিরেছেন মাত্র তিনজন। কারিনা জানান, তাদের ভবনে প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার ওই ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৩৪২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর এখনও নিখোঁজ রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অলৌকিকভাবে ফাবিয়ানার বাম পায়ে একটি হাড় ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে সামান্য আঁচড় ও আঘাত ছাড়া বড় কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সে তার নানীর বাড়িতে রয়েছে। তবে মানসিকভাবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।

ফাবিয়ানা বলে, “শুরুর দিকে চিত হয়ে শুতে খুব ভয় লাগত। তখনই ধ্বংসস্তূপের নিচে কাটানো সময়ের কথা মনে পড়ে যেত।”

বর্তমানে তাদের নতুন বাড়ির আশপাশেও অসংখ্য ধসে পড়া ভবন দেখা যায়। কারিনা বলেন, “চারদিকে শুধু শোক আর কষ্ট। প্রতিবেশী আর বন্ধুদের কথা মনে পড়লে খুব কষ্ট হয়। স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতেই হবে। একজন মায়ের আর কী চাই? আমার মেয়ে বেঁচে আছে- এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

 সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমাদেরকে খুনের পরিকল্পনায় বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


আমাদেরকে খুনের পরিকল্পনায় বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালীন বোমা বিস্ফোরণের পর তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সমাবেশে ওই সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীদের আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় নাবিলা তাসনিদ মাইকে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফুটিয়েছে। আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তিনি এই সরকারকে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলেন, জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তারও জবাব দিতে হবে। তিনি এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবো, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিলেন—পুলিশ প্রশাসন, ডিসি—কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? তিনি জানান, আজকে এখান থেকে আমাদের কয়েকজন ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনব। ঘটনার বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার চাই। কোনো সন্ত্রাসীর ঠিকানা এই সাভারে হবে না। যারা গণহত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনিদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%