০২:৫৯ পি.এম
চট্টগ্রামের পটিয়ায় একই দিনে দুই নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি রহস্যঘেরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একজনকে কবরস্থান থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে পরিণামে তার মৃত্যু ঘটেছে। অন্যদিকে, অপর জনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার শশুরবাড়ি থেকে।
কুসুমপুরা ইউনিয়নের কবরস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর পরিচয় পুলিশ শনাক্ত করেছে। তার নাম সুমী আক্তার (২১)। অন্যদিকে, কোলাগাঁও ইউনিয়নে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূর নাম সোনিয়া আক্তার (৩০)।
এই দুটি পৃথক ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পটিয়া থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পারিবারিক তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং স্বজনদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যাংগার দোকানসংলগ্ন কবরস্থান থেকে স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয় যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
শুরুর দিকে ওই তরুণীর পরিচয় জানা যায়নি, কিন্তু পরে তার স্বজনরা আসার পর দেখা যায়, তিনি সুমী আক্তার (২১)। সুমী কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আইয়ুব আলীর মেয়ে এবং মো. আব্দুল্লাহর স্ত্রী।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. শওকত জানান, প্রায় তিন মাস আগে পাশের এলাকায় সুমীর বিয়ে হয়েছে এবং বিয়ের পর থেকে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সুমী বাবার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে খোঁজার পর, বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেখে পরিবার জানতে পারে যে, পটিয়ার কুসুমপুরা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে অচেতন অবস্থায় এক তরুণী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে जाकर তারা নিশ্চিত হন যে, তিনিই সুমী।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, সুমীকে উদ্ধারের সময় তার পাশ থেকে একটি বিষের বোতলও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে বিষপানের সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাননি।
আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু
আসামান্যভাবে, একই দিনে উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছবির মার্কেট এলাকার আনোয়ার শাহ মাজারসংলগ্ন নিজ বাড়িতে সোনিয়া আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে দুই নাগাদ এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সোনিয়া সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা খাবার খেতে এসে শয়নকক্ষে তাকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যা ৫টার দিকে পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
একই দিনে এই দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সুমী কীভাবে কর্ণফুলী থেকে পটিয়ার কুসুমপুরার কবরস্থানে পৌছাল এবং তার পাশে থাকা বিষের বোতলটি কোথা থেকে আসল, সেই বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, কোলাগাঁওয়ের গৃহবধূ সোনিয়া আক্তারের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, সেটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, একই দিনে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পৃথকভাবে দুটি অপমৃত্যুর মামলা নিবন্ধিত করেছে। কুসুমপুরা থেকে উদ্ধার হওয়া সুমী আক্তারের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরিত হয়েছে। অন্যদিকে, কোলাগাঁওয়ের সোনিয়া আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাও কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে
তিনি আরও জানান, উভয় ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবার, স্থানীয় ব্যক্তিরা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আত্মহত্যা অথবা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেইগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুটি মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন