ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ঘিরে তোপের মুখে আ.লীগপন্থি আইনজীবীরা


‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ঘিরে তোপের মুখে আ.লীগপন্থি আইনজীবীরা

> আইন-আদালত

জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা তোপের মুখে পড়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি শেষে এই ঘটনা ঘটে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু

এ সময় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবীর ওপর চড়াও হন। পরে ধাক্কাতে ধাক্কাতে তাদের ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ে অংশ নেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী। তারা মামলা বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনায় এই মামলায় নেই। তাদের দাবি, মিথ্যা মামলায় তাদের আটক রাখা হয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রবিরোধীর কোনো উপদান নেই। শুধু হয়রানি করার জন্য তাদের আটক রাখা হয়েছে। আসামিরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।

তাদের বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী তাদের সামনে এসে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পরে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিএনপি পন্থি আইনজীবীরা তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দিতে দিতে আদালত চত্বর থেকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির দিকে নিয়ে যান। তবে ঘটনার ছবি নিতে গেলে আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক সাংবাদিকদেরকে নিষেধ করেন।

আরও পড়ুন: দুর্নীতি দমন কমিশনের বিরুদ্ধে সাবেক এমপি কামারুল আরেফিনের মামলা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক বলেন, “এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। ব্যক্তিগত টাকা পয়সার লেনদেনের বিষয় ছিল। তাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”

তবে এই ব্যাপারে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী গোলাম রাব্বানী দাবি করেন, জয় বাংলা স্লোগানকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়। পরে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আমাদের আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে গিয়ে জানান, তাদের ওপর চাপ থাকে এজন্য যেন এমন স্লোগান এবং বিশৃঙ্খলা না করি। পরে আমাদেরকে ছেড়ে দেয়। তিনি জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে বলেন, “আজকে কিছু আসামিদের দেখতে আসা লোকজন আদালতে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করে, এ নিয়ে মূলত ঝামেলাটা সৃষ্টি হয়।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লি থেকে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৮ এম


দিল্লি থেকে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেপ্তার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে যারা আত্মসমর্পণের হুঙ্কার দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্টতই জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। আসামিরা দণ্ডপ্রাপ্ত, এজন্য সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। আইনমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এ দেশে আর কখনই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এছাড়াও, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে হুঙ্কার ছাড়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, আমি স্পিকার মাধ্যমে গোটা জাতিকে জানাতে চাই, যারা হুঙ্কার দিচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ থাকবে না। কারণ, আইনের কাছে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, এবং বাংলাদেশের সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তারা গ্রেপ্তার হবেন। প্রতিটি হুঙ্কারে আমরা সংঘবদ্ধ হবো, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াবো।

মন্ত্রী জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির রিপোর্ট জমা হয়েছে এবং চারটির চার্জ গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ তিনটি মামলার রায় হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


প্রথমবারের মতো মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান

> ফিচার

> তথ্য-প্রযুক্তি

মহাকাশে প্রথমবারের মতো একটি প্রকৃত চিনির অণুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারটি পৃথিবীতে চিনির উৎস এবং প্রাণের উৎপত্তির রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ড. ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম যেখানে নক্ষত্রগুলোর মাঝখানে ধুলিকণা ও গ্যাস ছড়িয়ে রয়েছে, সেখানে এই চিনির অণু শনাক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করছিলেন যে, এই অঞ্চলে জটিল জৈব অণু তৈরির জন্য প্রাকৃতিক রাসায়নিক কারখানা হিসেবে কাজ করছে।

গবেষণার প্রধান, ড. জিমেনেজ-সেরা বলেন, চিনির অণুর উপস্থিতির প্রমাণ হাতে পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষক দলটি বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়, যাতে বিশ্লেষণের ফলাফল অন্য কোনো অণু বা পর্যবেক্ষণগত ভুল না হয়। শেষ পর্যন্ত সব বিশ্লেষণে একই ফলাফল পাওয়া যায়।

গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট ব্রেট ম্যাকগুয়ার এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গবেষকদের তথ্য ও বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে সত্যিই চিনির অণুটি রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে জানতেন যে, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের জন্য চিনি অপরিহার্য। কারণ আরএনএ ও ডিএনএ গঠনের জন্য বিভিন্ন ধরনের চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে পরীক্ষাগারে পৃথিবীর প্রাথমিক পরিবেশ অনুকরণ করে এসব চিনির অণু তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গ্রহাণু ও উল্কাপিণ্ডে গ্লুকোজ ও রাইবোজসহ বিভিন্ন ধরনের চিনির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও, সেগুলোর মূল উৎস কোথায় তা অজানাই ছিল। সর্বশেষ এই নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নক্ষত্র ও গ্রহ গঠনেরও আগে আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশেই এসব চিনির অণু তৈরি হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, পরবর্তীতে গ্রহাণু ও ধূমকেতুর মাধ্যমে কোটি কোটি টন চিনি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।

গবেষণার ফলাফলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পৃথিবীর প্রাথমিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় ৫ লাখ টন থেকে ৫ কোটি টন পর্যন্ত এই ধরনের চিনি মহাজাগতিক বস্তুগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।

গবেষকদের মত, এই আবিষ্কার শুধু পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির ব্যাখ্যা করেই থেমে থাকছে না, বরং মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করেছে। যদি আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম স্বাভাবিকভাবে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করে, তাহলে গ্যালাক্সির অন্যান্য অঞ্চলেও এই ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণের বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এখন গবেষকদের লক্ষ্য আরএনএ ও ডিএনএ তৈরিতে ব্যবহৃত আরও জটিল চিনি যেমন রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজ অনুসন্ধান করা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতের গবেষণা মহাবিশ্বে প্রাণের উৎপত্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করবে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সের দুর্ভাগ্য: অনিচ্ছাকৃত ফাউল, পেনাল্টির গোলে এগিয়ে স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ এম


ফ্রান্সের দুর্ভাগ্য: অনিচ্ছাকৃত ফাউল, পেনাল্টির গোলে এগিয়ে স্পেন

ফুটবল বিশ্ব এখন ডালাসের সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছে। যেখানে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। ম্যাচের প্রথমার্ধের মধ্য দিয়ে চরম নাটকীয়তার সাক্ষী রয়েছে দর্শকরা এবং লা রোহারা ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়েছে। ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল নিখুঁত ফিনিশিং করে দলের জন্য গোল করেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তির মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে ডালাস স্টেডিয়ামে। তবে প্রথমার্ধের ২০তম মিনিটে ঘটে গেল ম্যাচটির টার্নিং পয়েন্ট। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে, নিজের ডি-বক্সের ভেতরে স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের মুভমেন্ট সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। ইয়ামাল আচমকা গতি বাড়িয়ে ভেতরে ঢুকলে, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দিনিয়ের পা স্প্যানিশ তারকার পায়ে সরাসরি আঘাত করে। রেফারি সঙ্গেসঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

রিপ্লেতে দেখা যায়, ফরাসি ডিফেন্ডার দিনিয়ের এই ফাউলটি বরং ইচ্ছাকৃত নয়; মূলত বলের দখল নিতে গিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত এই সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। কিন্তু ফুটবলের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী, ফাউলটি যদিও অনিচ্ছাকৃত, তবুও ফরাসিদের খেসারত দিতে হয়েছে। বলা যায়, ম্যাচের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফ্রান্সের কপাল খুব খারাপ। এই পেনাল্টির ফলে গোল হজম করার পর, ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে খেলছে কিলিয়ান এমবাপ্পের দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এজন্য তারা আগামী কয়েক দশকে বিপুল অংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন ভাবছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যকে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে এই লক্ষ্য পূরণে। এই তথ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা, সফটওয়্যার অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকল্প সৃষ্টি করতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ইউরোজোনের জন্য প্রয়োজন ৯.১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

ইওয়াই-পার্থেননের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আগামী ২৫ বছরে তিন অঞ্চলের গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯৪০ বিলিয়ন ডলার বা ৯৪ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এটি জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে চলমান বিনিয়োগের উপরে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনা হিসেবে বলা হয়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল। এইদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজনীয়তার পরিমাণ বর্তমানে চলমান বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণের সমান।

ইওয়াই-পার্থেননের কর্মকর্তা ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ম্যাটস পারসনের ভাষ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানীয়করণ করা সহজ হবে না। কারণ এতে করদাতা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপশি আংশিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোই একটি বাস্তবসম্মত পথ হবে। প্রথমে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকবে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উন্নত উৎপাদন, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহে এখনও চীনের আধিপত্য রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের পরিশোধিত লিথিয়াম ও কোবাল্টের ৬০ শতাংশের বেশি এবং ব্যাটারি-গ্রেড গ্রাফাইট ও বিরল খনিজের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করবে চীন। ফলে এসব কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য জটিল হয়ে দাঁড়াবে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির ফলে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গাড়ি শিল্পে উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যদিও পরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, তবুও বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিরল খনিজ মজুদ নিয়ে পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, ‘বড় অংকের বিনিয়োগ করলেও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে দ্রুত চীন থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। কারণ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানের নিয়ন্ত্রণ এখনও চীনের হাতে রয়েছেন।’

ইওয়াই-পার্থেননের হিসাব অনুযায়ী, চীনে উৎপাদিত অনেক পণ্যের কারখানা পর্যায়ের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় ২০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত কম। সুতরাং, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে। এর ফলে ভোক্তা মূল্যেও প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে পণ্যের দাম ১ থেকে ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এতে মূল্যস্ফীতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন শিল্পনীতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। তবে চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে সময়, বিপুল অর্থ, এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%