ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পৃথক অপমৃত্যুর মামলা


দুই নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পৃথক অপমৃত্যুর মামলা

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একই দিনে দুই নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি রহস্যঘেরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একজনকে কবরস্থান থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে পরিণামে তার মৃত্যু ঘটেছে। অন্যদিকে, অপর জনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার শশুরবাড়ি থেকে।

কুসুমপুরা ইউনিয়নের কবরস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর পরিচয় পুলিশ শনাক্ত করেছে। তার নাম সুমী আক্তার (২১)। অন্যদিকে, কোলাগাঁও ইউনিয়নে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূর নাম সোনিয়া আক্তার (৩০)।

এই দুটি পৃথক ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পটিয়া থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পারিবারিক তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং স্বজনদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যাংগার দোকানসংলগ্ন কবরস্থান থেকে স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয় যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।

শুরুর দিকে ওই তরুণীর পরিচয় জানা যায়নি, কিন্তু পরে তার স্বজনরা আসার পর দেখা যায়, তিনি সুমী আক্তার (২১)। সুমী কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আইয়ুব আলীর মেয়ে এবং মো. আব্দুল্লাহর স্ত্রী।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. শওকত জানান, প্রায় তিন মাস আগে পাশের এলাকায় সুমীর বিয়ে হয়েছে এবং বিয়ের পর থেকে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের দাবি। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সুমী বাবার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে খোঁজার পর, বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেখে পরিবার জানতে পারে যে, পটিয়ার কুসুমপুরা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে অচেতন অবস্থায় এক তরুণী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে जाकर তারা নিশ্চিত হন যে, তিনিই সুমী।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, সুমীকে উদ্ধারের সময় তার পাশ থেকে একটি বিষের বোতলও পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে বিষপানের সন্দেহ তৈরি হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাননি।

আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু

আসামান্যভাবে, একই দিনে উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছবির মার্কেট এলাকার আনোয়ার শাহ মাজারসংলগ্ন নিজ বাড়িতে সোনিয়া আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে দুই নাগাদ এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সোনিয়া সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা খাবার খেতে এসে শয়নকক্ষে তাকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।

দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যা ৫টার দিকে পটিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

একই দিনে এই দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সুমী কীভাবে কর্ণফুলী থেকে পটিয়ার কুসুমপুরার কবরস্থানে পৌছাল এবং তার পাশে থাকা বিষের বোতলটি কোথা থেকে আসল, সেই বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে, কোলাগাঁওয়ের গৃহবধূ সোনিয়া আক্তারের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, সেটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, একই দিনে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পৃথকভাবে দুটি অপমৃত্যুর মামলা নিবন্ধিত করেছে। কুসুমপুরা থেকে উদ্ধার হওয়া সুমী আক্তারের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরিত হয়েছে। অন্যদিকে, কোলাগাঁওয়ের সোনিয়া আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাও কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে

তিনি আরও জানান, উভয় ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবার, স্থানীয় ব্যক্তিরা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, আত্মহত্যা অথবা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেইগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুটি মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক বাড়াতে নতুন চুক্তিতে ভারত-জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক বাড়াতে নতুন চুক্তিতে ভারত-জাপান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা, সেমিকন্ডাক্টরের সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত ও জাপান একসঙ্গে একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির যৌথ উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ধাতু, জ্বালানি এবং স্বাস্থ্য খাতে একাধিক চুক্তি সই হয়েছে। ভারতে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে আসা জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। তিনি ষোড়শ ভারত-জাপান বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত সফর করছেন। সংবাদ সম্মেলনে মোদি তাকাইচিকে একজন ‘দূরদর্শী ও জনপ্রিয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাকাইচিকে নিজের ‘ছোট বোন’ বলেও সম্বোধন করেন। মোদি বলেন, তাকাইচির জাপানের নারা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। তার ভাষ্য, ওই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বৌদ্ধ ধর্মের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারত ও জাপানের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে জি-৭ সম্মেলনেও তিনি বলেছিলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে পারস্পরিক বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি। তার দাবি, ভারত ও জাপানের অংশীদারত্ব সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে। ভারতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প খাতের আধুনিকীকরণে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানেরও প্রশংসা করেন মোদি। তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়নের প্রতিটি ধাপেই জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। মোদির ভাষায়, তাকাইচির এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত ও জাপান বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে নেতৃত্ব দিতে চায়। তিনি আরো জানান, আগামী ১০ বছরে জাপান ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে। একই সময়ে ভারতে কার্যক্রম পরিচালনা করা জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মোদি বলেন, প্রযুক্তি খাতই ভারত-জাপান সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। এ কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তিনি জানান, ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এআই প্রতিষ্ঠানও তাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে। মোদির মতে, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও ভারতের সফটওয়্যার দক্ষতা একত্র হলে বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ আরো দ্রুত হবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে মোদি বলেন, ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্প দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে নতুন অধ্যায় তৈরি করবে। তিনি জানান, নৌবাহিনীর জন্য ‘ইউনিকর্ন’ নামে একটি রেডিও অ্যান্টেনা প্রযুক্তি যৌথভাবে উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্প সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখবেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্য খাতেও দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে বলে জানান মোদি। তিনি বলেন, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জীবপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের বৃহৎ উৎপাদনক্ষমতা এবং জাপানের উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মোদি জানান, ভারত-জাপান বায়োগ্যাস উদ্যোগের আওতায় ভারতে এক হাজার বায়োগ্যাস ও জৈব সার কারখানা স্থাপন করা হবে। তার মতে, এই উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশ খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনীতিবিদদের ভুল ধরিয়ে সঠিক পথ দেখানো সাংবাদিকদের দায়িত্ব মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


রাজনীতিবিদদের ভুল ধরিয়ে সঠিক পথ দেখানো সাংবাদিকদের দায়িত্ব মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি ধরে সঠিক পথ দেখানো সাংবাদিকদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে হবে।

তিনি জানান, যে দেশের গণমাধ্যম যত শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্র তত শক্তিশালী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। সেই ভুল তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। এই সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকরা অনেক সময় হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত মূল্যায়নের পরিবর্তে কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের সাফল্য তুলে ধরতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই চলবে না, উপজেলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ও এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলায় একজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলায় একজন গ্রেপ্তার

নড়াইলের চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে নিহত প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার মোল্যার হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরের দিকে যশোর জেলার নারকেলবাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামির পরিচয় হলো আকাশ বিশ্বাস (২৫)। তিনি হলেন নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। প্রতিবন্ধী আনোয়ার, যিনি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের সরকেলডাঙ্গা গ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার পুত্র, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ২ জুলাই সকালেই মারা যান। ঐদিন বিকালে আনোয়ারের মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।

সন্ধ্যায় স্থানীয় মাদরাসা প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ও আসামিদের গ্রেপ্তারসহ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার দাবি করতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাঁশগ্রাম বাজার থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিহতের বাড়ির সামনে সরকেলডাঙ্গা মাদরাসার সন্নিকটে শেষ হয়। মিছিলে শেষে বক্তৃতা করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় নেতারা।

এর আগে ২৪ জুন সকালে আনোয়ার বাড়ি থেকে বের হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজে তার সন্ধান পাননি। ঐদিন রাতে সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ায় আনোয়ারকে চোর সন্দেহে কয়েকজন গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন ও মারধর করে ভোর রাত পর্যন্ত। ২৫ জুলাই সকালে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আনোয়ারকে দেখতে পান।

আনোয়ারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আনোয়ারের ভাই নবীর হোসেন বাদী হয়ে ৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে আকাশকে যশোর জেলার নারকেলবাড়িয়া থেকে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আকাশ পুলিশ দেখে খাটের নিচে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আকাশ প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যামামলায় ৪ নম্বর আসামি। ঘটনার পর থেকে আকাশ পলাতক ছিলেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরানের বিশাল আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরানের বিশাল আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুবার্ষিকীর চার মাস পর তেহরান একটি বিশাল ও নজিরবিহীন শেষযাত্রার আয়োজন করেছে। 

এই স্মরণানুষ্ঠান সপ্তাহব্যাপী চলমান থাকবে এবং দুই দেশের পাঁচটি শহরজুড়ে কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং দীর্ঘ দশকের অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানকে আড়ম্বরপূর্ণ করতে ইরান কোনো কমতি রাখছে না। কাকতালীয়ভাবে মহোৎসবটি আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। 

তেহরান মূলত এই বিশাল আয়োজন ও ধর্মীয় প্রতীকীবাদের মাধ্যমে বিশ্বকে এবং বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এক অভূতপূর্ব ও কঠোর বার্তা দিতে চায় যে, অস্তিত্বসংকটের যুদ্ধ থেকে তারা শুধু টিকে আছে, বরং তাদের নিহত নেতাকে প্রতিরোধের এক অমর প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বৃহত্তম লজিস্টিক বা সাংগঠনিক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সফল করতে এবং ইরান ও ইরাক জুড়ে লাখ লাখ ‘তীর্থযাত্রী’ ও শোকগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারি কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, ফায়ার সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি নিয়োজিত করা হয়েছে। শিয়া প্রধান প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র স্থানগুলোতেও লাখ লাখ মানুষ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় বলেছেন, এই মহাকাব্যিক আয়োজন বিশ্বের কাছে ইরানি জাতির মহান আত্মার পরিচয় তুলে ধরবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি প্রমাণ করবে যে তারা নিপীড়নের মুখে কখনো নীরব থাকবে না। 

এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তেহরান ও অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারি, আড়াই হাজার অ্যাম্বুলেন্স, ২১টি হেলিকপ্টার, ১০০টি ড্রোন এবং হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শোকগ্রস্তদের খাওয়ানোর জন্য প্রায় পাঁচ কোটি রুটি তৈরিরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, এই স্মরণসভার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং নিহত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য জনসমক্ষে উপস্থিতি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যে হামলায় তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা নিহত হন, সেই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা জনসমক্ষে আসেননি এবং তিনি সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন। 

এই জানাজায় তার উপস্থিতি তার নেতৃত্বের বৈধতাকে মজবুত করবে, তবে তার অনুপস্থিতি তার শারীরিক সুস্থতা এবং পর্দার আড়ালে দেশ কে চালাচ্ছে তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সম্প্রতি মোজতবাকে ‘হত্যার তালিকায়’ রাখার হুমকি দিয়েছেন, যার পর ইরানের সামরিক বাহিনীও যেকোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব-নিকাশের’ বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। যদিও সরকার এই আয়োজনকে জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তবে তীব্র যানজট ও জ্বালানিসংকটের কারণে সাধারণ ইরানিদের একটি বড় অংশ এর প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছে এবং ছুটির দিনগুলোতে শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%