০৭:০২ পি.এম
বিশ্বকাপ ফাইনালটি কেবল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের দ্বন্দ্ব বলেই নয়, বরং এটি দুই কোচের জন্যও একটি বিশেষ অধ্যায়ের কাহিনী। স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এক সময় ছিলেন শিক্ষক এবং ছাত্র। এবার বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা দুইজনই দাঁড়িয়ে আছেন একে অপরের বিপরীতে।
রবিবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। মাঠে লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামালদের লড়াইটি যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, ডাগআউটে দে লা ফুয়েন্তে ও স্কালোনির পুনর্মিলনও ততটাই আকর্ষণীয়।
আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে
২০১৭ সালের শেষ দিকে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্কালোনি। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ‘লা রোজাস’ ট্রেনিং সেন্টারে প্রফেশনাল কোচিং লাইসেন্স কোর্সে ভর্তি হন তিনি। সেই কোর্সের অন্যতম প্রশিক্ষক ছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। কোচিংয়ের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচ।
কোর্স শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পান স্কালোনি। পরে তাঁর অধীনে আর্জেন্টিনা জেতে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ।
অন্যদিকে ২০২২ সালের শেষ দিকে স্পেনের দায়িত্ব নিয়ে দে লা ফুয়েন্তেও দলকে নতুন সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর অধীনে ইউরো ২০২৪ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ওঠে স্পেন। এবার দলের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার কৃতিত্বও তাঁর।
ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাবেক শিক্ষক সম্পর্কে আবেগ প্রকাশ করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। কোচিংয়ের অনেক কিছুই তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়ানো সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। তিনি স্পেনের সঙ্গে অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্ত ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে
তবে আবেগের সঙ্গে মাঠে ছাড় দিতে রাজি নন আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, ‘স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। সেখানে আমার পরিবার রয়েছে। কিন্তু আজ আমি দুঃখিত, কারণ মাঠে আমি মিস্টার দে লা ফুয়েন্তেকে হারাতেই চাই।’
শিষ্যের প্রশংসায় উদার ছিলেন দে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলেন, ‘স্কালোনি ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র। লিওনেলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। শিক্ষক হিসেবে সে ছিল আদর্শ ছাত্র। ক্লাসে ওর শেখার আগ্রহ দেখেই বুঝেছিলাম, সে অনেক দূর যাবে। আজ সে আর্জেন্টিনার হয়ে সবকিছু জিতেছে। ওর শিক্ষক হতে পেরে আমি গর্বিত।’
শুধু পেশাগত সম্পর্ক নয়, ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথাও তুলে ধরেন স্পেনের কোচ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের। বিশ্বকাপ ফাইনালে আমরা প্রতিপক্ষ হলেও সেই সম্মান অটুট থাকবে।’
আরও পড়ুন: বেনিনের অনূর্ধ্ব-১৮ দল ভারতের বিরুদ্ধে ২৭-০ গোলের বিশাল জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন