০২:৩১ এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : মন্ত্রিসভা বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করেছে। একই সাথে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া, হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, "দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।" সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকায় অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে এটি এখন ক্যাবিনেটে পাস হয়ে বিল আকারে সংসদে যাবে।
সংসদ না থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ দিয়ে কার্যক্রম চালানো গেলেও, সংসদ চালু হলে প্রথম দিনেই তা বিল আকারে পেশ করে পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস ৭ নভেম্বর
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০২৬ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এ এ পর্যন্ত মোট ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে।" সর্বশেষ সংশোধনটি গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে করা হয়।
নতুন সংশোধনে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগ-বঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সভায় ২০২৭ সালের জন্য মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ছুটির মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন- যার মধ্যে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (২টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে।
নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন- যার মধ্যে ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (১টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে। ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ সকাল ১১টায়
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে। সাপ্তাহিক ছুটির ৭ দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যত সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।
বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
এই চুক্তির ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধী আটক ও অন্যান্য আইনি সহযোগিতার পথ সুগম হবে।
আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনে বাস সংকট, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন